“শিক্ষিত করি, উন্নত করি ও ক্ষমতায়ন করি”- এই মূলনীতিকে সামনে রেখে এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিক সমাজ গঠনের প্রত্যয়ে খাগড়াছড়িতে আত্মপ্রকাশ করেছে নতুন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন থ্রিএইচপি। সংগঠনটির মানবিক স্লোগান- “হৃদয়কে যুক্ত করি, জীবন বদলে দিই।” শনিবার খাগড়াছড়ি জেলা সদরের জিরোমাইল এলাকার হিল ফ্লেভারস রেস্টুরেন্টে এক আনুষ্ঠানিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে সংগঠনটির আত্মপ্রকাশ ঘোষণা করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সমাজসেবী, শিক্ষাবিদ, তরুণ সংগঠক ও বিভিন্ন পেশাজীবী ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বর্তমান সমাজে শিক্ষা, মানবিক সহায়তা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার চর্চা অত্যন্ত প্রয়োজন। এ ধরনের উদ্যোগ তরুণ সমাজকে মানবিক কাজে উদ্বুদ্ধ করবে এবং পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়ানোর নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। এ সময় আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সুধীন কুমার চাকমা, আলো’র নির্বাহী পরিচালক অরুন কান্তি চাকমা, খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের প্রাক্তন প্রশাসনিক কর্মকর্তা প্রিয় কুমার চাকমাসহ সমাজের বিভিন্ন স্তরের বিশিষ্টজনেরা। সংগঠনটির আত্মপ্রকাশ উপলক্ষে মানবিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে মেডিকেল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ৬ জন মেধাবী শিক্ষার্থীর মাঝে শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়, যা উপস্থিত সবার মধ্যে প্রশংসা কুড়ায়। অনুষ্ঠানে ১৭ সদস্যবিশিষ্ট কার্যনির্বাহী কমিটিও ঘোষণা করা হয়। এতে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন ভদন্ত শ্রীমৎ শীলরক্ষিত ভিক্ষু। সহ-সভাপতি হিসেবে রয়েছেন ধীমান খীসা, ত্রিনা চাকমা, তাতু মনি চাকমা ও শক্তিনন্দ চাকমা। সাধারণ সম্পাদক সুজন চাকমা এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক প্রিয় কান্তি চাকমা। কোষাধ্যক্ষ অনিমেষ চাকমা ও সহ-কোষাধ্যক্ষ দারুন বিকাশ ত্রিপুরা। এছাড়া তথ্য ও প্রচার সম্পাদক তরুন বিকাশ চাকমা এবং সহ-তথ্য ও প্রচার সম্পাদক তরুণ ত্রিপুরা। নির্বাহী সদস্য হিসেবে রয়েছেন ভদন্ত শ্রীমৎ সংযহিত ভিক্ষু, সুমিত্র চাকমা, ডা. মঞ্জু ময় চাকমা, চম্পানন চাকমা ও ইখিন চৌধুরী। সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জানান, থ্রিএইচপি ভবিষ্যতে শিক্ষা সহায়তা, দরিদ্র শিক্ষার্থীদের বৃত্তি, মানবিক সহায়তা, সমাজসেবা, স্বাস্থ্য সচেতনতা এবং দুর্যোগকালীন সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করবে। পাশাপাশি তরুণদের সম্পৃক্ত করে একটি সহমর্মী ও মানবিক সমাজ গড়ে তোলাই হবে সংগঠনটির মূল লক্ষ্য। তারা আরও বলেন, সমাজের বিত্তবান ও সচেতন মানুষের সহযোগিতা পেলে থ্রিএইচপি ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে এবং অসহায় মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে ভূমিকা রাখব