বরগুনার তালতলীতে যৌতুকের দাবীতে গৃহবধূ দুই সন্তানের জননী আছিয়া আক্তার হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলার আসামিদের গ্রেফতার ও বিচার দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকাল ১১ টার দিকে উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের মৌরভী এলাকায় ঘন্টাব্যাপী এ কর্মসূচি পালন হয়। এতে ওই এলাকার ছয় শতাধিক নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন আসিয়ার বাবা মজিবর জোমাদ্দার, চাচা জাহাঙ্গীর জোমাদ্দার, বোন মনিরা বেগম, ভাই নিজাম উদ্দিন আহমেদ , মামা জহিরুল ইসলাম ও এলাকার মসজিদের ইমাম হাবিবুর রহমান প্রমুখ।
উল্লেখ্য, যৌতুকের দাবিতে বারবার নির্যাতনের একপর্যায়ে শনিবার রাত বারোটায় মারা যান দুই সন্তানের জননী গৃহবধু আসিয়া। স্বামী মোঃ ফরহাদ পহলান (৩০), শশুর আঃ রব পহলান এ ঘটনাকে ধামাচাপা দেয়ার জন্য আসিয়া আত্মহত্যা করেছে বলে তার পিত্রালয়ে ফোন করেন। রাতে এসে তারা আছিয়াকে তার খাটে মৃত অবস্থায় শোয়ানো দেখেন।
এ ঘটনায় শনিবার (০৭ মার্চ) তালতলী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহত আছিয়া আক্তারের পিতা মোঃ মজিবর জোমাদ্দার। এ মামলায় নিহতের স্বামী মোঃ ফরহাদ পহলান (৩০), শশুর আঃ রব পহলান (৬০), শাশুড়ি মোসাঃ ফাতেমা বেগম (৫০), মোসাঃ আয়েশা বেগম ও মোসাঃ আরিফা (২৮)সহ অজ্ঞাতনামা ২-৩ জনকে আসামি করা হয়।
এমামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ২০২০ সালে একই ইউনিয়নের পশ্চিম অঙ্কুজান পাড়া গ্রামের আব্দুর রব পহলানের ছেলে ফরহাদ হোসেনের সঙ্গে আছিয়া আক্তারের বিয়ে হয়। বিবাহের পর থেকেই তার স্বামী মোঃ ফরহাদ পহলান তিন লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছে। পরে মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে স্বর্ণালংকারসহ দুই লাখ টাকা এবং তিনটি গরু ক্রয় করে দেন আছিয়ার পরিবার। এতে সন্তুষ্ট না হয়ে ক্রমাগত নির্যাতন করতে থাকে ফরহাদ হোসেন। পরে বিদেশ যাওয়ার জন্য তিন লাখ টাকা দাবি করে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেন। পরবর্তীতে শশুর বাড়ি থেকে দেওয়া তিন লাখ টাকা নিয়ে বিদেশে গিয়ে কোন কাজকর্ম না পেয়ে দেশে চলে আসে আবার দুই লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে করে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে। এ ধারাবাহিকতায় শুক্রবার (০৬ মার্চ) দিবাগত রাত ১২ টায় ফের যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন করার একপর্যায়ে মারা যায় আছিয়া আক্তার।
নিহত আছিয়া আক্তারের পিতা মোঃ মজিবর জোমাদ্দার বলেন, ‘আমাকে শুক্রবার (০৬ মার্চ) দিবাগত রাত ১২ টায় ফরহাদ পহলান মুঠোফোনে জানায় “আছিয়া গলায় ফাঁস দিয়ে মারা গেছে”এ কথা শুনার সাথে সাথে আমি ও আমার পরিবারের লোকজন নিয়ে ওদের বাড়ি গিয়ে দেখতে পাই যে, আমার মেয়ে খাটের উপর শোয়ানো অবস্থায় রয়েছে। এসময় আমরা তার গলাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পাই। বিবাহের পর থেকেই যৌতুকের জন্য শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করত। এ নিয়ে একাধিকবার শালিস বৈঠক হয়েছে। কিন্তু সবশেষ, এইবার আমার মেয়েকে যৌতুকের টাকার জন্য মারধর করে মেরে ফেলছে। আমার মেয়েকে তো আর ফিরে পাব না, কিন্তু আমি এ হত্যার দৃষ্টান্তমূলক বিচার দেখে যেতে চাই।’
তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমান বলেন, ‘এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা হয়েছে। আমরা মামলাটি তদন্ত করতেছি। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সব আসামিকে আইনের আওতায় আনা হবে। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি।’