৩ সপ্তাহ পর মুক্তিপণ দিয়ে ফিরেছেন ১৪ জেলে

সুন্দরবনে বনদস্যুদের হাতে আরো তিন জেলে অপহৃত

এফএনএস (সাবেরা ঝর্ণা; শরণখোলা, বাগেরহাট) : | প্রকাশ: ৬ মার্চ, ২০২৬, ০৭:৩২ পিএম
সুন্দরবনে বনদস্যুদের হাতে আরো তিন জেলে অপহৃত

সুন্দরবনে যৌথবাহীনির অভিযানের মাঝেও বনদস্যুদের অপহরণ থেমে নেই। বুধবার রাতে আরো ৩ জেলেকে অপহরণ করেছে করিমশরীফ বাহিনী। অপরদিকে, অপহরণের প্রায় তিন সপ্তাহ পর মুক্তিপণ দিয়ে বনদস্যুদের কবল থেকে ছাড়া পেয়েছেন ১৪ জেলে। সুন্দরবনে একাধিক দস্যুতার ঘটনায় এ পর্যন্ত শরণখোলা থানায় একটি ডাকাতি মামলা হয়েছে। নিরাপত্তার অভাবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শরণখোলা বাজারের একজন মৎস্য ব্যবসায়ী জানান, বুধবার (৪ মার্চ) রাতে সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের শৌলা ও আড়-য়াগাং এলাকায় বনদস্যুরা ৩ জেলেকে অপহরণ করেছে। অপহৃত জেলেদের মধ্যে দুই জনের নাম জানা গেছে। এরা হচ্ছে, সুমন (২৪) ও রায়হান (২২)। এদের বাড়ী সুন্দরবন সংলগ্ন শরণখোলা উপজেলার শরণখোলা গ্রামে। এ ঘটনায় নতুন করে জেলেদের মাঝে আরো আত্কং ছড়িয়ে পড়েছে। পূর্ব সুন্দরবনের জেলেপল্লী শেলারচরের মৎস্য ব্যবসায়ী আরিফ হোসেন মিঠু মোবাইল ফোনে বলেন,দস্যুরা চার মহাজনের ১৪ জেলেকে ছেড়ে দিয়েছে। এখনো দুই মহাজনের ১২ জেলে জিম্মি রয়েছেন। প্রত্যেক জেলের জন্য ৭০-৮০ হাজার টাকা দস্যুদের মুক্তিপণ দিতে হয়েছে বলে তিনি জানান। অপরদিকে,গত ৩/৪ মাসে সুন্দরবন ও সাগরে বেশ কিছু ডাকাতি ও অপহরণের ঘঁনা ঘটলেও এ পর্যন্ত শরণখোলা থানায় একটি ডাকাতি মামলা রেকর্ড হয়েছে। শরণখোলা উপজেলার সোনাতলা গ্রামের মৎস্য ব্যবসায়ী ফিরোজ হাওলাদার বাদী হয়ে বনদস্যু জাহাঙ্গীর বাহিনী প্রধান জাহাঙ্গীরকে প্রধান আসামী করে গত ২৩ ফেব্রুয়ারী শরণখোলা থানায় একটি ডাকাতি মামলা দায়েরে করেছেন। ঐ ডাকাতি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ধানসাগর নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক মোঃ জয়নাল আবেদীন বলেন, জাহাঙ্গীর ডাকাতের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলছে। এই মামলায় অপহৃত জেলেদের জাহাঙ্গীর বাহিনী ইতিমধ্যে ছেড়ে দিয়েছে। দস্যুদের বিরুদ্ধে শীঘ্রই সুন্দরবনে অভিযান চালানো হবে বলে তিনি জানান। গত ১২ ফেব্রুয়ারি রাতে দুর্ধর্ষ বনদস্যু করিম শরীফ বাহিন পূর্ব সুন্দরবনের শেলার চর শুঁটকি পল্লীতে হানা দিয়ে একটি ট্রলারসহ ৬ জেলেকে এবং ১৬ ফেব্রুয়ারি রাতে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার সময় ২০টি ট্রলার থেকে ২০ জেলেকে অপহরণ করেছিল বনদস্যু জাহাঙ্গীর ও সুমন বাহিনী। শুঁটকি উৎপাদন কেন্দ্র দুবলার চরের বিশেষ টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ফরেস্ট রেঞ্জার) মিল্টন রায় অপহৃত জেলেদের মহাজনদের বরাত দিয়ে বলেন, চাহিদা অনুযায়ী চাঁদা না পাওয়ায় সংঘবদ্ধ দস্যুরা যে কোনো সময় শুঁটকি পল্লীতে হানা দিয়ে ব্যাপক সংখ্যক জেলে অপহরণের হুমকি দিয়েছে। এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর শুঁটকি উৎপাদনকারী চরগুলোতে আতঙ্ক বিরাজ করছে। সুন্দরবনে দস্যু নির্মূলে কোস্টগার্ডে নেতৃত্বে যৌথ বাহিনী অভিযান শুরু হলেও পূর্ব বনবিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ এলাকায় এর কোনো প্রভাব পড়েনি। যে কারণে শরণখোলা রেঞ্জের বনাঞ্চল এখন দস্যুদের অভযারণ্যে পরিণত হয়েছে। তারা জেলে অপহরণসহ মহাজনদের নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে। তাই দ্রুত শরণখোলা রেঞ্জে অভিযান পরিচালনার দাবি জানান এই বন কর্মকর্তা।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে