হুমকিতে দক্ষিণাঞ্চলের নৌ-যোগাযোগ

এফএনএস (বরিশাল প্রতিবেদক) : | প্রকাশ: ১২ মার্চ, ২০২৬, ১১:৩২ এএম
হুমকিতে দক্ষিণাঞ্চলের নৌ-যোগাযোগ

নাব্যতা সংকটে হুমকির মুখে পরেছে বরিশালসহ গোটা দক্ষিণাঞ্চলের নৌ-যোগাযোগ। গত তিন অর্থবছরে প্রায় ৯০ লাখ ঘণমিটার নদীখনন করা হলেও কোনো সুফল মিলছে না। ফলে একদিকে যেমন বেড়েছে জ্বালানি খরচ তেমনি সময়। তাই ড্রেজিংয়ের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সংশ্লিষ্টরা। ফলে নিরাপদ ঈদযাত্রা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, কীর্তনখোলা নদীর চরবাড়িয়া অংশে জেগে উঠেছে এক বিশাল চর। ফলে বিকল্প হিসেবে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে নৌযানগুলোকে। শুধু চরবাড়িয়া অংশই নয় বামনী, মিয়ারচর ও লালুর চরের মতো গুরুত্বপূর্ণ ৮/১০টি স্থানে পানির গভীরতা এখন ৪ থেকে ৫ ফুটের নিচে। লঞ্চ মাস্টারদের অভিযোগ নামমাত্র ড্রেজিংয়ে কোনো সুফল মিলছে না বরং ভোগান্তির পাশাপাশি অপচয় হচ্ছে সময় ও জ্বালানীর। ঢাকা-বরিশাল নৌরুটে চলাচল করা এমভি শুভরাজ-৯ লঞ্চের মাস্টার বেলাল হোসেন জানিয়েছেন, এ নৌরুটের শুধু বরিশাল জেলার নদী অতিক্রমকালে ৮ থেকে ১০ স্থানে নাব্যতা সংকটে পরতে হয়। এতে যেমন ভোগান্তিতে পড়তে হয়, তেমনি সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছানো হয়ে পরে কষ্টসাধ্য। অভ্যন্তরীণ নৌরুটের চালকরা জানিয়েছেন, প্রতি বছরই নদীতে ড্রেজিং হয় কিন্তু তা কোনো কাজেই আসে না। আর ভোগান্তি নিত্যদিনের সঙ্গী। নাব্যতা সংকটের কারণে দুই ঘণ্টার পথ পাড়ি দিতে সময় লাগে তিন ঘণ্টারও বেশি। ফলে যাত্রীদের সাথে বাগবিতন্ডা লেগেই থাকে। ড্রেজিং বিভাগের বরিশালের নথি সূত্রে জানা গেছে, গত তিন অর্থবছরে বরিশাল বিভাগে নদীখনন করা হয়েছে প্রায় ৯০ লাখ ঘণমিটার। যারমধ্যে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে খনন হয়েছে ৩১ লাখ ঘণমিটার, ২০২২-২৩ অর্থবছরে খনন হয়েছে ২৫ লাখ ঘণমিটার, আর ২০২৪-২৫ অর্থবছরে খনন করা হয়েছে ২৯ লাখ ঘণমিটার। এর পেছনে ব্যয় হয়েছে প্রায় অর্ধশত কোটি টাকা। কিন্তু তারপরেও মিলছে না প্রকৃত সুফল। ড্রেজিং বিভাগ বরিশালের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন উর রশিদ জানিয়েছেন, ড্রেজিং করা হয় পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের নির্দেশনায়। সে অনুযায়ী চাহিদা অনুযায়ী ড্রেজিং কার্যক্রম চলমান থাকে। নৌপথ স্বাভাবিক রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলমান রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন বরিশালের সমন্বয়কারী মো. রফিকুল আলম জানিয়েছেন, ক্যাপিটাল ও মেইনটেইনেন্স ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে সমন্বয় করে কাজ করলে সুফল পাওয়া যেতে পারে। তবে ড্রেজিং প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ী কৌশলের কারণে অনেকক্ষেত্রে তা সম্ভব হয়ে ওঠেনা। এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যানুযায়ী, বরিশাল বিভাগের ৪২টি নদ-নদীর ৬২৯ কিলোমিটার এলাকায় ডুবোচর সৃষ্টি হয়েছে; যা নদীগুলোর স্বাভাবিক প্রবাহকে বাঁধাগ্রস্ত করছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে