কৃষিকাজে নারীর অংশগ্রহণ বাড়লেও মজুরি বাড়েনি

এফএনএস (মোঃ মুজিবুর রহমান; পাটকেলঘাটা, সাতক্ষীরা) : | প্রকাশ: ৭ মার্চ, ২০২৬, ০২:৪৭ পিএম
কৃষিকাজে নারীর অংশগ্রহণ বাড়লেও মজুরি বাড়েনি

সাতক্ষীরা জেলার  তালা উপজেলার পাটকেলঘাটা এলাকায়  কৃষিকাজে নারীর অংশগ্রহণ বেড়েই চলেছে। পুরুষের সঙ্গে সমানতালে কৃষি কাজে  শ্রম দিচ্ছেন নারীরা। তবে এখনও মজুরি বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন তারা।  খোঁজ নিয়ে জানা যায়,পাটকেলঘাটায়  কৃষিজমিতে আগের তুলনায় নারী শ্রমিকের সংখ্যা বেড়েছে। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কৃষি উৎপাদনে জমিতে ধানের চারা রোপণ থেকে শুরু করে আগাছা বাছাই, সার দেওয়া, ধান কাটা ও মাড়াইসহ নানা কাজে নারীরা পুরুষের পাশাপাশি সমান অবদান রাখছেন। তবে নারী শ্রমিকদের দাবি, এখনও তারা পারিশ্রমিক নির্ধারণে বৈষ্যমের শিকার হচ্ছেন।  সম্প্রতি উপজেলার সরুলিয়া   ইউনিয়নের রাজেন্দ্র পুর  এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ৫-৬ জন নারীকে সঙ্গে নিয়ে ক্ষেতের আগাছা তুলছেন মনজিলা বেগম । আলাপকালে তিনি জানান, তার স্বামী কর্মক্ষম, যে কারনে তাকে মাঠে কাজ করে সংসার চালাতে হচ্ছে। তাদের সংসারে চরম অভাব-অনটন। এদিকে তৈলকুপির মাঠে কাজ করতে গিয়ে কথা হয় শিল্পি বেগমের সাথে তিনি   স্বামীর সঙ্গে মাঠে কাজ করতে নেমে পড়েন। প্রথমদিকে একটু লজ্জা-দ্বিধায় থাকতেন। দু’জন মিলে আয় রোজগার করে এখন তারা ভালোই আছেন। তবে পুরুষের তুলনায় তাদের বেতন অনেক কম। পুরুষরা যতক্ষণ কাজ করেন, তারাও একই সময় কাজ করে অনেক কম বেতন পান বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। অপর নারী শ্রমিক সুফিয়া বেগম জানান, তারা ভোর বেলায় ঘুম থেকে উঠে নিজেদের সংসারের রান্নাসহ অন্যান্য কাজ করে পুরুষদের সঙ্গেই কাজে চলে আসেন। ক্ষেতের কাজও সমানতালে পুরুষের সঙ্গে করে থাকেন। কিন্তু তারা ২০০ থেকে ২৫০ টাকা হাজিরা পান। অথচ পুরুষরা সাড়ে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা পেয়ে থাকেন। তিনি বলেন, ‘স্বীকার করছি যে, পুরুষদের মতো সব কাজই আমরা করতে পারি না। যেমন- জমিতে কীটনাশন ছিটানো, মাথায় করে বোঝা বহন ইত্যাদি। কিন্তু তাই বলে এত বৈষম্য! পুরুষ শ্রমিক ৫০০ টাকা পেলে আমাদের ৪০০ টাকা দিক, তাই বলে ২৫০-সাড়ে ৩০০।’ এই বৈষম্য দূর করার দাবি জানান তিনি। একই এলাকার কৃষক আসাদুল ইসলাম  জানান, নারীরা কৃষিক্ষেতের নানান কাজে সম্পৃক্ত হয়েছেন বলেই এখনও কৃষিকাজ সম্পন্ন করা যাচ্ছে। তা না হলে কৃষিক্ষেতে শ্রমিক পাওয়াই কঠিন হয়ে পড়ত। শ্রমিক সংকটে বাধ্য হয়ে অনেককেই কৃষিকাজ বাদ দিতে হতো। তবে নারীরা তো শারীরিকভাবে কিছুটা দুর্বল হয়ে থাকেন। কাজও পুরুষের তুলনায় কিছুটা কমই করতে পারেন। তাই  মুজরি  কম পান। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাজিরা খাতুন  জানান, আদিকাল থেকেই কৃষিতে নারীর অবদান অনস্বীকার্য। অতীতে নারীরা সরাসরি কৃষি কাজ না করলেও ফসল কেটে বাড়ি আনার পর প্রায় পুরো কাজ নারীরাই শেষ করতেন। তবে এখন পুরুষের সঙ্গে সমানতালে নারীরা কৃষি কাজ  করে যাচ্ছেন- এটি সুখবর। বর্তমানে কৃষিতে নারীর অংশগ্রহণ ১৫ থেকে ২০ শতাংশ। এটিকে আরও বাড়িয়ে নিতে তারা কাজ করে যাচ্ছেন। এ লক্ষ্যে কৃষি বিভাগের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও প্রণোদনার ক্ষেত্রে  নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয় বলে তিনি জানান।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে