খুলনার পাইকগাছায় কপিলমুনি ইউনিয়নে টিসিবি ডিলার নিতে দূর্নীতির আশ্রয়ের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে প্রকাশ, ডিলার নিয়োগ ও ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২৫ কে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে কথিত ভাই ভাই মুদি স্টোরের স্বত্তাধিকারী মো: সামিউল ইসলামকে টিসিবির কপিলমুনির ডিলারশীপ প্রদান করা হয়েছে। অথচ কথিত ভাই ভাই মুদি স্টোর ডিলার প্রাপ্তির শ্যালকের টি স্টল। শ্যালক সাদেক গাজী ঘর ভাড়া নিয়ে দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে চা বিক্রি করে আসছেন। অভিযোগে বলা হয়, ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ এর পক্ষে অতিরিক্ত পরিচালক (সিএমএস ও বিওবি) মো: রবিউল মোর্শেদ গত ২৭.০৭.২৫ তারিখে ২৬.০৫.০০০০.২৩.১১.০২৮.২৩.৮১৭ নং স্মারকে খুলনাসহ কয়েকটি জেলার নির্দ্ধারিত উপজেলা, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড ও পৌর এলাকায় খালি থাকা সাপেক্ষে ডিলার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়। এরপর নির্ধারিত এলাকাসমূহ থেকে আবেদনের প্রেক্ষিতে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ গত ২৪/২/২৬ তারিখে ২৬.০৫.০০০০.০২৩.১১.০৭৪.২৫.(২য় খন্ড).১০৫ নং স্মারকে এক পত্রে জানায়, নির্ধারিত বিভিন্ন এলাকার ন্যায় পাইকগাছার ৭টি ডিলার নিয়োগে উপজেলার কপিলমুনিতে ২ টি ডিলার যথাক্রমে আফাজ স্টোরের প্রো: মো: আব্দুর রহমান ও ভাই ভাই মুদি স্টোরের মালিক মো: সামিউল ইসলামকে ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। টিসিবি ডিলার নিয়োগ ও ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২৫ অনুযায়ী জেলা প্রশাসক খুলনা হতে প্রাপ্ত তদন্ত প্রতিবেদন এবং ডিলার নিয়োগ সংক্রান্ত অনুষ্ঠিত সভায় ডিলার নিয়োগ কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক ১২৯ টি প্রতিষ্ঠানকে টিসিবির ডিলার হিসাবে নিয়োগ প্রদান করা হলো। সে প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক অফিস/ক্যাম্প অফিস এর অফিস প্রধানগণ নিয়োগপ্রাপ্ত ডিলার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহের সাথে চুক্তি সম্পাদনের আগে ডিলার নিয়োগ ও ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২৫ ডিলার অনুযায়ী কর্তৃক প্রদানকৃত তথ্যাদিও সঠিকতা নিশ্চিত হয়ে চুক্তি স্বাক্ষর করবেন। সঠিক তথ্য প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে ডিলারশীপ চুক্তি সম্পাদনের পর তাদের তালিকাসহ টিসিবি কার্যালয়ে প্রতিবেদন প্রেরন করতে বলা হয় ঐ পত্রে। সূত্রটি জানায়, কপিলমুনি ইউনিয়নের কোথাও ভাই ভাই মুদি স্টোর নামে কোন প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব নেই। তবে পার্শ্ববর্তী হরিঢালী ইউনিয়নের শ্রীরামপুর মোড় এলাকায় একটি চায়ের দোকানের উপর গত ৭ মার্চ সকালে ভাই ভাই মুদি স্টোরের নামে একটি সাইনবোর্ড ঝুলানো দেখতে পাওয়া যায়। তার নিকট আত্নীয় জানান, সামিউল ইসলামের বাড়ী উপজেলার গড়াইখালী ইউনিয়নে পাতড়াবুনিয়া গ্রামে। সে কয়রা উপজেলার ফুড অফিসের কর্মচারী। ঐ দিন সন্ধ্যার পর থেকে আর সাইনবোর্ডটি দেখা যাচ্ছে না। অন্যদিকে পাইকগাছার সাবেক নিয়োগকৃত এক ডিলার মেসার্স সাদিয়া এন্টারপ্রাইজের স্বত্তাধিকারী আমিনুল ইসলাম বজলু, টিসিবির ডিলার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে পাইকগাছার কপিলমুনিতে উপকারভোগীর কার্ড সংখ্যার স্থলে ২১৬২, বিদ্যমান ডিলার সংখ্যা ১ ও নিয়োগযোগ্য ডিলার সংখ্যার স্থলে ১ লেখা থাকে। নীতিমালা অনুযায়ী ১৫০০ এর অধিক উপকারভোগীর কার্ড সংখ্যা থাকলে ২ জন ডিলার থাকা আবশ্যক বলে উল্লেখ রয়েছে। অর্থাৎ তিনি বিদ্যমান থাকাবস্থায় তাকে বাদ দিয়ে কপিলমুনিতে ২ জন ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যা সম্পূর্ণ নীতিমালা বহির্ভূত ও অনিয়ম বলে মনে করেন তিনি। কপিলমুনি স্থায়ী কয়েক জন ব্যবসায়ী বলেন, ভাই ভাই মুদি স্টোর নামে কোনো মুদি দোকান ছিলো না। সরেজমিনে ডিলার প্রাপ্তি সামিউল ইসলামের শ্যালক হরিঢালী ইউনিয়নের সাদেক গাজী টি স্টল স্বত্বাধিকারী নিজের স্বীকার করে বলেন ও এখন কয়রা উপজেলায় আছে। টাকা হলে কপিলমুনি বাসিন্দা হতে সময় লাগে। মালপাতি আমার দায়িত্বে থাকবে, বোনাই এর কাজ সব আমি করবো, আমার তো ওতো টাকা পয়সা আমার না। সামিউল ইসলাম ফুড অফিসে চাকরি করে, তবে কোথায় আছে জানেন না। সামিউল ইসলাস ফোন রিসিভ করে বলেন, আমি বিলে আছি। সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে পরে বলেন দূরে আছি। পেশা কি প্রশ্নে দোকানদারী বলে জানান ভাই ভাই মুদি স্টোর সে করে শ্যালকে বসিয়েছে। বাড়ি ও ফুড অফিসে চাকরি করেন প্রশ্নে কল কেটে বন্ধ করে রাখেন।