তানোরে জামায়াত নেতাকে মামলায় ফাঁসানোর প্রতিবাদে মানববন্ধন

মো: ইমরান হোসাইন; তানোর, রাজশাহী
| আপডেট: ২৯ মার্চ, ২০২৬, ১২:১৬ এএম | প্রকাশ: ২৯ মার্চ, ২০২৬, ১২:১৫ এএম
তানোরে জামায়াত নেতাকে মামলায় ফাঁসানোর প্রতিবাদে মানববন্ধন
রাজশাহীর তানোরে এক বিএনপি নেতার ডিস ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনায় জামায়াত নেতা মৎস্যব্যবসায়ী হাজী মো. জালাল উদ্দীনকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি শেষে ইউএনও এবং থানার ওসিকে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। শনিবার (২৮ মার্চ) পড়ন্ত বিকেলে তানোর সদরের গোল্লাপাড়া বাজারে মেইন সড়কের পাশে এলাকাবাসীর ব্যানারে ঘণ্টাব্যাপি এ কর্মসূচি পালিত হয়। এতে বিপুল সংখ্যক জনসাধারণ অংশ নেয়। মানববন্ধনে তানোর পৌর জামায়াতের সেক্রেটারী জুয়েল উদ্দিনের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন, রাজশাহী জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সহসভাপতি উদয়মান নেতা এ্যাডভোকেট আব্দুল কাদের, তানোর উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি কাজী আফজাল হাসেন, তানোর উপজেলা শাখার ছাত্রশিবিরে সাবেক সভাপতি ইসাহাক আলী, হিন্দু সম্প্রদায়ের ব্যক্তিত্ব ও সমাজসেবক শ্রী দর্শনাথ হলদার ও কুঠিপাড়া জামে মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা মো. নাইমুল ইসলাম। এতে সভাপতিত্ব করেন তানোর পৌর জামায়াতের আমীর মাওলানা মো. মুখসেদ আলী। এরআগে মানববন্ধন কর্মসূচি কোরআন তেলোয়াতের মাধ্যমে শুরু করেন তানোর উপজেলা শাখার ওলামা বিভাগের সভাপতি মাওলানা মো. আলাউদ্দিন। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন- শনিবার ২১ মার্চ ঈদুল ফিতরের দিন সকাল ১০টার দিকে তানোর কুঠিপাড়াস্থ বরেন্দ্র ক্যাবল টিভি নেটওয়ার্ক ভবনে হামলা ভাংচুর করা হয়। এতে রাজশাহী জেলা বিএনপির অন্যতম সদস্য ও তানোর পৌরসভার সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিজানের প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এঘটনায় জামায়াত নেতৃবৃন্দ সবাই মর্মাহত। তারা দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। কিন্তু রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ও ফাইদা হাসিলের জন্য তানোর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সহসভাপতি মো. জালাল উদ্দীনকে মামলায় জড়িয়ে দ্বিতীয় আসামী করা হয়। জালাল হাজীর বাড়ি ওই ওয়ার্ডের কুঠিপাড়া মহল্লায়। ঘটনার সঙ্গে কোন অবস্থায় জড়িত ছিলেন না জালাল হাজী। এরপরও জালাল হাজীকে জড়িয়ে ঘটনার পরদিন ২২ মার্চ বরেন্দ্র ক্যাবল টিভির ম্যানেজার মাসুম বাদী হয়ে তানোর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় প্রধান আসামী মো. মেহেদী হাসান (৩০)। তার পিতার নাম মো. খাজেম আলী। তিনি জামায়াত নেতা জালাল হাজীর ভাতিজা। বাড়ি কুঠিপাড়া মহল্লায়। পেশায় ক্ষুদ্র মাছ ব্যবসায়ী। কিন্তু কোন এক কারণে হাসান ভারসাম্যহীন বলে মানববন্ধনে দাবী করেন বক্তারা। ওই মামলায় অজ্ঞাতনামা ২৫/৩০ জনকে আসামী করা হয়েছে। এজাহারে ক্ষয়ক্ষতির পরিমান দাবী করা হয় ৫৭ লক্ষ টাকা। স্মারকলিপিতে দাবী করা হয়, জালাল হাজী একজন সফল মৎস্য ব্যবসায়ী এবং কৃষি সংগঠক। এছাড়াও তিনি এলাকার বিশিষ্ট সমাজ সেবক, দানশীল এবং সম্মানিত মানুষ হিসাবে অনেক সুপরিচিত। মূলত রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের উদ্দেশ্যে তাকে মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে। অবিলম্বে সঠিক তদন্তের মাধ্যমে মিথ্যা মামলা থেকে মুক্তির দাবি জানান বক্তারা। 
আপনার জেলার সংবাদ পড়তে