আগামী ১২ মার্চ সংসদ অধিবেশনে সংস্কার পরিষদ গঠন না হলে আবারও রাজপথে আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। অপরদিকে দেশের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো ধরনের বিদেশী আধিপত্য মেনে নেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেছেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী। রবিবার বিকেলে বরিশাল নগরীর হালিমা খাতুন বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন ও নাগরিক অধিকার আদায়ের সংগ্রামের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে ইফতার মাহফিলে তারা এসব কথা বলেছেন । অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির হিসাবে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, আগামী ১২ মার্চ সংসদ অধিবেশনে যদি সংস্কার পরিষদ গঠন এবং রাষ্ট্র সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া না হয়, তাহলে জনগণের ভোটাধিকার ও নাগরিক অধিকার রক্ষায় আবারও রাজপথে নামতে বাধ্য হবো। তিনি আরও বলেছেন, এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এনসিপি ছয়টি আসনে জয়লাভ করে সংসদে পৌঁছেছে। তবে নির্বাচনের ফলাফলে কারচুপি ও ইঞ্জিনিয়ারিং এর অভিযোগও তোলেন তিনি। নাহিদ ইসলাম বলেন, নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী, সারজিস আলমসহ কয়েকজন প্রার্থী এবং ১১ দলীয় জোটের কয়েকজন প্রার্থীকে বিভিন্নভাবে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে। গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতার স্বার্থে তারা নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়ে সংসদে শপথ নিয়েছেন। কিন্তু সরকার জনগণের সঙ্গে করা অঙ্গীকার বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এমন এক পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে যেখানে চাঁদাবাজকে চাঁদাবাজ বললেও মামলা দেওয়া হচ্ছে। তবে পুরনো কায়দার রাজনীতি দিয়ে নতুন প্রজন্মকে দমিয়ে রাখা যাবেনা। একই অনুষ্ঠানে বক্তব্যে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী বলেন, বাংলাদেশের মানুষ কখনোই কোনো দেশের অধীনস্থ হয়ে বাঁচতে চায় না। দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতার প্রশ্নে জনগণ ঐক্যবদ্ধ এবং কোনো ধরনের বিদেশি আধিপত্য মেনে নেওয়া হবে না। তিনি বলেন, দেশের সামাজিক কাঠামো আজ সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির কারণে ভেঙে পড়েছে। রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হচ্ছে। গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখা হয়েছিল, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে সংস্কার জরুরি বলেও তিনি উল্লেখ করেন। বরিশাল বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম শাহিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে এনসিপির স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা উপস্থিত ছিলেন।