জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়া জরুরি

এফএনএস | প্রকাশ: ৯ মার্চ, ২০২৬, ০৭:২৮ পিএম
জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়া জরুরি

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে বড় সংকট তৈরির পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে বলে খবর প্রকাশিত হচ্ছে। এমন অবস্থায় দেশে সরকারিভাবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে বৈদ্যুতিক বাতি, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্রাংশ (এসি) ব্যবহার কমিয়ে আনা, আলোকসজ্জা পরিহারসহ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধ আরো বিপজ্জনক মোড় নিচ্ছে। যুদ্ধের সপ্তম দিন গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র প্রথমবারের মতো ইরানে হাজার পাউন্ডের ‘বাংকার বাস্টার’ বোমা হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে ইরান ইসরায়েলে নজিরবিহীন ক্লাস্টার ব্যালিস্টিক মিসাইল হামলা করেছে বলে অভিযোগ তুলেছে ইসরায়েল। ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে মারাত্মক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টিকারী এই যুদ্ধ শিগগিরই থামার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বাংলাদেশেও রান্নাবান্না থেকে শুরু করে পরিবহন বা শিল্প-কারখানায় সমস্যা তৈরি হচ্ছে। জ্বালানি সরবরাহকারী পাম্পগুলোতে যানবাহনের লাইন কেবলই দীর্ঘ হচ্ছে। আমদানিনির্ভর জ্বালানি নীতি যে কত বড় সংকট তৈরি করতে পারে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ তা আবারও আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল। গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা শুরু করলে এবারের যুদ্ধ শুরু হয়। ছয় দিন পর এসে দেখা যাচ্ছে, পাল্টাপাল্টি হামলার এই যুদ্ধ ইতিমধ্যে গোটা মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। বাংলাদেশে জ্বালানির যে চাহিদা; তার সিংহভাগ আসে সৌদি আরব, কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে। যুদ্ধের কারণে এসব দেশে জ্বালানির উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় দেশে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে শঙ্কা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় সরকার জ্বালানি সাশ্রয়ের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেটা বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় সামঞ্জস্যপূর্ণ। প্রকাশিত খবরে বলা হয়, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন পেট্রল পাম্পে গত শুক্রবার জ্বালানি তেল কিনতে ক্রেতাদের অস্বাভাবিক ভিড় দেখা গেছে। জ্বালানিসংকটের আশঙ্কায় অনেকে আগেভাগে বেশি করে তেল নিয়েছেন। অতিরিক্ত চাহিদার কারণে কোথাও কোথাও সাময়িকভাবে তেল বিক্রি বন্ধ রাখা হয়। এই পরিস্থিতিতে শুক্রবার সরকার তেল কেনার সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে। বর্তমানে দেশে জ্বালানির যে মজুত ও সরবরাহ, তাতে মার্চ মাস পর্যন্ত চলবে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানি নিয়ে অন্য অনেক দেশের মতো বাংলাদেশকে বড় সংকটে পড়তে হতে পারে। সে ক্ষেত্রে জ্বালানি সাশ্রয় ও বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি কেনার পথ খোঁজাটাই সমাধান।পাশাপাশি সরকারকে অবশ্যই জ্বালানি সাশ্রয় ও চুরি বন্ধে আরও কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। সেইসঙ্গে বর্তমান বাস্তবতায় সরকারের জ্বালানি সাশ্রয় নীতিকে সহযোগিতা করা সকল নাগরিকদের দায়িত্ব।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে