জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার একটি জামে মসজিদে ধর্ষণচেষ্টা মামলার আসামিকে খাদেম হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এক পক্ষ বুধবার সকাল ১১টা ক্ষেতলাল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে অনিয়ম ও প্রতারণার অভিযোগ তুলে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মসজিদ কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব আফাজ উদ্দিনের পুত্র শিক্ষক মাহবুব হোসেন। তিনি অভিযোগ করেন, কালাই উপজেলার জিন্দারপুর ইউনিয়নের পশ্চিম কুজাইল চক জামে মসজিদের খাদেম নিয়োগে কমিটির সভাপতিকে না জানিয়ে গোপনে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দীর্ঘদিনের খাদেমকে বাদ দিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি শিক্ষক মিজানুর রহমান, মসজিদ কমিটির সেক্রেটারির যোগসাজশে নিজের ভাই জুয়েল মন্ডলকে খাদেম হিসেবে নিয়োগ দেখিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে তার নাম পাঠান। তিনি আরও দাবি করেন, খাদেম হিসেবে নিয়োগ দেখানো বিতর্কিত জুয়েল মন্ডলের বিরুদ্ধে একটি ধর্ষণচেষ্টা মামলা চলমান রয়েছে, ওই মামলায় তিনি প্রায় ৪০ দিন কারাভোগ করেছেন। বিষয়টি জানাজানি হলে সাধারণ মুসল্লিদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয় এবং তা একপর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় কমিটির সভাপতিকে মারধর করে আহত করা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়। ঘটনার পর এ বিষয়ে আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, মামলা দায়েরের পর অভিযুক্ত পক্ষ মিজানুর রহমান ও তার ভাই জুয়েল প্রভাব খাটিয়ে বাদীপক্ষকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি দিচ্ছে, যার ফলে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান ভুক্তভোগী পক্ষ। এবিষয়ে মসজিদ কমিটির সেক্রেটারী জমির উদ্দীন বাবুর সঙ্গে মুটোফনে যোগাযোগ করে তাকে পাওয়া যায়নি। মিজানুর রহমান বলেন, আমাদের কমিটি সঠিক। মসজিদের সকল মুসল্লীদের মতামতের ভিত্তিতে খাদেমের নাম পাঠানো হয়েছে। তারাই আমাদের লোকজনকে মারধর করেছে। আমরা কাউকে হুমকি ধুমকি দেয়নি। এ বিষয়ে কালাই উপজেলা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সুপারভাইজার গোলাম রব্বানী জানান, মসজিদের খাদেম নিয়োগ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। উভয় পক্ষ থেকেই তালিকা পাঠানো হয়েছে। তদন্ত করে বৈধ কমিটির নাম অনুমোদন দেওয়া হবে।