বিদেশের আকাশে বিস্ফোরণ, দেশের মাটিতে শোক

এফএনএস (এইচ এম শহিদুল ইসলাম; সিলেট) : | প্রকাশ: ৯ মার্চ, ২০২৬, ০৪:০৮ পিএম
বিদেশের আকাশে বিস্ফোরণ, দেশের মাটিতে শোক

সংযুক্ত আরব আমিরাতের আকাশে ক্ষেপণাস্ত্রের বিস্ফোরণের অভিঘাত এসে থেমেছে মৌলভীবাজারের এক নিভৃত গ্রামের উঠোনে। সেখানে অপেক্ষা করছিল একটি পরিবার। ফিরে আসার কথা ছিল যার, সে ফিরল ঠিকই, তবে জীবিত নয়; কাঠের কফিনে শুয়ে। সোমবার (৯ মার্চ) সকালে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায় প্রবাসী আহমেদ আলীর মরদেহ। বিদেশের মাটিতে জীবন হারানো এই শ্রমিকের নিথর দেহ গ্রহণ করতে উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। আনুষ্ঠানিকতা শেষে তিনি নিজ হাতে মরদেহ পরিবারের কাছে পৌঁছে দেন। একটি দায়িত্ব, কিন্তু একই সঙ্গে এক গভীর বেদনাও। ঢাকা হয়ে সিলেটে পৌঁছানো সেই কফিন যেন বহন করছিল হাজারো প্রবাসী জীবনের গল্প। জীবিকার তাগিদে দেশের মাটি ছেড়ে যাওয়া আহমেদ আলী কাজ করতেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের আজমান শহরে, পানি সরবরাহের একটি গাড়ির চালক হিসেবে। প্রতিদিনের মতোই কাজ করছিলেন তিনি; কিন্তু ২৮ ফেব্রুয়ারির সেই দিনটি ছিল ভিন্ন। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের উত্তাপে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র মুহূর্তেই থামিয়ে দেয় তার জীবনযাত্রার পথ। তার দুই ছোট ভাই জাকির হোসেন ও বোরহান আহমদ একই শহরে থাকতেন। তারাই প্রথমে পরিবারের কাছে পৌঁছে দেন মৃত্যুর খবর। সেই খবরের পর থেকে গাজিটেকা গ্রামের বাড়িতে নেমে আসে গভীর শোকের ছায়া। বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মন্ত্রী জানান, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত চারজন বাংলাদেশি নিহত এবং অন্তত দশজন আহত হয়েছেন। আহতদের সৌদি আরবের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং তাদের সার্বিক খোঁজখবর রাখা হচ্ছে বলেও তিনি জানান। একই সঙ্গে তিনি আশ্বাস দেন, প্রবাসীরা যেকোনো সংকটে পড়লে সরকার তাদের পাশে থাকবে। বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে আহমেদ আলীর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার গাজিটেকা গ্রামের বাড়িতে। সেখানে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে। একজন প্রবাসীর জীবনের শেষ যাত্রা এভাবেই শেষ হলো নিজের মাটিতে। বিদেশের মাটিতে তার ঘাম মিশেছিল জীবিকার জন্য, আর শেষমেশ নিজের মাটিই হলো তার চিরনিদ্রার ঠিকানা।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে