বেকারদের জীবনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন

জাতীয় যুব পদকে ভূষিত করার দাবী কিশোরগঞ্জবাসীর

এফএনএস (আমিনুল হক সাদি; কিশোরগঞ্জ) : | প্রকাশ: ১১ মার্চ, ২০২৬, ০৬:৪৪ পিএম
জাতীয় যুব পদকে ভূষিত করার দাবী কিশোরগঞ্জবাসীর

সমাজসেবা ও যুব উন্নয়নে নিরলস অবদান রাখা এক যুব সংগঠকের নাম সাদী। পুরো নাম মোঃ আমিনুল হক সাদী। সমাজ কল্যাণে ও যুব উন্নয়নে নিবেদিত এক দিপ্ত যুবক।  তিনি কিশোরগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার মহিনন্দ ইউনিয়নের গোয়ালাপাড়া গ্রামের একজন সফল যুব সংগঠক, সমাজকর্মী ও প্রশিক্ষক। যিনি স্থানীয় বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের উন্নয়নে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি বেকার যুবক-যুবতীদের দক্ষ করে গড়ে তোলা এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখছেন।

জানা গেছে ২০০৪ সালে সারা দেশে যখন বন্যা প্লাবিত তখনকার দুর্যোগ সময়ে একটু কর্মশিক্ষার খোঁজে হন্য হয়ে ঘুরছিলেন। স্থানীয় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরে গিয়ে নোটিশ বোর্ডে একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানতে পারেন বেকার যুবদেরকে সরকার বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ দিয়ে স্বাবলম্বী করে থাকেন। তাই বেকারদের কর্মসংস্থানের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের প্রতি উদ্বুদ্ধ হয়ে “কিশোরগঞ্জ যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র” হতে “গবাদী পশু, হাঁস মুরগী, ডেইরী ফার্ম,কৃষি ও প্রাথমিক চিকিৎসার উপর” তিন মাসের আবাসিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। তিন মাসের এই প্রশিক্ষণলব্দ জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে কর্মজীবনে যাত্রা শুরু করেন। 

দীর্ঘ পথচলায় নিজে স্বাবলম্বী হয়েও থেমে যাননি। আশপাশের বেকার যুবদের কল্যাণে নিবেদিত হয়ে পড়েন। ২০১০ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন “যুব উন্নয়ন পরিষদ” যা ২০২০ সালে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিবন্ধন লাভ করে। তার নেতৃত্বে সংগঠনটি জেলার ১৩টি উপজেলায় কার্যক্রম বিস্তৃত করেছে, বর্তমানে ৫০০-এর বেশি সদস্য সক্রিয়ভাবে সমাজসেবায় নিয়োজিত।

যুব সংগঠক আমিনুল হক সাদী বলেন, আমি প্রথমে মাদরাসা পর্যায়ে কওমী পরে আলীয়া নেসাবে সর্বোচ্চ স্তর পড়াশোনা সম্পন্ন করি। মাদরাসার পড়াশোনা সম্পন্ন হলে কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ গুরুদয়াল সরকারী কলেজ থেকে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ে ২০১৯ সালে মাস্টার্স পাস করি। সর্বোচ্চ পড়াশোনা করলেও সরকারী চাকুরীর দিকে না তাকিয়ে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিস থেকে  প্রথম দফায় ৬০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে ‘সাদী সমন্বিত কৃষি খামার’ গড়ে তুলি। এরপর আমার পিছনে ফিরে থাকাতে হয়নি। এই প্রকল্পের মাধ্যমে পুকুরে মৎস্য চাষ, নিজস্ব জমিতে সামাজিক বনায়ন ও কৃষি জমিতে ধান উতপাদন করি এবং বাড়ির আঙ্গিনায় পতিত জমিতে পারিবারিক পুষ্টি বাগান দিয়ে প্রচুর শাক শবজি উৎপাদন করে আমিষের ঘাটতি পুরণ ও আর্থিকভাবে লাভবান হই। বর্তমানে আমার প্রতিষ্ঠিত সংগঠনের ৫ শতাধিক সদস্যের একটি বিশাল টিম সমাজকর্মে কাজ করে যাচ্ছেন।  সংগঠনটি জেলার তেরটি উপজেলায় শাখা কমিটি গঠন করে সমাজকল্যাণে ও যুব নেতৃত্বে গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

যুব সংগঠক আমিনুল হক সাদী বর্তমানে তিনি “যুব উন্নয়ন পরিষদের” সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এলাকায় সাদীর যুব কর্মে উদ্বেলিত হয়ে আরও দশটি যুব সংগঠন,অর্ধ শতাধিক লাইব্রেরীসহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানও গড়ে উঠে। তাঁর যুবকর্মের স্বীকৃতি হিসেবে প্রথমে মহিনন্দ ইউনিয়ন,পরে সদর উপজেলা প্রশাসন, পরবর্তীতে জেলা প্রশাসন থেকে জেলা পর্যায়ে এমনকি জাতীয়ভাবেও শ্রেষ্ঠ যুব সংগঠক হিসেবে পেয়েছেন সম্মাননার স্বীকৃতি সনদ ও পুরস্কার।  যেকেনো দুর্যোগ মোকাবেলায় স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে পালন করেন অনন্য ভূমিকা। জাতীয় যুব দিবসসহ রাষ্ট্রীয় দিবস সমূহ উদযাপন ও যুব নেতৃত্বে রাখেন বিরাট অবদান। ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব এর সময় আমিনুল হক সাদী নিজ এলাকার যুবদের একত্রিত করে সাহসী ভূমিকা রাখেন। পুলিশের গুলিতে আহত শিক্ষার্থী জুনায়েদ এবং গুলিবিদ্ধ সমাজকর্মী যুবদল নেতা মাসুম বিল্লাহ, আহত জুলাই যোদ্ধা শফিকুল ইসলাম নাঈমসহ সরকারী বেসরকারী কর্মকর্তা ও বিভিন্ন সামাজিক কাজে স্বীকৃতিস্বরুপ ১০০ শত জন গুনী ব্যক্তিকে  সংগঠনটির উদ্যোগে সম্মাননা ক্রেস্টও প্রদান করেছেন। সেই সঙ্গে সংগঠনের পক্ষ থেকে আহতদের সম্মাননা প্রদান করেন। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের আওতায় পরিচালিত যুব কল্যাণ তহবিল থেকে যুব কার্যক্রমের স্বীকৃতি স্বরুপ সংগঠনটি ২০২৩ সালে অনুদান পেয়েছেন ৪০ হাজার টাকা। এ অনুদানের টাকা দিয়ে “সাদী সমন্বিত কৃষি খামার” প্রকল্পটিকে আরও সম্প্রসারণ করেছেন। এই প্রকল্পের মাধ্যমে পুকুরে মৎস্য চাষ ও বিনামূল্যে ৫ হাজার গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে। সংগঠনের কার্যক্রমের মাধ্যমে এলাকায় ব্যাপকভাবে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। সমাজকর্মী আমিনুল হক সাদীর সফলতা দেখে এলাকার বেকার যুবরাও কর্মসংস্থানের দিকে ধাবিত হচ্ছে। তার প্রচেষ্টায় ৩ হাজার বেকার যুবক-যুবতী প্রশিক্ষণের আওতায় এসেছে, যার মধ্যে ৩০০ জন স্বাবলম্বী হয়েছেন। সরকারি-বেসরকারি চাকরিতে নিয়োগ পেয়েছেন ১০ জন, বিদেশে কর্মসংস্থান হয়েছে আরও ১০ জনের। তার ‘সাদী সমন্বিত কৃষি খামার’-এর মাধ্যমে নিজস্ব উদ্যোগে পুকুরে মাছ চাষ, সামাজিক বনায়ন এবং পারিবারিক পুষ্টি বাগান চালু