ঈদের আনন্দ পরিণত হল বিষাদে। ঈদের ছুটি শেষে সেনবাগ থেকে কর্মস্থল ঢাকায় ফেরার পথে ঢাকা কুমিল্লা মহাসড়কের কুমিল্লা কালাকচুয়া এলাকায় মিয়ামী হোটেলের সামনে স্টার লাইন পরিবহনের যাত্রীবাহী বাস চাপায় প্রাইভেটকার চালক ও একই পরিবারের ৪ জন সহ ৫ জন নিহতের হয়েছে। এ ঘটনায় তিন পরিবারে সেনবাগ,লক্ষীপুর ও বরিশালে চলছে শোকের মাতম। নিহতরা হচ্ছে, সেনবাগ উপজেলা ছাতারপাইয়া ইউপির ৪ নং ওয়ার্ড মঙ্গল এলাকার আইয়ুব আলী মাস্টার বাড়ির নিবাসী ঢাকার মোহাম্মদপুর জামিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসার প্রধান মুফতি আবদুল মমিন (৫০) তার স্ত্রী দিল আফরোজ ঝর্ণা (৪০), ছেলে সাইফ (৭), মেয়ে লাবিবা (২১) ও গাড়ি চালক জামাল উদ্দিন(৫৫) বাড়ি বরিশাল সহ ৫ জন। এ ঘটনায় তাদের অপর ছেলে মোঃ আবরার কুমিল্লা আর্মি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) বাদ জুমা লক্ষ্ণীপুর সদর উপজেলার চরশাহী ইউনিয়নের তিতারকান্দি গ্রামের বশাহাজী পাটওয়ারী বাড়ি জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে তাদের জানাযা শেষে তাদের মরদেহ শ্বশুর বাড়ির কবরস্থানে পাশাপাশি চারটি কবরে দাফন করা হয় । এরআগে কবর খোঁড়ার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আর লাশবাহী গাড়িগুলোর বাড়িতে পৌছলে শুরু হয় শোকের মাতম। এসময় দেখা দেয় হৃদয়বিদারক দৃশ্যের । এর আগে, বৃহস্পতিবার ২৬ মার্চ সন্ধ্যায় ঢাকা কুমিল্লা মহাসড়কের মিয়ামী হোটেলের সামনে ওই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আবদুল মমিনের বাড়ি নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার ১ নং ছাতারপাইয়া ইউপির ৪ নং ওয়ার্ডের পল্লী মঙ্গল আইয়ুব আলী মাস্টার বাড়ির মো: ইউনুসের ছেলে। মুফতি আব্দুল মমিন তিন ছেলে এক মেয়ের জনক। তিনি ঢাকার মোহাম্মদপুরে জামিয়া আরাবিয়া মাদরাসায় শিক্ষকতা করতেন। ঈদের ছুটিতে পরিবার নিয়ে গ্রামের বাড়িতে আসেন তিনি। গ্রামে এসে জেলা শহর মাইজদীতে স্ত্রী, ছেলে, মেয়ে নিয়ে শ্বশুরদের বাসার উঠেন। এর মধ্যে ঈদের আগে এবং পরে একা গ্রামের বাড়িতে এসে তিনি ঘুরে যান। গ্রামের বাড়িতে তার কোন ঘর না থাকায় বাড়িতে আসলে ছোট ভাইয়ের ঘরে থাকতেন। বৃহস্পতিবার ঈদের ছুটি কাটিয়ে ছাতারপাইযা থেকে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে প্রাইভেটকার যোগে ঢাকায় ফিরছিলেন। পথিমধ্যে কুমিল্লার মিয়ামী হোটেলে খাওয়া দাওয়া শেষে করে ফের প্রাইভেটকার যোগে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়া মুহূর্তে স্টার লাইন পরিবহনের একটি দ্রুতগামী বাস প্রাইভেটকারটিকে সজোরে ধাক্কা দিলেপ্রাইভেট কারটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই চালক জামাল উদ্দিনের মৃত্যু হয় এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর একই পরিবারের চার সদস্য প্রাণ হারান।
চার ভাই ও তিন বোনের মধ্যে মুফতি মমিন ছিলেন তৃতীয়। নিহত মমিন সেনবাগ উপজেলার ছাতারপাইয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পল্লী মঙ্গল এলাকার আইয়ুব আলী মাস্টারের বাড়ির মৃত ইউনুস মুন্সীর ছেলে। সেনবাগ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো.আবুল বাশার জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ নিহতদের গ্রামের বাড়ি পরিদর্শন করেছে। একসঙ্গে পরিবারের চার সদস্যের মৃত্যুতে দুই জেলায় নেমে এসেছে শোকের মাতম।