ফ্যামিলি কার্ড বর্তমান সরকারের একটি বড় সাফল্য: প্রতিমন্ত্রী পুতুল

এফএনএস (এ.কে. আজাদ সেন্টু; লালপুর, নাটোর) :
| আপডেট: ১১ মার্চ, ২০২৬, ০১:২০ পিএম | প্রকাশ: ১১ মার্চ, ২০২৬, ০১:২০ পিএম
ফ্যামিলি কার্ড বর্তমান সরকারের একটি বড় সাফল্য: প্রতিমন্ত্রী পুতুল

বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি সরকার গঠনের মাত্র ১৫ দিনের মাথায় চালু করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল। তিনি বলেন, “সেই ফ্যামিলি কার্ড নিয়েই আজ আমি আপনাদের মাঝে এসেছি। ধাপে ধাপে পাঁচটি পর্যায়ে সারা দেশের মানুষের মাঝে এই কার্ড বিতরণ করা হবে। দল-মত, ধর্ম বা বর্ণ-কোনো কিছুই এই কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে বাধা হবে না।” তিনি আরও বলেন, ফ্যামিলি কার্ড বর্তমান সরকারের একটি বড় সাফল্য।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ ২০২৬) বিকেলে নাটোরের লালপুর উপজেলার গৌরীপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে আয়োজিত ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নাটোরের জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন। প্রতিমন্ত্রী জানান, পরীক্ষামূলকভাবে সারাদেশে ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারীপ্রধান পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় নির্বাচিত করা হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঢাকার কড়াইল এলাকায় এই কর্মসূচির উদ্বোধন করার পরপরই নির্বাচিত পরিবারগুলোর মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক হিসাব নম্বরে আর্থিক সহায়তা পাঠানো হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় নাটোরের লালপুর উপজেলার ২ নম্বর ঈশ্বরদী ইউনিয়নের গৌরীপুর গ্রামে ৩৭৮ জন উপকারভোগীর মাঝে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা হয়। ইতোমধ্যে প্রত্যেক উপকারভোগীর মোবাইল ব্যাংকিং বা ব্যাংক হিসাব নম্বরে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে সহায়তা পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও জানান, আগামী মাসে পর্যায়ক্রমে আরও ৩৭ থেকে ৫০ হাজার পরিবারের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড সেবা সম্প্রসারণ করা হবে। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের বিভাগীয় পরিচালক সৈয়দ মোস্তাক আহমেদ, নাটোরের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আব্দুল ওয়াহাব এবং লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জুলহাস হোসেন সৌরভ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবির হোসেন, লালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মজিবর রহমান, নাটোর জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান, লালপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা নাজমুল খাঁন, নাটোর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান আসাদ, লালপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হারুনার রশিদ পাপ্পু, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও বিলমাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান সিদ্দিক আলী মিষ্টু, গোপালপুর পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও পৌরসভার সাবেক মেয়র নজরুল ইসলাম মোল্লা, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আব্দুস সালাম, লালপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আশরাফুল আলম লুলু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম রবি, ঈশ্বরদী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি রফিকুল আলম ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল আজিজ রনজু, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক রায়হান কবির সুইট, যুগ্ম আহ্বায়ক আবু রায়হান সহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও উপকারভোগী নারীরা। অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত সবার মাঝে ইফতার বিতরণ করা হয়। পরে প্রতিমন্ত্রী মঞ্চ থেকে নেমে মাঠে বসে সাধারণ মানুষের সঙ্গে ইফতার ও দোয়া মাহফিলে অংশ নেন। এ সময় উপকারভোগী নারীদের মুখে আনন্দ ও সন্তুষ্টির ছাপ দেখা যায়।