তানোরে ডিস ব্যবসায় ভাংচুরের ঘটনায় মামলা প্রতিবাদে মানববন্ধন

এফএনএস (সাইদ হোসেন সাজু; তানোর, রাজশাহী) : | প্রকাশ: ২৯ মার্চ, ২০২৬, ১২:১২ এএম
তানোরে ডিস ব্যবসায় ভাংচুরের ঘটনায় মামলা প্রতিবাদে মানববন্ধন

পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিনে রাজশাহীর তানোর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিজানের ডিস ব্যবসায় ব্যাপক ভাংচুর চালিয়ে সব কিছু বিকল করে দেয় হাসান নামের এক ব্যক্তি। তার বাড়ি কুঠিপাড়া গ্রামে। সে জালালের ভাতিজা।  এঘটনায় ডিস ব্যবসার ম্যানেজার বাদি হয়ে ঈদের পর দিন রাতে তানোর পৌর সদর কুঠিপাড়া গ্রামের জামায়াতপন্থী জালালের নামসহ অজ্ঞাত নামা ব্যক্তিদের নামে থানায় মামলা দায়ের করা হয়। এর আগে পুলিশ বাদি হয়ে হাসানের বিরুদ্ধে অস্ত্র মামলা দায়ের করেন। এরই প্রতিবাদে কুঠিপাড়া গ্রামবাসীসহ তানোরের সর্বস্তরের জনগণের ব্যানারে শনিবার বিকেলের দিকে থানা মোড়ে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।  সমাবেশ বক্তব্য রাখেন জালালের ছোট ভাই সাবেক শিবির নেতা ইসাহাক আলী, হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতা দশ্যনাথ, ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী জামায়াত নেতা এডভোকেট আব্দুল কাদির, তানোর পৌর জামায়াতের সেক্রেটারি জুয়েল। বক্তারা বলেন, মিজানের ডিস ব্যবসা ভাংচুরের জন্য আমরা ব্যথিত দু:খিত। কিন্তু জালালের জনপ্রিয়তায় ঈষার্নিত হয়ে প্রতিহিংসা ভাবে জালালের নামে মামলা করা হয়েছে। আবার ফ্যাসিস্ট কায়দায় অজ্ঞাত নামা ব্যক্তিদের নামে মামলা করা হয়েছে। তাদের আচরণ স্বৈরাচারের মত হয়ে গেছে। জালালের নামে কেন মামলা হল এজন্য পুলিশ কে জবাব দিতে হবে এবং মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। এমন মানববন্ধন ও সমাবেশের খবরে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নানা প্রতিক্রিয়া। স্থানীয়রা জানান, পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিনে জালালের ভাতিজা অস্ত্র নিয়ে ডিস ব্যবসা  ভংচুর করে। ওই দিন সে জালালের নাম বলে। একারনে জালালের নামে মামলা হয়েছে। এটা কোন রাজনৈতিক মামলা বা ঘটনা না। আবার জালাল কোন জামায়াতের পদধারী নেতা না। ভোটের আগে জামায়াতের হয়ে কাজ করেছিলেন। মিজান যদি এটা নিয়ে রাজনীতি করত তাহলে তো অনেক নেতার নামে মামলা দিতে পারত। তিনি তো সেটা করেননি। আর তার ডিস ব্যবসা ভাংচুর করে কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে এটা দিনের আলোর মত পরিস্কার। ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে জামায়াত কেন রাজনীতি শুরু করেছে। তাহলে কি জামায়াত নেতাদের ইন্ধনে মাতালকে দিয়ে ভাংচুর করানো হয়েছে। তারা সমাবেশে না এসে গ্রামবাসীকে দিয়ে সব করাতে পারত। তাহলে কি জামায়াত শান্তিপূর্ণ তানোরকে অশান্ত করতে চাই। এখন তো সেটাই বোঝা যাচ্ছে। আবার জালালের ভাই ইসাহাক মিজানকে হত্যাকারী বলছে। মিজান কাকে হত্যা করেছে। দলীয় কোন্দলে হত্যা হয়েছে। আসলে এসব কিছু না মিজানের জনপ্রিয়তায় তারা ঈষার্নিত হয়ে তাকে দমাতে নানা পরিকল্পনা করছে। কারন মিজানের যে পরিমান জনপ্রিয় তা আছে তাকে শেষ করতে পারলে জামায়াতের একচ্ছত্র আধিপত্য চলবে। আবার স্বাধীনতা দিবসে গীতা পাঠ করা যাবেনা বলে জামায়াতের এমপি ইউএনও কে নির্দেশ দেন। এমন ভিডিও ও নিউজ হয়েছে। সেটাকেও তারা মিথ্যা বলছে। যে সাংবাদিক এনিউজ করেছে তাদেরকে দালাল বলা হচ্ছে। দেশের সবাই দালাল বাটপার আর তারা সঠিক। তারা ছাড়া আর কেউ সঠিক নাই। তারা হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাকে মনোনয়ন দেয় ইসলাম, শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে  শ্রদ্ধা  নিবেদন করেন। হয়তো এসব করে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করবে। আরে ক্ষমতার জন্য যারা শিরক, বেধর্মীদের দিয়ে মঞ্চে বক্তব্য দেয়ায় তারা আবার কিসের ইসলাম প্রতিষ্ঠা করবে। বিগত ১৭ বছরে আ"লীগের বগলের তলায় ছিল। এখন নাকি তারাই সবকিছু। এসব দেশের মানুষ বুঝে গেছে যে তারাই সবচেয়ে বড় ধাপ্পাবাজ রাজনীতি করছে। সুতরাং তাদের থেকে সাবধানে থাকতে হবে। যারা স্বাধীনতা বিরোধী হিসেবে বিশ্বখ্যাত পরিচিত তারা আবার স্বাধীনতা যুদ্ধ বীর শহীদদের শ্রদ্ধা নিবেদন করছে। এর চেয়ে নোংরা রাজনীতি এ আর কি হতে পারে। সুত্র জানায়, ডিস ব্যবসার ম্যানেজার মাসুম মামলা করেছে মামলার তদন্ত হবে। তদন্তে জালালের সংশ্লিষ্টতা না থাকলে তার নাম বাদ যাবে। প্রতিবাদ করার অধিকার সবার আছে। কিন্তু প্রোগামের ব্যানারের আড়ালে রাজনীতি কেন করতে হবে। ডিস ব্যবসা যিনি ভাংচুর করেছিল সেই হাসানকে ধরে স্থানীয় জনতা ধোলাই দেয়। সে হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়া অবস্থায় জামায়াতের কয়েকজন লোক তাঁকে দেখতে যায়। এসব কিসের আলামত। তানোরকে কি বানাতে চায় তারা এমন প্রশ্ন সাধারণ মানুষের মাঝে বিরাজ মান। প্রসঙ্গত, তানোর পৌর সদর গোল্লাপাড়া বাজারস্থ কুঠিপাড়া গ্রামে যাওয়ার রাস্তার দক্ষিণে বরেন্দ্র ক্যাবল ভবন ও বিএনপির দলীয় কার্যালয়। দীর্ঘ দিন ধরে নিজস্ব ওই ভবনে ক্যাবল ব্যবসা করে আসছিলেন সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিজান। পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিনে সকাল সাড়ে নয়টার দিকে নামাজ পড়ে মানুষ যখন খাওয়া দাওয়া, আবার অনেকে নামাজের মাঠেই ছিলেন এসময় হাসান নামের এক ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ডিস ব্যবসা ভাংচুর চালায়। পরে সংবাদ পেয়ে স্থানীয় জনতা পুলিশ তাকে আটক করে। তার আগেই সবকিছু তছনছ করে দেয়ার ঘটনা ঘটে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে