ঝিনাইদহে গৃহবধূর উপর নির্যাতন, মাথার চুল কেটে ফেলার অভিযোগ

এফএনএস (টিপু সুলতান; কালীগঞ্জ, ঝিনাইদহ) : | প্রকাশ: ৭ মার্চ, ২০২৬, ০৬:৫৭ পিএম
ঝিনাইদহে গৃহবধূর উপর নির্যাতন, মাথার চুল কেটে ফেলার অভিযোগ

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ভূপতিপুর গ্রামে যৌতুকের দাবিতে দুই সন্তানের জননী চান্দিনা খাতুন(২২)নামে এক গৃহবধূকে বর্বর নির্যাতন ও মাথার চুল কেটে আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে।বুধবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। বর্তমানে ভুক্তভোগী গৃহবধূ ঝিনাইদহ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকালে প্রতিবেশিদের সহায়তায় পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় গৃহবধূর বাবা মাজেদুল মন্ডল বাদী হয়ে মামলায় করেছেন। মামলায় চান্দিনা খাতুনের স্বামী মো. আমিরুল চৌধুরী (৩২), শ্বশুর মো. মিন্টু চৌধুরী (৫৮) ও শাশুড়ি মোছা. আমেনা খাতুনকে (৫০) আসামি করা হয়েছে। এজাহার বলা হয়েছে মালয়েশিয়া প্রবাসী আমিরুল চৌধুরী এক মাস আগে দেশে ফিরে আবার বিদেশে যাওয়ার জন্য এক লাখ ৮০ হাজার টাকা যৌতুক দাবি করেন। এনিয়ে বুধবার রাতে স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ি মিলে চান্দিনার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালান। একপর্যায়ে কাঁচি দিয়ে জোরপূর্বক তার মাথার চুল কেটে তাকে পাশের একটি পরিত্যক্ত দোকানঘরে আটকে রাখা হয়। পরদিন প্রতিবেশিদের মাধ্যমে খবর পেয়ে পরিবারের লোক এসে তাকে উদ্ধার করা হয়।নির্যাতনের শিকার চান্দিনা খাতুন সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের মাজেদুল মন্ডলের মেয়ে। পাঁচ বছর আগে ভূপতিপুর গ্রামের মিন্টু চৌধুরীর ছেলে আমিরুল চৌধুরীর সঙ্গে তার পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। তাদের তিন ও দুই বছর বয়সী দুইটি ছেলে সন্তান রয়েছে।আড়াই বছর আগে দ্বিতীয় সন্তান গর্ভে থাকা অবস্থায় আমিরুল চৌধুরী মালয়েশিয়ায় যান। এক মাস আগে তিনি প্রবাশ থেকে দেশে ফিরে আসেন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন চান্দিনা খাতুন বলেন, আমি একটি বাটন মোবাইল ব্যবহার করি। বুধবার রাতে হঠাৎ করে আমার স্বামী আমাকে দোষারোপ করেন আমি নাকি কোনো ছেলেকে এসএমএস করেছি। আমি বিষয়টি অস্বীকার করলে সে আমাকে মারধর শুরু করে। পরে স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ি মিলে আমাকে ধরে জোর করে কাঁচি দিয়ে মাথার চুল কেটে দেয় এবং বাড়ির পাশের একটি পরিত্যক্ত দোকানঘরে আটকে রাখে। সারারাত আমার ছোট ছেলেটা আমার কাছে আসার জন্য কাঁদলেও তাকে আমার কাছে আসতে দেয়নি।তিনি আরও বলেন,পরের দিন প্রতিবেশিদের সহযোগিতায় আমি বাবার মোবাইলে ফোন করে বিষয়টি জানাই। পরে তারা এসে আমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে, বলেন চান্দিনা।চান্দিনার বাবা মাজেদুল মন্ডল বলেন, জামাই বিদেশ যাওয়ার আগে আমরা তাকে তিন লাখ ৮০ হাজার টাকা দিয়েছিলাম। এবার দেশে ফিরে আবার এক লাখ ৮০ হাজার টাকা দাবি করছে। আমরা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আমার মেয়ের ওপর নির্যাতন শুরু করে। বুধবার রাতে আমার মেয়েকে মাথার চুল কেটে নির্যাতন করে আটকিয়ে রাখে। খবর পেয়ে আমরা গিয়ে তাকে উদ্ধার করি।

অভিযুক্ত আমিরুল চৌধুরীর মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তবে আমিরুলের বাবা মিন্টু চৌধুরী বলেন, আমি ইজিবাইক চালাই। ঘটনার সময় আমি বাড়িতে ছিলাম না।পরে বাড়িতে এসে দেখি ছেলে আমার বউমার মাথার চুল কেটে দিয়েছে। পরে বাড়ির পাশের একটি দোকানে তাকে রাখা হয়, সেখানে খাট-বিছানাসহ শোবার ব্যবস্থা আছে।কী কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার বউমা অন্য একজনের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িত। ছেলে বিষয়টি জানতে পেরে এমন করেছে এদিকে ভুক্তভোগীর চাচা সাজেদুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার ভাতিজি যদি কোনো অপরাধ করেও থাকে, তাহলে আমাদের জানাতে পারতো। আমরা ভূপতিপুর গ্রামে গিয়ে মানুষের কাছে শুনেছি কেউ বলতে পারেনি যে তার বিরুদ্ধে আগে কখনো এমন অভিযোগ ছিল। আসলে বিদেশে আবার যাওয়ার জন্য টাকা দাবি করছিল জামাই। সেই টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ভাতিজির ওপর নির্যাতন করা হয়েছে। এখন মিথ্যা অভিযোগ তোলা হচ্ছে। ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রার্প্তকর্তা (ওসি) মো. সামসুল আরেফিন বলেন,পরিবারের পক্ষ থেকে মেয়ের স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ির নামে একটি মামলা করা হয়েছে। এখনো কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। অভিযুক্ত যাতে পালাতে না পারে সে জন্য এয়ারপোর্টে ব্লক করার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে