সিলেটে অপহরণ ও মুক্তিপণ চক্রের ১০ সদস্য গ্রেপ্তার

এফএনএস (এইচ এম শহিদুল ইসলাম; সিলেট) : | প্রকাশ: ৯ মার্চ, ২০২৬, ০৪:১৮ পিএম
সিলেটে অপহরণ ও মুক্তিপণ চক্রের ১০ সদস্য গ্রেপ্তার

সিলেট নগরীতে অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায় চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে ১০ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয় এবং দুইজন ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন  সিলেটের মোগলাবাজার থানার গোটাটিকর এলাকার মো. সেলিম আহমদের ছেলে তানজিম মাহবুব নিশান (২১), নগরীর শাহজালাল উপশহর বি-ব্লকের ১৫ নম্বর সড়কের ১৫ নম্বর বাসার মো. মোক্তাদিরের ছেলে আহসান হাবিব মুন্না (১৯), সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার মন্ডলপুর গ্রামের মো. ফয়জুল করিমের ছেলে জুবাইন আহমদ (১৯), জালালাবাদ থানার আমানতপুর গ্রামের আব্দুল মন্নানের ছেলে সুফিয়ান আহমদ (১৯), নগরীর চৌকিদেখী এলাকার ৬৪/১ নম্বর বাসার মো. আনোয়ার মিয়ার ছেলে মো. জাকির হোসেন (১৯), নগরীর কাজীটুলা এলাকার বিহঙ্গ-৭০ নম্বর বাসার আবুল হোসেনের ছেলে মো. মারজান (১৯), ছাতক উপজেলার রায়সত্তরপুর গ্রামের মো. সুজন মিয়ার ছেলে মোসাদ্দেক আলী (১৮), নগরীর হাওয়াপাড়া এলাকার দিশারী-৮১ নম্বর বাসার রুমান আহমদের ছেলে ফারদিন আহমদ (১৮), নগরীর শিবগঞ্জ মজুমদারপাড়া এলাকার মো. রতনের ছেলে জয়নাল আবেদীন রাব্বি (১৮) এবং হাওয়াপাড়া এলাকার দিশারী-৪৪ নম্বর বাসার মানিক মিয়ার ছেলে মিজান আহমদ (১৮)। পুলিশ জানায়, রোববার (৮ মার্চ) সন্ধ্যা প্রায় ৬টার দিকে নগরীর তাঁতিপাড়া পয়েন্ট এলাকা থেকে সুহেল সরকার (২২) নামে এক যুবককে ১৪-১৫ জন দুর্বৃত্ত জোরপূর্বক অপহরণ করে। অপহৃত সুহেল সরকার সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার মাহতাবপুর গ্রামের মৃত খোকা সরকারের ছেলে। বর্তমানে তিনি সিলেটের জালালাবাদ থানার গুয়াবাড়ী এলাকায় বসবাস করেন। এছাড়া অভিযানে গোলাপগঞ্জ উপজেলার বাদেপাশা গ্রামের প্রবাসী জাহিদ আহমদ (৪২) নামের আরেক ভিকটিমকেও উদ্ধার করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অপহরণের পর সুহেল সরকারকে তাঁতিপাড়া এলাকার নাজমা নিবাসের ৫৬ নম্বর বাসার দ্বিতীয় তলায় আটকে রাখা হয়। সেখানে তাকে ধারালো চাকু ও কাঁচি দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয় এবং লোহার রড ও স্টিক দিয়ে মারধর করে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরে তার কাছ থেকে নগদ টাকা আদায় করা হয় এবং ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোনও ছিনিয়ে নেওয়া হয়। একপর্যায়ে দুর্বৃত্তরা ভিকটিমকে জোর করে জামাকাপড় খুলিয়ে ভিডিও ধারণ করে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তা ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে তাকে ছেড়ে দেয়। পরে ভিকটিম সুহেল সরকার বিষয়টি কোতোয়ালী মডেল থানাকে জানালে থানার অফিসার ইনচার্জ খান মুহাম্মদ মাইনুল জাকির বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই (নিরস্ত্র) শহিদুল ইসলামকে একটি টিমসহ অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেন। অভিযানে গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে দুই ভিকটিমের দুটি মোবাইল ফোন, নগদ টাকা এবং ঘটনার সঙ্গে ব্যবহৃত কাঁচি, চাকু ও লোহার রুল উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে