‘প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা তথ্যে’ ভারতে হাদি হত্যার ২ আসামি গ্রেপ্তার, বলছে আইএসপিআর

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ৯ মার্চ, ২০২৬, ১২:২৬ এএম
‘প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা তথ্যে’ ভারতে হাদি হত্যার ২ আসামি গ্রেপ্তার, বলছে আইএসপিআর

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)। একই সঙ্গে তাদের বাংলাদেশে হস্তান্তরের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

রোববার (৯ মার্চ) রাতে আইএসপিআর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দাদের সুস্পষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁও এলাকা থেকে এই দুই আসামিকে আটক করেছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। আটক ব্যক্তিদের একজন পটুয়াখালীর বাসিন্দা ৩৭ বছর বয়সী রাহুল ওরফে ফয়সাল করিম মাসুদ এবং অন্যজন ঢাকার বাসিন্দা ৩৪ বছর বয়সী আলমগীর হোসেন।

ভারতের সংবাদ সংস্থা এএনআই এবং পশ্চিমবঙ্গের গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে শনিবার রাতে উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বনগাঁও সীমান্ত এলাকা থেকে তাদের আটক করে। পরে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করে রোববার (৯ মার্চ) আদালতে হাজির করা হলে আদালত পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেয়।

আইএসপিআর বলছে, বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী হত্যাকাণ্ডের পর ফয়সাল ও আলমগীর মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেন। এরপর ভারতের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করার পর সুযোগ বুঝে আবার বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনা করছিলেন। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই তাদের অবস্থান শনাক্ত করা হয় এবং পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে।

সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, বাংলাদেশের কৌশলী গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই এই অভিযান সম্ভব হয়েছে। আইএসপিআর বলেছে, “বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁও এলাকা থেকে দুই আসামিকে আটক করা হয়েছে এবং তাদের বাংলাদেশে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।”

গোয়েন্দা সূত্রগুলো বলছে, সম্প্রতি বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার এক শীর্ষ কর্মকর্তা ভারত সফর করেন। ওই সফরে আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের আসামিদের গ্রেপ্তার করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ভারতীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আরও সক্রিয় হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।

রাজধানীর পল্টন এলাকায় গত বছরের ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজ শেষে গণসংযোগের সময় মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত হন শরিফ ওসমান হাদি। একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, মোটরসাইকেলে আসা দুই ব্যক্তি কাছ থেকে তার মাথায় গুলি করে দ্রুত সেখান থেকে পালিয়ে যায়।

গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকার হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে পাঠানো হলে ১৮ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

হত্যাকাণ্ডের পর করা মামলায় ইতোমধ্যে কয়েকজন আসামি গ্রেপ্তার হয়ে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এখন ভারতে আটক ফয়সাল করিম মাসুদ ও আলমগীর হোসেনকে আইনি প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে