বরিশাল নগরীর রূপাতলী বাস টার্মিনালকে কেন্দ্র করে পরিবহন সেক্টরে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির অপচেষ্টার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছে পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতারা।
তারা দাবি করছেন, সাম্প্রতিক একটি মারামারির ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি কুচক্রী মহল চাঁদাবাজির মিথ্যা অভিযোগ ছড়িয়ে পরিবহনখাতে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করছে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুরে নগরীর রূপাতলী এলাকায় লিলি পেট্রোল পাম্প সংলগ্ন আল-নসিব ম্যানশন ভবনের তৃতীয় তলায় বরিশাল জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। বরিশাল বিভাগীয় সড়ক পরিবহন মালিক সমন্বয় পরিষদের আয়োজনে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন, পরিষদের সভাপতি ও বরিশাল মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব মো. জিয়াউদ্দিন সিকদার জিয়া।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বরিশাল জেলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন, ঝালকাঠি জেলা মালিক সমিতির সভাপতি মো. আনিসুর রহমান তাপু, ঝালকাঠি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি টিপু সুলতানসহ দুই জেলার পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা।
সংবাদ সম্মেলনে মো. জিয়াউদ্দিন সিকদার জিয়া বলেন, বরিশাল সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপ প্রায় ৪০ বছর ধরে সুনামের সাথে পরিবহন ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। পরিবহনখাতে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে মালিক ও শ্রমিকরা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। শিক্ষার্থীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে বিভিন্ন রুটে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অর্ধেক ভাড়ায় যাতায়াতের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে এবং আহত যাত্রীদের অনেক ক্ষেত্রে বিনা ভাড়ায় চলাচলের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
তিনি বলেন, রূপাতলী বাস টার্মিনাল থেকে বরিশাল-খুলনা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, কুয়াকাটা, বরগুনা, পটুয়াখালী, বাউফল, আমতলী, তালতলী, দশমিনা, বাকেরগঞ্জ ও নিয়ামতিসহ বিভিন্ন রুটে প্রায় পাঁচ শতাধিক বাস নিয়মিত চলাচল করছে এবং এসব রুটে কোনো ধরনের চাঁদাবাজির অভিযোগ নেই।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ৮ মার্চ সন্ধ্যায় ঝালকাঠি জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির একটি বাস রূপাতলী বাস টার্মিনালে যাত্রী নামানোর সময় অবৈধ অটোচালকদের সাথে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে মারামারির ঘটনা ঘটে। তবে ওই ঘটনার সাথে বরিশাল জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির কোনো সদস্য জড়িত ছিলেন না বলে দাবি করেন নেতারা।
ঘটনার পর বরিশাল ও ঝালকাঠি জেলার মালিক সমিতি এবং শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাদের মধ্যে আলোচনা করে পরিস্থিতি সমাধান করা হয়েছে। এর ফলে ৯ মার্চ থেকে সংশ্লিষ্ট রুটে বাস চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে মো. জিয়াউদ্দিন সিকদার জিয়া বলেন, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক। কিন্তু উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।