অভাবের সংসারে স্বচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্ন নিয়ে আট বছর আগে সৌদি আরবে যান টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কীর্ত্তনখোলা গ্রামের মোশারফ হোসেন (৪০)। দেশটির আল খারিজ শহরের পাশে একটি কোম্পানিতে তিনি পরিচ্ছন্নতা কর্মীর কাজ করতেন। মোশারফ হোসেন দূর প্রবাসে কর্মরত অবস্থায় রোববার(৮ মার্চ) ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মারা যান। মোশারফের মরদেহ কবে-কখন দেশে আসবে এ অপেক্ষায় রয়েছে তাঁর পরিবার। কীর্ত্তনখোলা গ্রামের মো. সূর্যত আলী ও জহুরা বেগম দম্পতির সন্তান মোশারফ হোসেন। পরিবারে তার স্ত্রী ও দুই ছেলে রয়েছে। মোশারফের বড় ছেলে মাহিম স্থানীয় একটি স্কুলে নবম শ্রেণিতে এবং ছোট ছেলে মিহান প্রথম শ্রেণিতে পড়ালেখা করে। তিন বছর আগে মাত্র তিন মাসের জন্য ছুটিতে দেশে এসেছিলেন মোশারফ। এরপর আবার সৌদি আরবে যান সংসারের হাল ধরতে। মোশারফের স্ত্রী কবরী আক্তার জানান, আগের রাতে অর্থাৎ শনিবার দিনগত রাতে স্বামীর সঙ্গে কথা হয়েছিল। তিনি বলেছিলেন- ঈদের জন্য টাকা পাঠাবেন, ছেলে দুটির জন্য কিছু কিনতে। কে জানতো, সেই কথাই হবে শেষ কথা। রোববার ভোর রাতে অর্থাৎ রাত ৩টার দিকে সৌদি আরবে থাকা স্বজনরা জানান, মোশাররফ আর নেই। ছেলের মৃত্যুর খবর জানার পর থেকে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন মোশারফের মা জহুরা বেগম। তিনি বলেন, ‘আমার ছেলের মরদেহ দ্রুত ফেরত চাই। আমার ছোট নাতি মিহান এখনো বুঝে উঠতে পারেনি। তার বাবা আর কোন দিন ঘরে ফিরবেন না। সরকারসহ সবার সহযোগিতা চাই।’ সখীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার(ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল রনী জানান, প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত মরদেহ দেশে আনার চেষ্টা চলছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে।