চাঁদপুর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের সুবর্ণ জয়ন্তী ও পুনর্মিলনী উৎসব -২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। দি প্রিমিয়াম হোমস লিমিটেড-এর পৃষ্ঠপোষকতায় শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকাল ১০টা থেকে কলেজ প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী বর্ণিল আয়োজনের এ উৎসব অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সকাল থেকেই উৎসবমুখর পরিবেশে সহস্রাধিক শিক্ষার্থী, প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও অতিথিদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে কলেজ ক্যাম্পাস। অনুষ্ঠানের শুরুতে এক বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা কলেজ প্রাঙ্গণ থেকে বের হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় ক্যাম্পাসে এসে শেষ হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক এর প্রতিনিধি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. একেএম সলিম উল্যাহ সেলিম। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএমএন জামিউল হিকমা। কলেজ অধ্যক্ষ মো. হারুনুর রশিদ চৌধুরীর সভাপ্রধানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন প্রতিষ্ঠানের সাবেক অধ্যক্ষ মাহবুবুর রহমান ও একেএম আজাদ, চাঁদপুর জেলা যুবদলের সভাপতি মানিকুর রহমান মানিক, ক্লিন চাঁদপুরের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান অ্যাড. নূরুল আমিন খান আকাশ,সাবেক শিক্ষার্থী এবং গোল্ডেন জুবলি অনুষ্ঠানের উপদেষ্টা ও প্রধান পৃষ্ঠপোষক, দি প্রিমিয়াম হোমস লিমিটেড-এর সিইও মো. মাইনুল হাসান দুলন, দৈনিক চাঁদপুর কন্ঠের বার্তা সম্পাদক এএইচএম আহসান উল্লাহ, প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাড.সলিম উল্যাহ সেলিম বলেন, নতুন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমাদের শিক্ষাক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন ঘটাবেন। কারিগরি শিক্ষাকে আরো যুগোপযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানে আরো কি কি ট্রেড বাড়ানো যায় কলেজ কর্তৃপক্ষ আপনারা আমাদের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিকের সাথে যোগাযোগ রাখবেন। মানিক ভাই এসব বিষয়ে খুবই আন্তরিক। তিনি এই অনুষ্ঠানে আসার কথা ছিল। বিদেশে অবস্থান করায় আসতে পারেননি। তবে শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক চাঁদপুরের মাটি ও মানুষের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছেন। চাঁদপুরের উন্নয়নে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবেন। অ্যাড. সেলিম আরো বলেন, এই প্রতিষ্ঠানের সাথে আমার আত্মার সম্পর্ক। ৫৬ বছর আগে যখন আমি অষ্টম শ্রেণিতে পড়তাম, তখন থেকেই আমার রাজনৈতিক জীবনের সূচনা। তিনি কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, দক্ষতা ও কর্মমুখী শিক্ষাই পারে বেকারত্ব দূর করতে এবং দেশকে উন্নতির শিখরে পৌঁছে দিতে। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের বাংলার পরেও, বিদেশি ভাষাতেও দক্ষতা অর্জন করতে হবে, যাতে তারা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজ করে দেশের জন্য রেমিটেন্স আনতে পারে। বেকারত্বের কারণে যুবসমাজ নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়ছে উল্লেখ করে তিনি কারিগরি শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বারোপ করেন। অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয় সুবর্ণ জয়ন্তীর কর্মসূচির। পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত করেন সহকারী শিক্ষক মো. মাহবুবুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ সুবর্ণ জয়ন্তী বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি এবং সাবেক ভিপি মো.শাহজাহান সাজু এবং পুরো অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাংবাদিক এমআর ইসলাম বাবু। অ্যাড.আলম খান মঞ্জু, একে আজাদ,অনুষ্ঠান সদস্য সচিব মো.হায়াত মাহমুদ পাটোয়ারী, সভাপতি শাহ আলম, আলমগীর পাটোয়ারি,শান্ত খান, সোহেল গাজী, সজল কুমার দে, মাইনুল ইসলাম অভি,রিয়াজউদ্দিন, হোসাইন মোহাম্মদ সোহেলসহ শিক্ষকমন্ডলী, প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থী বৃন্দ এবং অন্যরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামতেই শুরু হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, যা পুরো আয়োজনে নতুন মাত্রা যোগ করে। দেশবরেণ্য ব্র্যান্ড শিল্পী গোষ্ঠী ‘শিরোনাম’-এর পরিবেশনায় দর্শক-শ্রোতারা মুগ্ধ হন। স্মৃতি, ভালোবাসা আর গৌরবময় ইতিহাসের আবহে দিনব্যাপী এ সুবর্ণ জয়ন্তী অনুষ্ঠান যেন পরিণত হয় এক মিলনমেলায়-যেখানে প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা ফিরে পান তাদের প্রিয় ক্যাম্পাসের সোনালি দিনগুলোর স্পর্শ। কলেজের ৫০ বছর পূর্তি বা গোল্ডেন জুবলি অনুষ্ঠানে প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের মিলন মেলা এক আবেগঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করে। কয়েক দশক পেরিয়ে আসা প্রতিষ্ঠানের সাবেক শিক্ষার্থীরা এই আয়োজনে স্মৃতিচারণ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, এবং পুরোনো বন্ধুদের সাথে পুনর্মিলনের মাধ্যমে দিনটি উদযাপন করেন। এটি প্রাক্তন ও বর্তমানদের মধ্যে মেলবন্ধন ঘটিয়ে সামাজিক ও বন্ধুত্বের সম্পর্ক দৃঢ় করে। দীর্ঘ সময় পর ক্যাম্পাসে ফিরে বন্ধুরা পুরনো স্মৃতিতে মেতে উঠেন, শিক্ষকদের সাথে দেখা করেন এবং শৈশব-কৈশোরের দিনগুলো নিয়ে আড্ডা দেন। যা অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত করে তোলে। সালাম বিনিময় ও সংবর্ধনা: প্রাক্তন গুণী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়, যা নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে। স্মরণিকা প্রকাশ:চাঁদপুর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের ৫০ বছরের ইতিহাস, সাফল্যের গল্প এবং সোনালী দিনগুলো নিয়ে একটি বিশেষ স্মরণিকা বা ম্যাগাজিন প্রকাশ করা হয়।যার নাম দেয় হয় সুবর্ণ জয়ন্তী ও পুনর্মিলনী উৎসব ২০২৬। "স্মৃতি সুধা" হৃদয় অম্লান প্রাণের স্পন্দন।
সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা: দিন শেষে জনপ্রিয় ব্যান্ড দল 'শিরোনাম' অংশগ্রহণে জমকালো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। এই ধরনের আয়োজন শুধু আনন্দই দেয় না, বরং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের আত্মিক সম্পর্ক চিরকাল অটুট রাখে। এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গোল্ডেন জুবলি অনুষ্ঠানের উপদেষ্টা ও প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন ২০০৯ সালের এসএসসি ব্যাচ ট্রেড. অটোমোটিভ ও অটোমোবাইল বিভাগের ছাত্র মো. মাইনুল হাসান দুলন।