হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল ১৪ দিনের রিমান্ডে

এফএনএস
| আপডেট: ৯ মার্চ, ২০২৬, ০৯:৩৫ এএম | প্রকাশ: ৯ মার্চ, ২০২৬, ০১:৩৯ এএম
হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল ১৪ দিনের রিমান্ডে

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ এবং তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ ১৪ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে। সীমান্ত এলাকা থেকে গ্রেপ্তারের পর রোববার (৯ মার্চ) তাদের আদালতে হাজির করা হলে বিচারক এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

ভারতের সংবাদ সংস্থা এএনআই এবং পশ্চিমবঙ্গের স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্স গোপন তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার (৭ মার্চ) গভীর রাতে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বনগাঁও সীমান্ত এলাকা থেকে দুই বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করে। পরে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করে আদালতে তোলা হলে পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার নির্দেশ দেন বিচারক।

পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্স এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “গোপন সূত্রে জানা যায়, খুনের মতো গুরুতর অপরাধ করে দুই বাংলাদেশি নাগরিক অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছে এবং বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার জন্য বনগাঁও সীমান্ত এলাকায় গোপন আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।”

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, রাহুল ওরফে ফয়সাল করিম মাসুদ ও আলমগীর হোসেন হত্যাকাণ্ডের পর মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেন। পরে ভারতের বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাফেরা করার পর আবার বাংলাদেশে ফিরে আসার পরিকল্পনা করছিলেন। সেই সময়ই সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয় বলে জানায় স্পেশাল টাস্কফোর্স।

এদিকে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর আইএসপিআর জানিয়েছে, বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁও এলাকা থেকে দুই আসামিকে আটক করা সম্ভব হয়েছে। রোববার (৯ মার্চ) রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি জানায়, তাদের বাংলাদেশে হস্তান্তরের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।

আইএসপিআর বলেছে, “বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁও এলাকা থেকে দুই আসামিকে আটক করা হয়েছে এবং তাদের বাংলাদেশে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।”

গত বছরের ১২ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানীর পল্টন থানার বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় হামলার শিকার হন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদি। মতিঝিল মসজিদে জুমার নামাজ শেষে প্রচারণা চালিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দিকে যাওয়ার সময় মোটরসাইকেলে আসা দুই ব্যক্তি চলন্ত অবস্থায় তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়।

গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ১৫ ডিসেম্বর তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে তার মৃত্যু হয়।

হত্যাকাণ্ডের পর করা মামলায় ইতোমধ্যে কয়েকজন আসামি গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাদের মধ্যে ছয়জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন এবং চারজন সাক্ষী ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় সাক্ষ্য দিয়েছেন। তবে দীর্ঘদিন ধরেই পলাতক ছিলেন এই মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ।

উল্লেখ্য, গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে এক ভিডিও বার্তায় ফয়সাল দাবি করেছিলেন, তিনি দুবাইয়ে অবস্থান করছেন এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলে তিনি ছিলেন না। তবে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তিনিই গুলি চালিয়ে হাদিকে হত্যা করেছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে