চোরের মুখে ধর্মের কাহিনী

দুর্নীতির প্রতিবাদে মানববন্ধনে বরখাস্ত হওয়া বিতর্কিত অধ্যক্ষ

এফএনএস (জিন্নাতুল ইসলাম জিন্না; লালমনিরহাট) : | প্রকাশ: ১২ মার্চ, ২০২৬, ০৮:৫০ পিএম
দুর্নীতির প্রতিবাদে মানববন্ধনে বরখাস্ত হওয়া বিতর্কিত অধ্যক্ষ

লালমনিরহাট সিভিল সার্জন কার্যালয় ও রেলওয়ে বিভাগসহ বিভিন্ন সরকারি দফতরে দুর্নীতির প্রতিবাদে শহরের প্রাণকেন্দ্র মিশন মোড়ে ‘দুর্নীতিমুক্ত লালমনিরহাট চাই' বাস্তবায়ন কমিটি’র ব্যানারে এক মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। তবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে আয়োজিত এই মহতী কর্মসূচি চরম বিতর্কের মুখে পড়েছে খোদ দুর্নীতির দায়ে বরখাস্ত হওয়া ও বর্তমানেও অভিযুক্ত এক সরকারি কর্মকর্তার উপস্থিতির কারণে। এ নিয়ে স্থানীয় জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও হাস্যরসের সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেলে শহরের প্রাণকেন্দ্র মিশনমোড় গোল চত্বরে "দুর্নীতিমুক্ত লালমনিরহাট চাই" এর ব্যানারে এ মানব কর্মসূচি পালিত হয়। মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে হঠাৎ উপস্থিত হন লালমনিরহাট কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (টিটিসি) বর্তমান অধ্যক্ষ প্রকৌশলী মো. আইনুল হক। একজন স্বীকৃত ‘দুর্নীতিবাজ’ হিসেবে পরিচিত কর্মকর্তার এই অংশগ্রহণ দেখে উপস্থিত জনতা ও গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে চাঞ্চল্য ও গুঞ্জনের সৃষ্টি হয়। অনুসন্ধানে জানা যায়, লালমনিরহাট টিটিসির অধ্যক্ষ প্রকৌশলী আইনুল হকের অতীত আমলনামা আর্থিক দুর্নীতি ও অনিয়মে ভরপুর। ২০২১ সালে দিনাজপুর টিটিসি-তে থাকাকালীন বঙ্গবন্ধু ম্যুরাল ও বঙ্গবন্ধু কর্নার আধুনিকায়নের বরাদ্দকৃত অর্থ দিয়ে বিধি বহির্ভূতভাবে ব্যক্তিগত বাথরুম নির্মাণ ও ইলেকট্রিক সাবস্টেশন সংস্কারের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া সেমিনার না করেই ভুয়া বিল ভাউচার তৈরি এবং প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব থেকে টাকা আত্মসাতের দায়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছিল। পরবর্তীতে কুড়িগ্রাম ও বর্তমানে লালমনিরহাটে যোগদানের পরও তার বিরুদ্ধে অনিয়মের একাধিক সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। দুর্নীতিমুক্ত জেলা গড়ার আন্দোলনে একজন ‘দাগি’ কর্মকর্তার অংশগ্রহণকে ‘চোরের মুখে ধর্মের কাহিনী’র সঙ্গে তুলনা করছেন স্থানীয়রা। লালমনিরহাটের সচেতন নাগরিক আরিফুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের অবস্থানকে কলঙ্কিত করা হয়েছে। একজন স্বীকৃত দুর্নীতিবাজ যখন দুর্নীতির বিরুদ্ধে স্লোগান দেন, তখন এর চেয়ে লজ্জার আর কিছু হতে পারে না। লালমনিরহাটের দেশ টিভির সাংবাদিক জামাল বাদশা বলেন, যিনি দুর্নীতির দায়ে বরখাস্ত হয়েছিলেন এবং বর্তমানেও যাঁর বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে, তিনি যখন দুর্নীতিমুক্ত লালমনিরহাটের দাবিতে দাঁড়ান, তখন পুরো আন্দোলনটিই প্রশ্নবিদ্ধ হয়। আমরা এই ‘ভণ্ডামি’র তীব্র প্রতিবাদ জানাই।” এ বিষয়ে দুর্নীতিমুক্ত লালমনিরহাট চাই বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি জাকিউল হাসান সিদ্দিক রাসেল বলেন, টিটিসি অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অতীতের অভিযোগ আমাদের জানা ছিল না। তিনি নিজেই কর্মসূচিতে আসার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন।” তবে আয়োজকদের এই অসতর্কতা নিয়ে শহরের সচেতন মহলে কানাঘুষা চলছে। উল্লেখ্য, মানববন্ধনে বক্তারা লালমনিরহাট সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে জেঁকে বসা সিন্ডিকেট ও অনিয়ম নির্মূলে জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ দাবি করেন। তবে একজন বিতর্কিত কর্মকর্তার উপস্থিতির কারণে জনদাবির এই মহতী উদ্যোগটি শেষ পর্যন্ত সমালোচনার মুখে পড়েছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে