নতুনধারা বাংলাদেশ এনডিবির চেয়ারম্যান মোমিন মেহেদী বলেছেন, সংবিধান অনুযায়ী বাংলাদেশ বিরোধী স্লোগান দেয়া অপরাধ হলেও স্বাধীনতার পক্ষের স্লোগান দেয়া অপরাধ নয়। অথচ এই স্লোগান দেয়ায় আজ গ্রেফতার-আটক-হামলা-মামলা-মবের ঘটনা ঘটছে। সরকার নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে, যা সত্যিই একটার স্বাধীন দেশে মেনে নেয়া যায় না। মেনে নিতেও পারছি না। শনিবার (২৮ মার্চ) সকালে তোপখানা রোডস্থ বিজয় মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ বিরোধীরা ক্ষমতায় আসতে চায়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি উপরোক্ত কথা বলেন। সভায় প্রেসিডিয়াম মেম্বার বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান শান্তা ফারজানা, যুগ্ম মহাসচিব মনির জামান, ওয়াজেদ রানা, সদস্য হাশেম মোল্লা প্রমুখ। এসময় মোমিন মেহেদী আরো বলেন, জাতির সাথে জুলাইতে প্রতারণা করেছে ছাত্র নামধারী কিছু ছাত্রলীগের নেতাকর্মী। যারা পরবর্তীতে নিজেদেরকে ছাত্র শিবির-ছাত্র শক্তি-ছাত্র অধিকারসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতা পরিচয় দিয়ে আত্মপ্রকাশের পরপরই নতুন দল ঘোষণা করেছে, নিবন্ধন নিয়েছে আবার সেই জোট নিয়ে স্বাধীনতা বিরোধী-যুদ্ধাপরাধীদের রাজনৈতিক দল জামায়াতের সাথে জোটও করেছে। দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্রকারীদের দ্বারা পরিচালিত সেই স্বাধীনতা বিরোধী দলগুলো থেকে ৭৪ জন সংসদে যাওয়ারও ব্যবস্থা করেছে। শুধু কি এখানেই শেষ, সংসদে গিয়ে তারা বলছে- ‘জুলাই যেখানে সেখানে মুক্তিযুদ্ধেও ইতিহাস প্রয়োজন নেই। এমতবস্থায় আমরা দেশ বিরোধী এই দলগুলোর নিবন্ধন যেমন বাতিল চাই, ঠিক তেমনি একাত্তরে ও চব্বিশে সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে খেলবার অপরাধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিও চাই। স্বাধীনতা বিরোধীতার অপরাধে দেশদ্রোহী জামায়াত-এনসিপিসহ ১১ দলীয় জোটের প্রতিটির নিবন্ধন বাতিলের দাবি জানানোর পাশাপাশি আরো বলেন, নির্মমভাবে বাংলাদেশে স্বাধীনতা বিরোধী ও তাদের সমর্থকরা ক্ষমতায় আসার লক্ষ্যে ইউনূসের মত অপরাধী-দেশ বিরোধীর সহায়তায় জুলাই আন্দোলন করেছিলো। কেবলমাত্র ক্ষমতায় আসার লক্ষ্যে যারা মানুষের ক্ষতি করে, থানা পুড়িয়ে, পুলিশ হত্যা করেছে, তারা প্রমাণ করেছে ছাত্র নামধারীদের আড়ালে মূলত স্বাধীনতা বিরোধীরা দেশে শান্তি-সমৃদ্ধি-ভাতৃত্ব নষ্ট করতে একের পর এক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েই যাবে। এসময় নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে স্লোগান দেয়ায় আটদেরকে অনতিবিলম্বে মুক্তি দেয়ার পাশাপাশি স্বাধীনতা বিরোধী বক্তব্য দেয়ার অপরাধে আটক ও গ্রেফতার করুন।