করেছেন। তার প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত ২জন ও প্রকল্পের কাজে ৫জন শ্রমিকের কর্ম সংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন। যুব কার্যক্রমের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে উৎপ্রোতভাবে জড়িত থেকে বিরল অবদান রেখে আসছেন। সমাজ কল্যাণমুলক কর্মকান্ডে সাদী ও তার সংগঠন সবচে এগিয়ে রয়েছেন। বিশেষ করে করোনাকালে ১ হাজার দারিদ্র মানুষকে করোনার টিকা বিনামূল্যে রেজি: করে দিয়েছেন। ১০ হাজার মাস্ক হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও বিপুল পরিমান ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেছেন। সাম্প্রতিককালে ৫ শতাধিক শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে টাইফয়েড টিকাদানের নিবন্ধন করে দিয়েছেন। গ্রামে গ্রামে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করে স্বাস্থ্যসেবাও রেখেছেন অনন্য অবদান। কয়েক শতাধিক দরিদ্র ও ৫জন প্রতিবন্ধীদেরকে হুইল চেয়ার প্রদান, ১০জন নারীকে সেলাই মেশিন প্রদানসহ দরিদ্রদের মধ্যে কয়েক লক্ষাধিক নগদ অর্থ বিতরণ করেছেন। ১০ হাজার শীতার্তদেরকে শীতবস্ত্র বিতরণ করেছেন। দুকি গণশিক্ষা কেন্দ্রে  কোমলমতি শিশুদেরকে দক্ষ শিক্ষকের মাধ্যমে বিনামূল্যে পাঠদান করে গ্রামীন পর্যায়ে শিক্ষার  আলো ছড়িয়ে দিয়েছেন।  বেকার যুবদের জন্য যুব প্রশিক্ষণ সেন্টার, বয়স্কদের জন্য বয়স্ক শিক্ষা কার্যক্রমও পরিচালনা করেন। ব্যক্তি উদ্যোগে একটি পাঠাগারও প্রতিষ্ঠা করেছেন। এ পাঠাগারে ৫ হাজার বইয়ের মাধ্যমে উপকার পাচ্ছে গ্রামীণ সমাজ। অবসর সময়ে  শিশু থেকে কিশোর বয়স্কসহ সকল শ্রেণি পেশার পাঠকরা বই পড়ে জ্ঞানের আলো বিকিরণ করছেন। তাঁর সংগঠনের ব্যানারে নানা বিষয়ে বেকার যুব সম্প্রদায়কে প্রশিক্ষণ প্রদান করে দক্ষ জনবল হিসেবে গড়ে তোলেছেন। সংগঠনটি যুব নেতৃত্ব বিকাশে রয়েছেন সক্রিয়। যা এখন কর্মসংস্থানের একটি মডেল। যুব সংগঠক সাদী কিশোরগঞ্জ জেলা পর্যায় থেকে শুরু করে জাতীয়ভাবে বিভিন্ন সভা সেমিনারে ট্রেনিং ওয়ার্কশপে অংশ গ্রহণ করে প্রবন্ধ উপস্থাপন ও সার্টিফিকেট অর্জন করেছেন শতাধিক। আন্তর্জাতিক যুব সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ইয়ুথ সামিটের সদস্য হিসেবে বাংলাদেশ কান্ট্রি চ্যাপ্টারের অধীনেও যুবদের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। 


