সিলেটে অপহরণ ও ছিনতাই মামলায় ছেলে গ্রেফতার হওয়ার পর সিলেট মহানগর বিএনপির ১৬নং ওয়ার্ড শাখার সাধারণ সম্পাদক রুমান আহমদ স্বেচ্ছায় পদ থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) তিনি মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী ও সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ আহমদ চৌধুরী-এর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। রেজাউল হাসান কয়েস লোদী জানান, গ্রেফতারের পর রুমান আহমদের ছেলে ফারদিন আহমদের সঙ্গে স্থানীয় বিএনপির অনেক নেতার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে পড়েন রুমান আহমদ। দলের ভাবমূর্তি যাতে ক্ষুণ্ণ না হয়, সে কারণেই তিনি স্বেচ্ছায় পদ থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন। পদত্যাগপত্রে রুমান আহমদ উল্লেখ করেন, তার ছেলে নির্দোষ এবং আদালতে তা প্রমাণিত হবে বলে তিনি আশা করেন। ভবিষ্যতে যদি তার ছেলের নির্দোষিতা প্রমাণিত হয়, তাহলে আবারও দলের দায়িত্বে ফিরে আসার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন তিনি। তিনি আরও বলেন, তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-এর আদর্শ ও নিয়মকে শ্রদ্ধা করেন এবং কোনো ব্যক্তিগত বা পারিবারিক কারণে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হোক তা চান না। এই নৈতিক অবস্থান থেকেই তিনি সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। উল্লেখ্য, গত শনিবার (৮ মার্চ) নগরীর তাঁতিপাড়া এলাকার নাজমা নিবাস নামের ৫৬ নম্বর বাসায় অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে ১০ জনকে আটক করা হয় এবং এক প্রবাসীসহ দুই ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়। আটক ১০ জনের মধ্যে একজন হলেন হাওয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা রুমান আহমদের ছেলে ফারদিন আহমদ (১৮)। তাকে গ্রেফতারের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সিলেট বিএনপির বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতার সঙ্গে তার ছবি ছড়িয়ে পড়ে। এতে রুমান আহমদ বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েন এবং একপর্যায়ে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তবে তিনি দাবি করেছেন, তার ছেলে ফারদিন নির্দোষ।