নওগাঁর পোরশায় বিভিন্ন আমবাগানের আমগাছ গুলিতে ব্যাপকহারে মুকুল ফুটেছে। মুকুলে-মুকুলে ভরেগেছে আমগাছ। মুকুলের ভারে আমগাছ গুলির মাথা ডাল যেন মাটিতে ঘেষে পড়েছে। আমগাছ গুলিতে ফোটা মুকুল দেখে বাগান মালিকগণ যেমন খুশি তেমনি আম চাষীরাও ফুরফুরে মেজাজে রয়েছেন। ভাল ফলনের আশায় বরেন্দ্র অঞ্চল খ্যাত এ উপজেলার আমচাষী সহ বাগান মালিকরা। আবহাওয়া অনূকুলে থাকলে এ মৌসুমে গত বছরের তুলনায় আমের উৎপাদন বেড়ে যাবে বলে মনে করছেন তারা। পোরশা ইসলামপুর গ্রামের আম চাষি মিছবাহ উল হক মাস্টার, কাতিপুর গ্রামের আমচাষী আসাদুর রহমান জানান, তারা দির্ঘ্যদিন আমচাষ করছেন। এবারে আমচাষে কীটনাশক সহ বিভিন্ন পর্যায়ে খরচ বেশী হয়েছে। যদি আবহাওয়া ভাল থাকে এবং আমের দাম ঠিক পাওয়া যায় তাহলে কিছুটা লাভ হবে বলে তারা জানান। তবে আবহাওয়ার কোন বিপর্যয় না হয় তাহলে প্রচুর আম উৎপাদন হবে বলে তারা আশা করছেন। আর সব ঠিক থাকলে অন্যরা উৎসাহীত হবে এবং এ উপজেলায় আরো আম চাষ হবে বলে আমচাষীরা জানান। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মামুনুর রশিদ জানান, এ উপজেলায় প্রতি বছর নতুন আম বাগান হচ্ছে। নওগাঁ জেলার মধ্যে এ উপজেলায় সবচেয়ে বেশি আমচাষ হচ্ছে। এবারে তাদের টার্গেট ছিল ১০ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে আমচাষ। কিন্তু এখানে আম বাগান রয়েছে ১০ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমিতে। তিনি জানান, সাধারনত ডিসেম্বর মাসে আমগাছ গুলিতে মুকুল আসে এবারে ফেব্রুয়ারীতে মুকুল এসেছে। তারপরেও ব্যাপকহারে মুকুল আসায় এর পরিমান ধরা হয়েছে ৮০-৮৫%। তারপরেও লক্ষমাত্রা ছড়িয়ে যাবে বলে তিনি আশা করছেন। এখানে উৎপাদিত আমের চাহিদা দেশে এবং দেশের বাইরে বেশ ভাল। এ উপজেলার আম চাষিরা সবাই বানিজ্যিক ভিত্তিতে আমচাষ করছেন। ফলে তারা আম চাষে দক্ষ হওয়ায় আমের প্রতিবছর উৎপাদন ভাল হয়। ইতোমধ্যে তারা বিভিন্ন আমচাষীদের দিয়ে রফতানিযোগ্য আমচাষ করার জন্য প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করেছেন। সে লক্ষে চাষিদের উৎসাহ দিচ্ছেন তারা বলে জানান তিনি। তিনি আরো জানান, সেচ এবং কিটনাশক প্রয়োগ সম্পর্কে তারা আম বাগান মালিক ও চাষীদের নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছেন। আবহাওয়া এখন পর্যন্ত ভাল রয়েছে। শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া ভাল থাকলে এবছর পোরশায় আম উৎপাদন লক্ষ্য মাত্রা ছাড়িয়ে যাবে এবং চাষিরা আমের ভাল দাম পাবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করছেন।