আমিনুল হক সাদী স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে খেলাধুলা, বিতর্ক, রচনা প্রতিযোগিতা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে অংশ গ্রহণ করে পেয়েছেন শতাধিক পুরস্কার ও সনদ। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর কর্তৃক আয়োজিত প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণ করে জেলার মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করে ক্রেষ্ট ও নগদ টাকার প্রাইজবন্ড পেয়েছেন। এছাড়াও অনেক সামাজিক সাংস্কৃতিক সাহিত্যিক এবং সরকারী বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে ৫০টি সনদ ও পুরস্কার লাভ করেছেন। যুবকর্মে অনন্য অবদান রাখায় তিনবার কিশোরগঞ্জ জেলায় শ্রেষ্ঠ সংগঠক হিসেবে সম্মাননা সনদও পেয়েছেন। একজন সফল সংগঠক আমিনুল হক সাদীর প্রতিষ্ঠিত যুব সংগঠন আরও যেসব বিষয়ে কাজ করে যাচ্ছে তা ’হলো যুব নেতৃত্ব বিকাশে ভূমিকা, জীবিকার জন্য দক্ষতামূলক কার্যক্রম, নিরক্ষরতা দূরীকরণ,কারিগরি প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি উন্নয়ন, কর্মসংস্থানের নতুন ক্ষেত্র উদ্ভাবন, প্রাকৃতিক সম্পদের সদ্ব্যবহারের প্রতি মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ, পরিবেশ সংরক্ষণ ও বৃক্ষ রোপন এবং পরিবেশ দূষন রোধে প্রচারণা, জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টি, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা, স্থানীয় সরকারের সাথে মিলে আইনশৃংখলা পরিস্থিতি উন্নয়নে অবদান, ধূমপান ও মাধকবিরোধী কর্মকান্ড, সন্ত্রাস ও অন্যন্য সমাজবিরোধী কর্মকান্ড প্রতিরোধ কার্যক্রমে অংশ গ্রহণ, মা ও শিশু স্বাস্থ্য, প্রজনন স্বাস্থ্য, এসটিডি এইডস সচেতনতা, স্যানিটেশন কার্যক্রমে অবদান, বায়োগ্যাস প্রকল্পে উদ্বুদ্ধকরণ, পরিষ্কার পচ্ছিন্নতা কার্যক্রম, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় অংশ গ্রহণ, বাল্য বিবাহ, বহু বিবাহ যৌতুক বিরোধী আন্দোলন, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড,সমাজ উন্নয়নমুলক কাজে অবদান, দেশীয় সম্পদের সদ্ব্যবহার, নিজস্ব শ্রম ও মেধার প্রয়োগে যুব নেতৃত্ব বিকাশে তিনি নিরলসভাবে করে যাচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকে প্রত্যয়ন পেয়ে এসব কাজের আরও স্বীকৃতি লাভ করেছে। তিনি যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মাধ্যমে জাতীয় যুব উন্নয়ন ইনিস্টিউট সভার, ঢাকা থেকে যুব বিণিময় কর্মসূচি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। ওই প্রতিষ্ঠান থেকে গত ২৭ জুন থেকে ১ জুলাই ২০২২ ইং ৫ দিন ব্যাপী দেশের ৬৪ টি জেলা থেকে আগত যুব প্রতিনিধিদের নিয়ে যুব মিনিময় কর্মসূচীতে কিশোরগঞ্জ জেলা থেকে অংশগ্রহণকারী যুব সংগঠক হিসেবে প্রশংসিত হয়েছেন। তিনি সেরাদশে তৃতীয় বক্তা হিসেবে জাতীয় যুব উন্নয়ন ইনিস্টিউট কর্তৃপক্ষ পুরস্কার পেয়েছেন। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর কর্তৃক প্রশিক্ষণ বিষয়ের বাস্তব অভিজ্ঞাতার আলোকে কিশোরগঞ্জ জেলা, উপজেলাসহ তৃনমূল পর্যায়ে বেকার যুবদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যোগ্য আত্মকর্মী ও স্বাবলম্বী হওয়ার পরামর্শ ও সহযোগিতা করে আসছেন। আমিনুল হক সাদী বলেন,আমার পথচলাটার শুরুটা ছিলো খুবই কঠিন পরিস্থিতিতে। নানা প্রতিকূল অবস্থা অতিক্রম করে আজ দের যুগ অতিক্রম করছে আমার প্রতিষ্ঠিত “যুব উন্নয়ন পরিষদ”টি। সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে যাদের সহায়তা পেয়েছি তারা হলেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কর্মকর্তাগণ,আমি তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞ। 

আদর্শ যুব সংস্থার সভাপতি মোঃ মুহিবুল হাসান বলেন, আমরা ২০১৭ সালে একটি যুব সংগঠন প্রতিষ্ঠার কাজে সাদী ভাইয়ের কাছে গেলে তিনি সার্বিক সহযোগিতা করে আমাদেরকে কৃতার্থ করেছেন। তিনি বেকার যুব সমপ্রদায়ের উন্নয়নে আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। যুব নেতৃত্ব বিকাশে অনন্য ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন। আমাদের সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টাসহ আরও অনেক যুব সংগঠনের উপদেষ্টা হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন। এই তারুণ্যদীপ্ত সফল যুব সংগঠকের আমরা আরও উন্নতি কামনা করি। 

মহিনন্দ ৩নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক বাবুল বলেন, আমাদের জানা মতে তিনি ছোট বেলা থেকেই বিভিন্ন উন্নয়নমূলক সামাজিক কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়েন। সমাজ ও রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতায় স্থানীয় ও দেশের জাতীয় অনেক সংগঠনের দায়িত্ব নিয়ে সফলতার সাথে কাজ করে আসছেন। বহু প্রতিভাধর যুব সংগঠক আমিনুল হক সাদীর কৃতিত্বের জন্য তাকে আমাদের সংগঠনের পক্ষ হতে সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। তার প্রতিষ্ঠিত যুব সংগঠনসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান এতদাঞ্চলের বেকার জনগোষ্ঠীর আত্মসামাজিক উন্নয়নে যথেষ্ট অবদান রেখে যাচ্ছে। এই প্রতিভাধর সংগঠককে জাতীয়ভাবে পুরস্কার দেওয়া হলে আরও সে উৎসাহিত হতো।

 কিশোরগঞ্জ জেলা কৃষকদলের যুগ্ন আহবায়ক জাতীয় যুব পদক ২০১৩ প্রাপ্ত নুরুল আরেফিন লিংকন বলেন, যুব সংগঠক আমিনুল হক সাদী আমার ফার্ম নিয়ে অনেক প্রতিবেদন তৈরী করে এলাকার বেকার যুবদের মধ্যে পোল্ট্রি শিল্পের প্রসারে অনন্য ভূমিকা রেখেছেন। তার প্রতিষ্ঠিত যুব সংগঠনের প্রশিক্ষিত সদস্যরা আমার ফার্মে এসে হাতে কলমে শিক্ষা নিয়ে তারা নিজেরা স্বাবলম্বী হয়েছেন। দক্ষ যুব সংগঠক আমিনুল হক সাদীকে জাতীয়ভাবে স্বীকৃতি প্রদান করা এখন সময়ের দাবী।  কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো: নজরুল ইসলাম মিয়া বলেন, যুব সংগঠক আমিনুল হক সাদীর প্রতিষ্ঠিত যুব উন্নয়ন পরিষদকে আমরা নিবন্ধন দিয়েছি। তার সংগঠনের উদ্যোগে বেকার যুব-যুব নারীদেরকে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ও বিভিন্ন সামাজিক কাজ বাস্তবায়ন করে আসছে। এ সংগঠনের মাধ্যমে শিশু, যুব ও বয়স্ক শিক্ষা কেন্দ্র চালু রয়েছে। 

কিশোরগঞ্জ যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো: রফিকুল ইসলাম শামীম বলেন, যুব সংগঠক আমিনুল হক সাদীর প্রতিষ্ঠিত যুব উন্নয়ন পরিষদ নামের সংগঠনটি একাধিকবার পরিদর্শনে গিয়েছি। তাঁর কার্যক্রম দেখে খুব ভালো লেগেছে। স্থানীয়ভাবে যুব কার্যক্রম বাস্তবায়নে ও সামাজিক উন্নয়ন সচেতনতামূলক কাজে এ সংগঠনটির উদ্যোগ প্রশংসনীয়। জেলায় যুব কার্যক্রমে অবদান রাখায় তাকে শ্রেষ্ঠ সংগঠক হিসেবে সনদ প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া সংগঠনটি কর্তৃক একটি পাঠাগার পরিচালিত হয় যা স্থানীয় পর্যায়ে বেশ জনপ্রিয়। আমি এই যুব সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা আমিনুল হক সাদীসহ সংগঠনটির সার্বিক কল্যাণ কামনা করি।

আমিনুল হক সাদীর নেতৃত্বে পরিচালিত ‘যুব উন্নয়ন পরিষদ’ যুব সমাজের জন্য রোল মডেল। তার কর্মপরিকল্পনা, পাঠাগার নির্মাণ এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বেকারদের জীবনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। কিশোরগঞ্জের সচেতন মহল মনে করেন, আমিনুল হক সাদী 'জাতীয় যুব পদক ২০২৬'-এর যোগ্য দাবিদার।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে