নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জয়ন্তী নদী দখল, রক্ষার দাবি ব্যবসায়ীদের

এফএনএস (মোঃ আরিফুল হক তারেক; মুলাদী, বরিশাল) : | প্রকাশ: ৮ মার্চ, ২০২৬, ০৫:১১ পিএম
নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জয়ন্তী নদী দখল, রক্ষার দাবি ব্যবসায়ীদের

বরিশালের মুলাদীতে সরকারি নিষেধাজ্ঞার পরেও বন্ধ হয়নি জয়ন্তী নদী দখল করে দোকান নির্মাণ কাজ।  বন্দরের কাঠবাজার এলাকায় নয়াভাঙনী ও জয়ন্তী নদীর সংযোগস্থলের জয়ন্তী নদীর অংশ আড়াআড়ি বাঁশ, কাঠ দিয়ে ভরাট করছেন প্রভাবশালীরা। এতে নদীতে নৌপরিবহন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তাই নদী রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন ব্যবসায়ীরা। গতকাল শনিবার বিকেল ৩টার দিকে পৌর সদরের হিজলা-মুলাদী সংযোগ সেতুর পশ্চিম পাড়ে বন্দরের ব্যবসায়ীরা মানববন্ধন করেন। পরিবেশ অধিদপ্তরের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও দখলদারেরা ভবন নির্মাণ কাজ অব্যাহত রাখায় ব্যবসায়ীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এসময় তারা প্রশাসনের উদাসীনতার অভিযোগও করেন।  মুলাদী বন্দরের ব্যবসায়ী শাহজাহান হাওলাদার জানান, ব্যবসায়ীরা পরিবহন ব্যয় কমাতে নৌ পথে যাতায়াত ও পণ্য পরিবহণের জন্য জয়ন্তী নদী ব্যবহার করেন। গত ফেব্রুয়ারি মাসে একদল প্রভাবশালী মালাকানা দাবি করে মুলাদী বন্দরের কাঠবাজার এলাকায় জয়ন্তী ও নয়াভাঙনী নদীর সংযোগ স্থলে জয়ন্তী নদীর অংশ দখল করে দোকানঘর নির্মাণ শুরু করেন। তারা নদীর প্রস্থ বরাবর বাঁশ কাঠ দিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে নৌযান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ করে দেন। ওই ঘটনায় ব্যবসায়ীরা নদীর রক্ষার জন্য গত ২ ফেব্রুয়ারি বরিশাল জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, বরিশাল পরিবেশ অধিদপ্তর, সহকারী কমিশনার (ভুমি), বরিশাল পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন জায়গায় আবেদন করেন। ব্যবসায়ীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে বরিশাল পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক কাজী সাইফুদ্দীন গত ৪ মার্চ জয়ন্তী নদীটি ভরাট কার্যক্রম বন্ধের জন্য নিদের্শনা দেন। ওই নির্দেশণায় চরডিক্রী গ্রামের মো. হারুন হাওলাদার, মো. মোবারক খান, হাজী মো. আব্দুর রাজ্জাক সিকদার, মুলাদী গ্রামের লালমিয়া খান, মো. আল আমিন খান ও মো. তুহিন সিকদারকে অবিলম্বে নদী ভরাটের কার্যক্রম বন্ধসহ অবকাঠামোগত নির্মাণ কাজ বন্ধ করে আগামী ৭ দিনের মধ্যে নদী ভরাট কৃত অংশের বালু, মাটি, বাঁশ, কাঠসহ সকল অবকাঠামো অপসারণের কথা বলা হয়। কিন্তু দখলকারীরা নির্দেশনা অমান্য করে নদী দখল কাজ অব্যহত রেখেছেন। ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে  নিদের্শণার অনুলিপি জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি), মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দপ্তরে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু প্রশাসন কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না। মুলাদী বন্দরের ব্যবসায়ী মাসুম বিল্লাহ বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্দেশনা দেওয়ার পরেও নদী দখল কাজ বন্ধ হয়নি। উল্টো তারা দ্বিগুণ গতিতে বালু ভরাটের কাজ করছেন। এতে নদী পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এবং বন্দরের ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়েছেন। নদী রক্ষা ও মুলাদী বন্দরে নৌ যোগাযোগ স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। এব্যাপারে হারুন হাওলাদার অবৈধ ভাবে নদী দখলের বিষয়ে অস্বীকার করে বলেন, নকশায় কোনো নদী নাই। সবাই রেকর্ডিও সম্পত্তি ভরাট করে দোকান নির্মাণ করছেন। এতে নদীতে চলাচল বন্ধ হলে কিছু করার নেই। এব্যাপারে মুলাদী সহকারী কমিশনার (ভুমি) পরাগ সাহা বলেন, ব্যবসায়ীদের অভিযোগ পেয়ে জয়ন্তী নদী পরিদর্শন করা হয়েছে। সর্ভেয়ার এর প্রতিবেদন পাওয়ার পরে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. গোলাম সরওয়ার বলেন, নদী দখলের বিষয়টি তদন্ত এবং দখলদারদের কাগজপত্র পর্যালোচনা করে দ্রুত সমাধান করা হবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে