রংপুরের তারাগঞ্জে চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে জামাই-শ্বশুর নিহতের ঘটনায় মজিদুল ইসলাম (২৪) নামে আরও একজনকে গ্রেপ্তার হয়েছে। শুক্রবার (১৩ মার্চ) দিবাগত রাতে উপজেলার ফকিরপাড়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে ওই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার মজিদুল ইসলাম তারাগঞ্জ উপজেলার ফকিরপাড়া গ্রামের আলতাফ হোসেনের ছেলে। এ নিয়ে জামাই-শ্বশুর নিহতের ঘটনায় ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। শুক্রবার দুপুরে গণমাধ্যমে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে র্যাব-১৩’র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সিনিয়র সহকারী পরিচালক বিপ্লব কুমার গোস্বামী বিষয়টি নিশ্চিত করেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শুক্রবার দিবাগত রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাবের একটি আভিযানিক দল উপজেলার ফকিরপাড়া গ্রামে অভিযান চালায়। এ অভিযানে জোড়া হত্যা মামলার পলাতক আসামি মজিদুল ইসলামকে তার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। বিপ্লব কুমার গোস্বামী জানান, গত বছরের ৯ আগস্ট শনিবার দিবাগত রাতে তারাগঞ্জ উপজেলার সয়ার ইউনিয়নের বটতলা এলাকায় চোর সন্দেহে রূপলাল রবিদাস (৪০) ও প্রদীপলাল রবিদাসকে (৪৫) পিটিয়ে হত্যা করে একদল উচ্ছৃঙ্খল জনতা। এ ঘটনার পরদিন ১০ আগস্ট নিহত রূপলাল দাসের স্ত্রী ভারতী রানী বাদী হয়ে তারাগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাত ৫০০-৭০০ জনকে আসামি করা হয়। এদিকে, মামলার এজাহারে সূত্রে জানা গেছে, ৯ আগস্ট রাত সাড়ে ৮টার দিকে মিঠাপুকুরের ছরান বালুয়া এলাকা থেকে ভাগনির স্বামী প্রদীপ লালকে নিয়ে ভ্যানে করে বাড়ি ফিরছিলেন রুপলাল দাস। পথে সয়ার ইউনিয়নের বুড়িরহাট বটতলা মোড়ে স্থানীয় কয়েকজন তাদের গতিরোধ করে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। একপর্যায়ে প্রদীপের কাছে থাকা কালো ব্যাগ তল্লাশি করে একটি পানীয়ের বোতল ও ওষুধ পান। বোতলের ঢাকনা খোলার পর দুর্গন্ধে কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়লে উত্তেজিত জনতা দুজনকে বিদ্যালয়ের মাঠে নিয়ে গণপিটুনি দেয়। পরে তাদের উদ্ধার করে তারাগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে রুপলালকে মৃত ঘোষণা করা হয়। আর রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন ভোরে প্রদীপ লালের মৃত্যু হয়।