পুলিশের নৌ-যান ঘেরাও করে হান্ডকাপসহ ছিনিয়ে নেওয়া আলোচিত বিএনপি কর্মী বাচ্চু খানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অসংখ্য অপকর্মের মূলহোতা বাচ্চু খান বরিশালের নদীবেষ্টিত মুলাদী উপজেলার চরকালেখান ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ষোলঘর গ্রামের বাসিন্দা আমির হোসেন খানের ছেলে। রবিবার রাতে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে অভিযানে অংশগ্রহণ করা মুলাদী থানার একজন এসআই জানিয়েছেন, শনিবার দুপুরে উপজেলার মৃধারহাট-ভেদুরিয়া খেয়াঘাট এলাকার জয়ন্তী নদী পার হওয়ার প্রাক্কালে পুলিশের নৌযান ঘেরাও করে চাঞ্চল্যকর একটি মামলার আসামি গ্রেপ্তারকৃত বাচ্চু খানকে হ্যান্ডকাপসহ তার সহযোগিরা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। বিষয়টি জেলা পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দায়িত্বে অবহেলা হিসেবে নিয়েছিলেন। এবং তাদের তরফ থেকে পালিয়ে যাওয়া বাচ্চুকে ফের গ্রেপ্তারে একদিন সময় বেঁধে দেয়া হয়। এইসময়ের মধ্যেই মুলাদী থানা পুলিশ শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান চালিয়ে বাচ্চুকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয়ভাবে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মুলাদীর উপজেলার ভেদুরিয়া গ্রামের সালাম মুন্সির বাড়িতে শনিবার সকালে হামলা-ভাঙচুর, লুটপাট করে নারীসহ বিএনপির ১০ জন কর্মীকে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করা হয়। খবর পেয়ে মুলাদী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাচ্চু খানকে গ্রেপ্তার করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, বাচ্চু খানকে নিয়ে পুলিশ জয়ন্ত নদী পার হচ্ছিল, তখন পুলিশের ট্রলারটিকে চারদিক থেকে বাচ্চুর সহযোগিরা নদীর মাঝেই ঘিরে ধরেন। একপর্যায়ে তারা জোরপূর্বক পুলিশের কাছ থেকে বাচ্চুকে হান্ডকাপসহ ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এই ছিনতাইয়ে বিশালাকায় চারটি ট্রলারযোগে শতাধিক লোক অংশ নেয়। মুলাদী থানার ওসি আরাফাত জাহান চৌধুরী জানিয়েছেন, চরকালেখান গ্রামের একটি বাড়ি থেকে বাচ্চু খানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ওসি আরও জানিয়েছেন, সালাম মুন্সির বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর, লুটপাট ও কুপিয়ে জখমের ঘটনায় থানায় বাচ্চু খানসহ ৩৬ জনের নামোল্লেখ করে ৪৫ জনের বিরুদ্ধে সালাম মুন্সির স্ত্রী রাশিদা বেগম বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় রবিবার শেষ কার্যদিবসে গ্রেপ্তারকৃত বাচ্চু খানকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারসহ মাঝনদীতে বাচ্চুকে ছিনতাইয়ের সাথে জড়িতদের শনাক্ত করতে তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।