মান্দায়

মাদ্রাসার ভেতরে চোর সন্দেহে যুবককে পিটিয়ে হত্যা,মামলা দায়ের

এফএনএস (নজরুল ইসলাম; মান্দা, নওগাঁ) : | প্রকাশ: ৭ মার্চ, ২০২৬, ০৪:৪৮ পিএম
মাদ্রাসার ভেতরে চোর সন্দেহে যুবককে পিটিয়ে হত্যা,মামলা দায়ের

নওগাঁর মান্দা উপজেলার প্রসাদপুর দারুল উলুম ইসলামিয়া ক্বওমী মাদ্রাসা চত্বরে গভীর রাতে চোর সন্দেহে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। নিহতের ছেলে সাকিব হোসেন বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার রাতে মান্দা থানায় মামলাটি দায়ের করেন। এদিকে মাদ্রাসার ভেতরে হত্যাকাণ্ডের পর গত বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বিকেলে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের ছুটি দেওয়া হয়েছে। এরপর সন্ধ্যার দিকে মাদ্রাসার প্রধান ফটকে তালা দিয়ে সটকে পড়েন শিক্ষকেরা। স্থানীয় মুসল্লিদের অভিযোগ, ফটক তালাবদ্ধ থাকায় মাদ্রাসার ভেতরে অবস্থিত জামে মসজিদে তারা নামাজ পড়তে পারছেন না।

গত বুধবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে উপজেলার প্রসাদপুর দারুল উলুম ইসলামিয়া ক্বওমী মাদ্রাসার ভেতরে চোর সন্দেহে রফিকুল ইসলাম (৪৫) নামের এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠে কয়েক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। নিহত রফিকুল মান্দা সদর ইউনিয়নের জিনারপুর গ্রামের মৃত জেহের আলীর ছেলে। বৃহস্পতিবার নওগাঁ সদর হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে তার মরদেহ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, মাদ্রাসার ক্বারী শিক্ষক সাব্বির হোসেন গাছের ডাল দিয়ে নিহত রফিকুল ইসলামকে মারধরের কথা অকপটে স্বীকার করেন। এ সময় হইচই শুনে শিক্ষক আরিফুল ইসলাম, তুহিন আলী, ওমর ফারুক ও মোর্শেদ আলম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পরে আম গাছের সঙ্গে তাকে বেঁধে মারধর করেন শিক্ষকেরা। এক পর্যায়ে রফিকুল ইসলাম অচেতন হয়ে পড়েন। তাকে হাসপাতালে না নিয়ে সেখানেই ফেলে রাখা হয়। পরে সেখানেই মারা যান তিনি। স্থানীয় বাসিন্দা আসলাম হোসেন বলেন, আমি বৃহস্পতিবার ভোরে মাদ্রাসার ভেতরের মসজিদে ফজরের নামাজ আদায় করেছি। অথচ ভেতরে একজনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে এ বিষয়ে কিছুই জানতে পারিনি।’ তিনি আরও বলেন, ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত ছিলেন মাদ্রাসার শিক্ষক সাব্বির হোসেন তা অকপটে স্বীকার করে বয়ান দিয়েছেন। অথচ এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত কারও নাম মামলার এজাহারে উল্লেখ নেই। পুলিশ কোন স্বার্থে জড়িতদের আড়াল করার চেষ্টা করছে। জিনারপুর গ্রামের বাসিন্দা আবুল কালাম আজাদ বলেন, কেউ চুরি করলে দেশের প্রচলিত আইনে তার বিচার হবে। কিন্তু তাকে পিটিয়ে হত্যা করতে হবে এমন বিধান ইসলাম ধর্মেও নেই।    মামলার বাদী নিহতের ছেলে সাকিব হোসেন বলেন, ‘স্ত্রীর করা মামলায় আমি নওগাঁ কারাগারে ছিলাম। বাবা মারা যাওয়ার দিন আদালত থেকে আমি জামিন পাই। রাতে আমাকে থানায় নিয়ে এজাহারে স্বাক্ষর করে নেওয়া হয়েছে। এজাহারে কী লেখা ছিল সেটাও আমাকে পড়ে শোননো হয়নি।’  এ প্রসঙ্গে মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কেএম মাসুদ রানা বলেন, বাদীর দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে মামলাটি রেকর্ডভূক্ত করা হয়েছে। মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তের ওপর ভিত্তি করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে