পাবনার ভাঙ্গুড়ায় জরিনা রহিম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের কম্পিউটার শিক্ষিকা হাসিনা হোসেনের কম্পিউটার ব্যবহারে অদক্ষতার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের তদন্তে সত্যতাও মিলেছে। পরে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ বিষয়ে প্রতিবেদন রাজশাহী আঞ্চলিক শিক্ষা অফিসের উপ-পরিচালকের নিকট প্রেরণ করেছেন। এছাড়া ওই শিক্ষিকার নিয়োগকালীন সময়ের কম্পিউটার সনদ নট্রামসের নয় বলে লিখিতভাবে জানিয়েছে কতৃপক্ষ। বিদ্যালয় ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের অনিয়ম- দুর্নীতির অভিযোগে গত ৩০ ডিসেম্বর তদন্তে আসেন রাজশাহীর আঞ্চলিক উপ-পরিচালক মো. আব্দুর রশিদ। এ সময় শিক্ষিকা হাসিনা হোসেনের কম্পিউটার ব্যবহারে অদক্ষতার কারণে তিরস্কার করার পাশাপাশি সরজমিনে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে নির্দেশ দেন। সে নির্দেশ মোতাবেক সম্প্রতি তদন্ত করে প্রতিবেদন পাঠান ওই কর্মকর্তা। সূত্র জানায়, তদন্তে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হাসিনা হোসেনকে ১৫ মিনিটে ২৫০ ওয়ার্ডের ইংরেজি শব্দ লিখতে দেন, এরপর বাংলা লিখতে দেন, পরে ক্লাস কনটেন্ট তৈরি করতে বলেন। কিন্তু ঐ শিক্ষিকা ১৫ মিনিটে ইংরেজিতে চল্লিশটি ওয়ার্ড লিখতে পারলেও বাংলা লেখা এবং কনটেন্ট তৈরিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এ সময় তিনি বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তিতে অপারগ বলে স্বীকার করেন এবং এসব বিষয়ে শেখার জন্য মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে সময় চান। এছাড়া হাসিনা হোসেনের কম্পিউটার সনদ যাচাই বাছাই পত্রে নট্রামস (বর্তমানে নেকটার) কর্তৃপক্ষ জানান যে, হাসিনা হোসেনের কম্পিউটার প্রশিক্ষণের সনদটি তাদের প্রতিষ্ঠান থেকে দেওয়া হয়নি। এটি ভাঙ্গুড়া বাজারের শরৎনগর রেইনবো কম্পিউটার সিস্টেম নামে একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের নামে দেয়া হয়েছে। অথচ ১৯৯৫ সালের এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী কম্পিউটার শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে অবশ্যই নট্রামস অথবা সরকার নির্ধারিত প্রতিষ্ঠান থেকে সনদধারী হতে হবে। এ বিষয়ে রেইনবো কম্পিউটার সিস্টেমের প্রশিক্ষক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, হাসিনা হোসেন নট্রামসের সার্টিফিকেটের জন্য প্রশিক্ষণ দেয় নি। তিনি আমার কাছ থেকে সার্টিফিকেট নিয়েছেন। অনেকেই কোম্পানিতে চাকরি করবেন বলে আমার কাছ থেকে সার্টিফিকেট নেন। কিন্তু এটা দিয়ে হাসিনা হোসেন যে শিক্ষকতার চাকরি করবেন সেটা আমার জানা ছিল না। এ বিষয়ে হাসিনা হোসেন বলেন, কম্পিউটারের বিষয়ে আমাকে কোন প্রশ্ন করে বিব্রত করবেন না। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন দপ্তর জানে বলে ফোন কেটে দেন। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আতিকুজ্জামান বলেন, উপ-পরিচালক স্যারের নির্দেশ মোতাবেক হাসিনা হোসেনের বিষয়ে তদন্ত করা হয়। এতে হাসিনা হোসেনের কম্পিউটার ব্যবহারের বিষয়ে চরম অদক্ষতা পাওয়া যায়। এ বিষয়ে প্রতিবেদন রাজশাহী আঞ্চলিক কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। রাজশাহী আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. আব্দুর রশিদ বলেন, ওই শিক্ষিকার বিষয়ে প্রতিবেদন পেয়েছি। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।