চারশ’ বছরের মসজিদে একসাথে ৩ জনের নামাজ আদায়

এফএনএস (বরিশাল প্রতিবেদক) :
| আপডেট: ৯ মার্চ, ২০২৬, ১১:৫৮ এএম | প্রকাশ: ৯ মার্চ, ২০২৬, ১১:৫৮ এএম
চারশ’ বছরের মসজিদে একসাথে ৩ জনের নামাজ আদায়

আকার বা ইতিহাসগত দিকের পাশাপাশি মসজিদটি নিয়ে অলৌকিক কিংবদন্তি প্রচলিত পুরো এলাকায়। যার মূল চরিত্র মসজিদটিকে ঘিরে রাখা বটগাছ বা মসজিদগাছ। মসজিদের প্রবেশ দরজার উচ্চতা মাত্র সাড়ে তিন ফুট। ভেতরে তিনজনে দাঁড়িয়ে একসাথে নামাজ আদায় করতে পারেন।

মসজিদের মিম্বর না থাকলেও দেয়াল কেটে আকৃতি দেওয়া হয়েছে। ছোট প্রাচীন মসজিদটির নাম গাজী কালু দরগাবাড়ির পাঞ্জেগানা মসজিদ। মসজিদ পরিচালনায় রয়েছে কমিটিও। প্রায় চারশ’ বছরের পুরোনো এ মসজিদটির অবস্থান বরিশাল সদর উপজেলার চরমোনাই ইউনিয়নের চরহোগলা গ্রামে। মসজিদ পরিচালনা কমিটির দাবি, পুরোনো দলিল-দস্তাবেজ অনুসারে পর্তুগিজ আমল থেকেই এখানে মসজিদ বাড়ি নামে রেকর্ড রয়েছে। তবে ঠিক কোন খ্রিষ্টাব্দে মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছে তার সঠিক কোন ইতিহাস পাওয়া যায়নি। গাজী কালু দরগাবাড়ির পাঞ্জেগানা মসজিদ, গায়েবি মসজিদ নামে এলাকাবাসীর কাছে পরিচিত ছোট মসজিদটি একটি বিশালাকার বটগাছের শিকর-বাকড়ে আবৃত। এর ভেতরে দেখা যায় এক গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদটির উত্তর-দক্ষিণে পৃথক দুটি জানালা। মসজিদটি সম্পূর্ণ পোড়ামাটি আর চুন-সুড়কি দিয়ে নির্মাণ করা। মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোতাহার হোসেন চৌধুরী বলেন, পুরোনো দলিলের রেকর্ডপত্রে আব্দুল মজিদ সিকদার ও বন্দে আলী সিকদারের খতিয়ানে ২১ শতক জমি মসজিদের নামে জনসাধারণের ব্যবহার্য উল্লেখ করা রয়েছে। এছাড়া স্থানটিকে মসজিদ বাড়ি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এখন পর্যন্ত ধারণা করা হচ্ছে পর্তুগিজ আমলে মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, মসজিদটি পর্তুগিজ আমলের নির্দশন। শুধু এটি নয়, পতাং ও নাপিতেরর হাট নামক দুটি স্থানে এমন ছোট আকারের আরও দুইটি মসজিদ ছিল। সেগুলো এখন বিলুপ্ত হয়ে গেছে। মোতাহার হোসেন চৌধুরী বলেন, মসজিদটিকে অসম্মান করা বা এর মানতের টাকা বেহাত যারা করেছে, তাদের অনেকের বিপদ আমি নিজে দেখেছি। শুধু তাই নয়, মসজিদটিকে রক্ষাকারী বিরল প্রজাতির বটগাছটিও কিংবদন্তির অংশ হয়ে উঠেছে। যদিও আবৃত করে রাখা গাছটি পর্তুগিজ আমলের কি না, তা নিয়ে রয়েছে নানা প্রশ্ন। মসজিদ বাড়ি এলাকার বাসিন্দা আমিনুল ইসলাম বলেন, একবার এক মুরব্বি মসজিদের বট গাছের পাতা ছিঁড়েছিলেন। সেদিন থেকেই তিনি গুরুত্বর অসুস্থ হয়ে পরেন। আমাদের পূর্বপুরুষরা শুনে এসেছেন মসজিদ গাছটির পাতা ছেঁড়া, অসম্মানন করা বা ডাল কাটলে অনেক বড়ক্ষতি হয়। আমরাও সেই বিশ্বাস ধারণ করি। এ গাছটির পাতা যেখানে পরে সেখানেই মজে পচে যায়, কেউ তা ধরেনা। গাছটির শিকড়, ডালপালা বিভিন্নদিকে নেমে গেছে, আমরা ওসব কিছুই ধরিনা।

তিনি আরও বলেন, অনেক লোক আসেন এখানে মনের আসা পূরণে মানত করে। মূলত তাদের টাকায় মসজিদটির উন্নয়ন করা হয়। মসজিদে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় না হলেও যারা মানত করেন, তারা এখানে নামাজ পরেন। তিনি দাবি করে বলেন, আমার মনে হয় এটি বিশ্বের ছোট মসজিদ। তাই গিনেস বুকে এ মসজিদের নাম ওঠানোর দাবি জানাচ্ছি। গ্রামের আরেক বাসিন্দা হুমায়ুন বিশ্বাস বলেন, মসজিদের ইতিহাস সম্পর্কে কারও তেমন কিছু জানা নেই। আমার দাদা ১০৭ বছর বয়সে মারা গেছেন। তিনিও মসজিদের নির্মাণ সম্পর্কে তেমন কিছুই বলতে পারেনি। তবে সবাই সম্মান, ভক্তি ও শ্রদ্ধা করতো গায়েবি মসজিদ বলে।

স্থানীয় বৃদ্ধ সিরাজুল ইসলাম মোল্লা (৮৫) বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই এখানে লোকজন মানত করে টাকা দিয়ে যায়। সেই টাকা দিয়ে বিভিন্নসময়ে খিচুড়ির আয়োজন করা হয়। তবে এখানে কোনো ভাঁওতাবাজি নেই। মসজিদ পরিচালনার জন্য একটি কমিটি রয়েছে। টাকার হিসেব তাদের কাছে থাকে। প্রাচীন নিদর্শন হিসেবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ মসজিদকে সংরক্ষণ করার জন্য স্থানীয়রা দাবি জানিয়েছেন। জনশ্রুতি অনুসারে, এখন পর্যন্ত বিশ্বের সবচেয়ে ছোট মসজিদ বগুড়ার সান্তাহার উপজেলার তারাপুর গ্রামে। এক গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদটির উচ্চতা ১৫ ফুট, দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ ৮ ফুট। এর দরজা ৪ ফুট উঁচু আর দেড় ফুট চওড়া। মাত্র তিনজন একসাথে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করতে পারেন। আর বরিশালের এ ছোট মসজিদের প্রবেশ দরজার উচ্চতা মাত্র সাড়ে তিন ফুট।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে