সড়ক দূর্ঘটনায় আহতদের দেখতে গিয়ে নিজেই সড়ক দূর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ব্যবসায়ী সুমন বেপারী (৩৫)। তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় পল্লী চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হলে ব্যাথার ইঞ্জেকশন পুশ করেন পল্লী চিকিৎসক। ইঞ্জেকশন পুশ করার পর আরো অসুস্থ হয়ে পরলে প্রথমে উপজেলা হাসপাতালে এবং পরবর্তীতে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান সুমন। মৃত সুমন গৌরনদী উপজেলার ধানডোবা গ্রামের শাহ আলম বেপারীর ছেলে। সে (সুমন) এবং তার বাবা শাহ আলম বেপারী টরকী বন্দরে দীর্ঘবছর যাবত যৌথভাবে লাইব্রেরীর ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। শুক্রবার (৬ মার্চ) দিবাগত রাতে মৃত সুমনের মরদেহ তার নিজ বাড়িতে নিয়ে আসার পর শোকের ছায়া নেমে আসে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও মৃত সুমনের বাবা জানিয়েছেন, শুক্রবার সকালে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের কসবা এলাকায় একটি সড়ক দূর্ঘটনায় দুইজন নিহত এবং আরো কয়েকজন আহত হয়। ওই দূর্ঘটনাস্থলে গিয়ে ফেরার পথে নছিমনের ধাক্কায় আহত হয় সুমন। তাকে উদ্ধার করে টরকী বন্দরের পল্লী চিকিৎসক সুজন সরকারের কাছে নেওয়া হলে ব্যাথা কমানোর ইঞ্জেকশন পুশ করে পল্লী চিকিৎসক সুজন। এসময় সুমন আরো অসুস্থ হয়ে পরলে তাকে উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে সুমন মৃত্যুবরণ করে। পল্লী চিকিৎসক সুজন সরকার বলেন, দূর্ঘটনায় আহত হওয়ার পর আমার কাছে নিয়ে আসলে সুমনকে একটি টোরাক্স (ব্যাথানাশক) ইঞ্জেকশন পুশ করার পর উপজেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়। ব্যাথানাশক ইঞ্জেকশন পুশ করার বৈধতা আছে কিনা জানতে চাইলে পল্লী চিকিৎসক সুজন সরকার বলেন, প্রাথমিকভাবে আমরা এভাবেই চিকিৎসা দিয়ে আসছি। এবিষয়ে গৌরনদী উপজেলা হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. তৌকির আহমেদ বলেন, পল্লী চিকিৎসকের এভাবে ইঞ্জেকশন পুশ করার কোন বৈধতা নেই। এবিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবার উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।