পটুয়াখালীতে গণমাধ্যমকর্মীদের অংশগ্রহণে প্রযুক্তির সহায়তায় সংঘটিত জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা (টিএফজিবিভি) প্রতিরোধ ও করণীয় বিষয়ক দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (৩০ মার্চ) সকাল ১০টায় পটুয়াখালী প্রেসক্লাবে “ঞবপযহড়ষড়মু ঋধপরষরঃধঃবফ এবহফবৎ-ইধংবফ ঠরড়ষবহপব (ঞঋএইঠ): চৎবাবহঃরড়হ ্ জবংঢ়ড়হংব”উদ্যোগের আওতায় এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা তথ্য অফিসের উপ-পরিচালক অনিমেষ কান্তি হালদার। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পুলিশ কর্মকর্তা মোঃ হাবিবুর রহমান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিএনএনআরসি’র জেলা ফোকাল মাহফুজা ইসলাম। কর্মশালায় ধারণাপত্রের ওপর পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপন করেন বিএনএনআরসি’র প্রকল্প সমন্বয়কারী হীরেন পন্ডিত। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সিনিয়র সাংবাদিক ফিরোজ আলম। প্রধান অতিথির বক্তব্যে অনিমেষ কান্তি হালদার বলেন, বর্তমান ডিজিটাল যুগে তথ্যপ্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহারের পাশাপাশি এর অপব্যবহার রোধে সবাইকে সচেতন হতে হবে। বিশেষ করে নারীদের বিরুদ্ধে প্রযুক্তিনির্ভর সহিংসতা প্রতিরোধে গণমাধ্যমকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি বলেন, গণমাধ্যম সঠিক তথ্য তুলে ধরার মাধ্যমে সমাজে সচেতনতা সৃষ্টি করতে পারে এবং ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার পাওয়ার পথ সুগম করতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি আরও বলেন, প্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে আইনগত সহায়তা ও সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে দ্রুত ডিজিটাল রূপান্তরের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির (আইসিটি) প্রসারের ফলে সরকারি সেবা, অর্থনৈতিক কার্যক্রম ও নাগরিক জীবন অনেক সহজ হয়েছে। তবে প্রযুক্তির এই অগ্রগতির পাশাপাশি এর অপব্যবহারও বাড়ছে, বিশেষ করে নারীদের বিরুদ্ধে অনলাইন ও প্রযুক্তিনির্ভর সহিংসতা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। কর্মশালায় উপস্থাপিত তথ্যে উল্লেখ করা হয়, দেশে ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন ব্যবহারের হার বাড়ার ফলে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে মানুষের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু একই সঙ্গে প্রযুক্তির মাধ্যমে হয়রানি, ব্ল্যাকমেইল, আইডি হ্যাক, ভুয়া পরিচয়ে প্রতারণা ও ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের মতো অপরাধও বাড়ছে। আলোচনায় উঠে আসে, প্রযুক্তির সহায়তায় সংঘটিত জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা (টিএফজিবিভি) এমন এক ধরনের সহিংসতা, যেখানে ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে নারী ও মেয়েদের লক্ষ্য করে ক্ষতিকর কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হয়। এটি কেবল অনলাইন হয়রানির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং মোবাইল ফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি মাধ্যমেও সংঘটিত হতে পারে। বক্তারা আরও বলেন, অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীরা সামাজিক লজ্জা বা নিরাপত্তাহীনতার কারণে এসব ঘটনা প্রকাশ করেন না বা আইনি সহায়তা নেন না। ফলে অপরাধীরা থেকে যায় আড়ালে, যা অনলাইনে নারীর নিরাপদ অংশগ্রহণে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। কর্মশালায় গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়, তারা যেন দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার মাধ্যমে এ ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়াতে ভূমিকা রাখেন এবং ভুক্তভোগীদের পাশে দাঁড়ান। একই সঙ্গে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, প্রযুক্তি খাত, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নাগরিক সমাজের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। দিনব্যাপী এ কর্মশালায় স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন এবং বিভিন্ন সেশন ও আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত ধারণা লাভ করেন।