নওগাঁর মহাদেবপুরে কোর্টের ওয়ারেন্টমূলে আসামী ধরতে গিয়ে ফিরে আসার পর এক বৃদ্ধের মৃত্যুর ঘটনায় থানা পুলিশ অপপ্রচারের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। একশ্রেণির গ্রাম্য রাজনীতিক গভীর রাতে পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন জনের সাথে যোগাযোগ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে অপপ্রচার চালিয়েছেন। সরেজমিনে এলাকায় গিয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। নিহতের বড় ছেলে জাহিদুল ইসলাম দাবি করেন, তার বাবা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন এবং তার শরীরে আঘাতের কোন চিহ্ন পাওয়া যায়নি। এই ঘটনায় থানা পুলিশ গ্রাম্য রাজনীতির গ্যারাকলে পড়ে। তারা বলছেন, পুলিশের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে একটি চক্র প্রপাগান্ডা ছড়াচ্ছে। সরেজমিনে উপজেলার হাতুড় ইউনিয়নের মালাহার উত্তরপাড়া গ্রামে গিয়ে জানা যায়, গত বুধবার (৪ মার্চ) দিবাগত রাত ১২টার পর মহাদেবপুর থানা পুলিশ কোর্টের ওয়ারেন্টমূলে আসামী ধরতে যায়। একজন আসামীকে আটক করার পর পুলিশ ওই গ্রামের আব্দুল হামিদ ওরফে ধলার ছেলে এমরান আলী ওরফে বারুকে আটক করতে তার বাড়ি যায়। বারু থানা পুলিশের সাথে জানালা দিয়ে কথাও বলেন। এরপর পুলিশ তাকে বাড়ির বাইরে আসতে বললে সে কৌশলে পালিয়ে যায়। পুলিশ বারুকে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করার জন্য তার বাবা আব্দুল হামিদকে (৬৪) দায়ি করে। এতে আব্দুল হামিদ ভয় পান। পুলিশ ওয়ারেন্টভূক্ত একই গ্রামের অন্য একজন আসামী এসলামের বাড়ি দেখিয়ে দেয়ার জন্য আব্দুল হামিদের সহযোগীতা নেয়। কিন্তু আইডি কার্ডের সাথে নামের মিল না থাকায় পুলিশ এসলামকে আটক না করে তাকে কোর্ট থেকে জামিন নিতে পরামর্শ দিয়ে অন্য গ্রামে আসামী ধরতে যায়। পুলিশ চলে যাবার ঘন্টাখানেক পর আব্দুল হামিদ বুকে ব্যাথা অনুভব করেন। এক পর্যায়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। সূত্র জানায়, ওইগ্রামের আব্দুল মান্নান গং এর সাথে এমরান আলী বারু গং এর জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল। তাদের দায়ের করা মামলায় আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলে সেই পরোয়ানামূলে থানা পুলিশ আসামীদের আটক করতে যায়। ঘটনার সময় আব্দুল মান্নানের ছেলে ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলাম, আফাজ মাস্টারের ছেলে ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সিরাতুন মাস্টার প্রমুখ আশেপাশেই ছিলেন বলে প্রচার চালানো হয়। তাদের ফাঁসাতে ও থানা পুলিশের সদস্যদের বলির পাঁঠা বানাতে একটি চক্র সুকৌশলে অপপ্রচার চালায়। তারা বিভিন্ন জনকে মোবাইলফোনে ঘটনা অতিরঞ্জিতভাবে জানিয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির পাঁয়তারা চালায়। গভীর রাতে পুলিশী অভিযানের সময় গ্রামের তেমন কোন মানুষ উপস্থিত না থাকলেও আসামী বারুর ছেলে ১১ বছরের শিশুকে দিয়ে প্রচার করা হয় যে পুলিশ আব্দুল হামিদের হাতে হাতকড়া লাগিয়ে নির্যাতন করে। কিন্তু ভূক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা এসংক্রান্তে কোথাও কোন অভিযোগই করেননি। বরং মরদেহের ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফনের অনুমতি চেয়ে থানা পুলিশের কাছে আবেদন করেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর তাকে দাফন করা হয়। সংশ্লিষ্টদের অভিমত জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধে একটি অনাকাঙ্খিত ঘটনাকে পুঁজি করে প্রতিপক্ষদের ফাঁসাতে এবং আইনগত জটিলতা থেকে বাঁচতে ব্যাপক অপপ্রচার চালানো হয়। ঘটনার পর থেকেই ওয়ারেন্টের আসামী বারুকে স্বদর্পে এলাকায় ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি সচেতন মহলের। মহাদেবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, বৃদ্ধ আব্দুল হামিদের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। এরসাথে থানা পুলিশের কোন সংযোগ নেই। এবিষয়ে নিহতের পরিবারের কোন অভিযোগ নেই। তাই মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়নি। এই ঘটনায় জেলা পুলিশের পক্ষে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) জয়ব্রত পালের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম বলেন, তদন্ত রিপোর্ট পাওয়া গেলে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।