বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল চালুর দাবি ইয়্যাস-এর

প্রেস বিজ্ঞপ্তি | প্রকাশ: ২৮ মার্চ, ২০২৬, ০৭:৫১ পিএম
বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল চালুর দাবি ইয়্যাস-এর

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে আইসিইউ সংকটে গত ১১ দিনে ৩৩টি শিশুর মৃত্যুকে ‘নিছক দুর্ঘটনা নয়, বরং প্রশাসনিক অবহেলা ও কাঠামোগত হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে অভিহিত করেছে উন্নয়ন গবেষণাধর্মী স্বেচ্ছাসেবী যুব সংগঠন ‘ইয়ুথ এ্যাকশন ফর সোস্যাল চেঞ্জ (ইয়্যাস)’। শনিবার (২৮ মার্চ) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনের সভাপতি, লেখক, উন্নয়ন ও অধিকারকর্মী মোঃ শামীউল আলীম শাওন এই তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানান। বিবৃতিতে মোঃ শামীউল আলীম শাওন বলেন, গত ১১ থেকে ২২ মার্চের মধ্যে রামেক হাসপাতালে আইসিইউ বেডের অভাবে ৩৩টি নিষ্পাপ শিশুর প্রাণহানি ঘটেছে। এটি কেবল স্বাস্থ্যখাতের সাধারণ সংকট নয়, বরং চরম প্রশাসনিক ব্যর্থতা। আড়াই বছরের শিশু নুসায়বা মারা যাওয়ার চার দিন পর হাসপাতাল থেকে আইসিইউ বেড খালি হওয়ার ফোন আসা আমাদের রাষ্ট্রব্যবস্থার স্থবিরতার এক নির্মম দলিল।বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, একদিকে যখন শিশুরা মেঝের করিডোরে অক্সিজেনের অভাবে ছটফট করে মারা যাচ্ছে, অন্যদিকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরেই বহরমপুর এলাকায় ৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ২০০ শয্যার আধুনিক ‘রাজশাহী শিশু হাসপাতাল’ ভবনটি ২০২৩ সাল থেকে তালাবদ্ধ পড়ে আছে। সেখানে ৫৬টি অত্যাধুনিক আইসিইউ শয্যার অবকাঠামো ও সেন্ট্রাল অক্সিজেন লাইন প্রস্তুত থাকলেও স্রেফ ‘অর্গানোগ্রাম’ বা জনবল কাঠামো অনুমোদনের দোহাই দিয়ে দীর্ঘ তিন বছর ধরে এটি চালু করা হচ্ছে না। যা সরাসরি সংবিধানের ১৫(ক) ও ১৮(১) অনুচ্ছেদ এবং জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদের (UNCRC) পরিপন্থী।

উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইয়্যাস-এর পক্ষ থেকে তিনটি সুনির্দিষ্ট দাবি জানানো হয়েছে:

১. জরুরি হস্তান্তর: আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এড়িয়ে ভবনটি অবিলম্বে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তর করে তালা খুলে দিতে হবে।

২. প্রেষণে চিকিৎসা শুরু: স্থায়ী নিয়োগের অপেক্ষায় না থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও নার্সদের প্রেষণে (Deputation) এনে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে আইসিইউ ও জরুরি বিভাগ সচল করতে হবে।

৩. জবাবদিহিতা: কেন আধুনিক হাসপাতালটি ফেলে রাখা হলো এবং ৩৩টি শিশুর মৃত্যুর পেছনে দায়ীদের চিহ্নিত করতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে।

বিবৃতিতে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়, শিশুদের জীবনের বিনিময়ে কোনো প্রশাসনিক অজুহাত আর মেনে নেওয়া হবে না। অবিলম্বে বিশেষায়িত এই শিশু হাসপাতাল চালু করা না হলে সাধারণ মানুষ ও সচেতন যুবসমাজকে সাথে নিয়ে কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে ইয়্যাস।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে