সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ৮ মার্চ, ২০২৬, ০৪:২৪ পিএম
সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

অবৈধ সম্পদ অর্জন ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। আজ রোববার (৮ মার্চ) বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ দুদক কর্তৃক দাখিল করা অভিযোগপত্র গ্রহণের পর এই নির্দেশ দেন। আদালত পরোয়ানা সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ৩০ মার্চ দিন ধার্য করেছেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর দুদকের উপপরিচালক হাফিজুল ইসলাম বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ তদন্তের পর ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর দুদক অভিযোগপত্রে উল্লেখ করে, বেনজীর আহমেদ জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণভাবে ১১ কোটি ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৫৭৬ টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন। অভিযোগে বলা হয়, তিনি নিজের ও পরিবারের নামে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও যৌথ মূলধন সংস্থায় সম্পদ স্থানান্তর ও রূপান্তর করেছেন।

দুদকের তদন্তে দেখা গেছে, বেনজীর আহমেদের দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে ৬ কোটি ৪৫ লাখ ৩৭ হাজার ৩৬৫ টাকার স্থাবর এবং ৫ কোটি ৭৪ লাখ ৮৯ হাজার ৯৬৬ টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য অন্তর্ভুক্ত ছিল। কিন্তু অনুসন্ধানে ৭ কোটি ৫২ লাখ ৬৮ হাজার ৯৮৭ টাকার স্থাবর এবং ৮ কোটি ১৫ লাখ ৩১ হাজার ২৬৪ টাকার অস্থাবর সম্পদ ধরা পড়ে। বৈধ আয়ের উৎস হিসেবে মিলেছে ৬ কোটি ৫৯ লাখ ৪২ হাজার ৬৬৮ টাকা। ব্যয় বাদে নিট সঞ্চয় দাঁড়ায় ৪ কোটি ৬৩ লাখ ৫৬ হাজার ৬৭৫ টাকা।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, বেনজীর আহমেদ দেশে বিভিন্ন স্থানে জমি, ঢাকার গুলশানের ‘র‍্যানকন আইকন টাওয়ারে’ ফ্ল্যাট এবং উত্তরার বাণিজ্যিক স্পেসের মালিকানাও অর্জন করেছেন। এছাড়া নিজের কন্যা যাহরা যারীন বিনতে বেনজীরের নামে বিপুল সম্পদ রয়েছে। দুদকের উপপরিচালক হাফিজুল ইসলাম জানান, “অপরাধলব্ধ অর্থের উৎস আড়াল করতে বেনজীর আহমেদ নিজের ও কন্যার নামে ব্যাংক হিসাব ও ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছেন।”

এ ঘটনায় তাকে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪–এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারা, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭–এর ৫(২) ধারায় অভিযুক্ত করা হয়েছে। আদালত পলাতক থাকার কারণে তার বিরুদ্ধে হুলিয়া জারি ও সম্পত্তি জব্দের ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন।

একই দিনে সাবেক বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক নঈম নিজাম ও তার পরিবারের ২২টি ব্যাংক হিসাবও অবরুদ্ধ করা হয়েছে। এতে মোট ৪ কোটি ২৭ লাখ ৩ টাকা রয়েছে। অবরুদ্ধ হিসাবের মধ্যে ১১টি নঈম নিজামের নামে, ৬টি স্ত্রী ফরিদা ইয়াসমিনের নামে, ১টি ছেলে মাহির আবরারের নামে এবং ২টি মেয়ে নুজহাত পূর্ণতার নামে। পাশাপাশি আই মিডিয়া লিমিটেড ও দ্য বিজনেস আই নামে দুটি প্রতিষ্ঠানের হিসাবও অবরুদ্ধ করা হয়েছে।

দুদকের সহকারী পরিচালক রাকিবুল হায়াত বলেন, “অভিযোগ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সম্পদ অন্যত্র স্থানান্তরের চেষ্টা করতে পারেন। তাই ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করা জরুরি।” আদালত আবেদন মঞ্জুর করেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে