শুক্রবার বিকেলে কেশবপুর প্রেসক্লাবে জবরদখল কারীর হাত থেকে জমি দখলমুক্ত করার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন কেশবপুর পৌরসভার ভোগতি নরেন্দ্র পুর এলাকার মৃত নেপাল গাজীর ছেলে নূর ইসলাম গাজী। লিখিত বক্তব্য পাঠকালে তিনি জানান, তিনি একজন কৃষক এবং বাজারে সাইকেলে করে কটকটি বিক্রি করে পরিবারের ৭ সদস্যের জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। ২০০৬ সালের ভোগতী নরেন্দ্রপুর মৌজায় কালাবাসা নামক স্থানে একই গ্রামের মো. সামাদের নিকট থেকে ১.৫ শতক জমি নিজ নামে ক্রয় এবং পরবর্তীতে নামপত্তন করেন। যার খতিয়ান নং: ১৪৮৭, দাগ নং: ২৮৩৯। ওই জমির কিছু অংশে একটি চা-এর দোকান নির্মাণ করে ভাড়া দেই। এরপর ২০১২ সালে ভোগতী নরেন্দ্রপুর গ্রামের মোকাম গাজী ওই মালিকের একই দাগ হতে প্রথমে ২ শতক পরবর্তীতে আরও ৪ শতক সর্বমোট ৬ শতক জমি ক্রয় করে। এরপর থেকেই সে শুরু করে আমার জমির ভেতর দিয়ে পাকা নির্মাণ কাজ করার। বিগত ২০২৫ সালের প্রথম দিকে জোর পূর্বক আমার জমিতে ঘর নির্মাণ করার চেষ্টা চালায়। আমি প্রতিবাদ করতে গেলে মোকাম গাজীর হুমকীতে প্রাণ ভয়ে পালিয়ে আসি। মোকাম গাজী তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকারের ক্ষমতা ও অবৈধ টাকার জোরে আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী প্রদর্শন করে আমার জমির কিছু অংশ জবর দখলে নিয়ে পাকা প্রাচীর নির্মাণ করে ভোগ দখল করছে। উপায়ন্ত না পেয়ে ওই সময় ১৪৪ ধারা করি। বিষয়টি সামাজিক ভাবে মিমাংসার জন্য বহুবার ১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মশিয়ার রহমানের নিকট গেছি। কিন্তু তিনি বিষয়টি মিমাংসা করতে পারেন নি। নিরূপায় হয়ে কেশবপুর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শেখ শহীদুল ইসলাম শহীদের নিকট মিমাংসা করে দেওয়ার জন্য বলি। তিনি আমাকে আইনের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেন। তিনি কখনও আমাদের জমি সংক্রান্ত কোন সালিশ বা ওই জমি যখন মোকাম গাজী জবর দখল করছিলো তখনও তাকে ফোন করে আসতে বললে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেয় তোমরা আইনের আশ্রয় নেও, আমি যাব না। এরপর আমি আবারও আদালতের স্মরণাপন্ন হয়ে আদালতে ১৪৪ ধারা করি। কিন্তু অতিবঃদুখের বিষয় মোকাম গাজী ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে পাকা নির্মাণ কাজ শেষ করে। উপায়ান্ত না পেয়ে পৌর প্রশাসকের নিকট জমির প্রকৃত মাপ ও বিবাদ নিরসন কল্পে আবেদন করি। যা গত ০১.০৩.২০২৬ তারিখে পৌরসভার সার্ভেয়ার দ্বারা মাপ হয় এবং দেখা যায় মোকাম গাজী আমাদের জমির ৩ ফুট ৩ ইঞ্চি জবর দখল করে নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করেছে। এরপরও গত ০৫.০৩.২০২৬ খ্রি. তারিখ মোকাম গাজী বিগত ২৫ সালেও পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শেখ শহীদুল ইসলাম শহীদ ও সাংগঠনিক সম্পাদক নূরুজ্জামান চৌধুরীকে জড়িয়ে মিথ্যা, ভিত্তিহীন, বানোয়াট অসত্য তথ্য দিয়ে গোপনে একটি সংবাদ সম্মেলন করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে সম্মানহানী করে চলেছে। আমি উক্ত সংবাদ সম্মেলনের এবং মোকাম গাজীর ভিডিও চিত্রে আপত্তিকর অংশের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। বিষয়টি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণসহ তদন্ত পূর্বক অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি। মোকাম গাজীর এহেন কর্মকান্ড থেমে থাকেনি। দখলের প্রতিবাদ করায় হুমকী অব্যাহত রেখেছে এবং সে আমাদেরসহ পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রাণী ও বড় ধরণের ক্ষতি সাধন এবং প্রাণ নাশের হুমকি প্রদান অব্যাহত রেখেছে। সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ইসলাম গাজী প্রশাসনের সহৃয় হস্তক্ষেপের দাবি জানান।