‘হে মহাভাগ ব্রহ্মপুত্র, হে লৌহিত্য আমার পাপ হরণ কর’ এই মন্ত্রোচ্চারণের মধ্য দিয়ে পাপমুক্তির আশায় ব্রহ্মপুত্র নদের বুকে মহাষ্টমীর পবিত্র স্নানোৎসবে অংশ নিয়েছেন লাখো হিন্দু পুণ্যার্থী। বৃহস্পতিবার ভোর ৪টা ৫৫ মিনিটে তিথি শুরু হতেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত হাজার হাজার পুণ্যার্থী একযোগে স্নান শুরু করেন। ধর্মবিশ্বাস অনুযায়ী, এই দিনে ব্রহ্মপুত্রে স্নান করলে পাপমুক্তি ঘটে এবং অশেষ পুণ্য লাভ হয়। চৈত্র মাসের অষ্টম তিথি উপলক্ষে ভক্তরা স্নানমন্ত্র পাঠের পাশাপাশি ফুল, বেলপাতা, ধান, দুর্বা, হরীতকী, ডাব ও আমপাতা দিয়ে পিতৃপুরুষের উদ্দেশ্যে তর্পণ করেন। বুধবার বিকেল থেকেই পুণ্যার্থীদের আগমন শুরু হয়। ভোর হওয়ার আগেই চিলমারী বন্দর উপজেলার জোড়গাছ পুরাতন বাজার সংলগ্ন ব্রহ্মপুত্র তীরের উত্তর ও দক্ষিণে প্রায় ৫ কিলোমিটার জুড়ে বিভিন্ন ঘাটে ভিড় জমে যায়। লগ্ন শুরুর পরেই শুরু হয় স্নান। কে কার আগে স্নান করবে তা নিয়ে রীতিমত প্রতিযোগিতায় নামে পূণ্যার্থীরা। লগ্ন চলে বৃহষ্পতিবার বিকেল ২টা ৫৮ মিনিট পর্যন্ত। এ সময়ের মধ্যে পূণ্যার্থীরা স্নান করেন। লালমনিরহাটের কালিগঞ্জ থেকে স্নান করতে এসেছেন অর্ণব চন্দ্র রায় ও তাঁর স্ত্রী পুজা রাণী রায়। অর্ণব চন্দ্র রায় বলেন, ‘পুণ্যস্নানে নিজের পরিবারের জন্য ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছি। এ ছাড়া দেশের মানুষের মঙ্গল কামনা করে প্রার্থনা করেছি।’ সুন্দগঞ্জের বামনডাঙ্গা এলাকা থেকে স্নান করতে আসা দেবাশীষ চন্দ্র বর্মণ বলেন, ‘মায়ের কাছে প্রার্থনা করছি মঙ্গলের জন্য।’ চিলমারী স্নান উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক ও রমনা ইউপি সদস্য কুকিল চন্দ্র জানান, সকাল থেকে সুষ্ঠুভাবেই স্নান শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, নেপাল, ভুটান থেকেও এবার অনেক পূণ্যার্থী স্নান উৎসবে অংশ নিয়েছেন। বাংলাদেশ হিন্দু-বৈদ্য ও খৃষ্টান পরিষদের চিলমারী উপজেলা শাখার সভাপতি কর্ণধর বর্মা জানান,’ উৎসবকে কেন্দ্র্র করে প্রায় অর্ধশত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ভক্তদের মধ্যে খাবার বিতরণসহ নানা সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। পুণ্যার্থীদের জরুরি চিকিৎসায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একাধিক চিকিৎসক দল সার্বক্ষণিক নিয়োজিত আছে।’ এদিকে স্নানোৎসব উপলক্ষে শুরু হয়েছে মেলা। চিলমারীতে এখন বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। চিলমারী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন জানান, স্নান উপলক্ষ্যে ৫ স্তুরের কঠোর নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। এত লোকের একসঙ্গে সমাগমের চাপ সামলানো কঠিন হলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তা নির্বিঘ্নে পালন করে চলেছে।