বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলায় অবৈধ সিগারেট তৈরির একটি অস্থায়ী কারখানায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নকল সিগারেট, সিগারেট তৈরির সরঞ্জাম এবং প্রায় ৬৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের নকল রাজস্ব স্ট্যাম্প উদ্ধার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ভোরে শিবগঞ্জ উপজেলার রাঙ্গামাটিয়া গ্রামে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন নীলফামারী সদর উপজেলার চরচরাবাড়ী দক্ষিণপাড়া গ্রামের সজিব ইসলাম (২০), রাকিব ইসলাম (২২) ও কামরুজ্জামান (২২)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো কোম্পানিতে কর্মরত অসিত কুমার ঘোষ (৬৩) মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে খবর পান যে, শিবগঞ্জ উপজেলার রাঙ্গামাটিয়া গ্রামের প্রবাসী আনোয়ার হোসেনের বসতবাড়ি ভাড়া নিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অস্থায়ী কারখানা গড়ে তুলে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো কোম্পানির নাম ব্যবহার করে নকল ডার্বি ও স্টার ব্র্যান্ডের সিগারেট তৈরি করছে।
এই তথ্যের ভিত্তিতে জেলা গোয়েন্দা শাখার একটি বিশেষ দল ভোর আনুমানিক ৪টা ৩০ মিনিটে ওই কারখানায় অভিযান চালায়। অভিযানকালে ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে আটক করা হয় এবং বিপুল পরিমাণ নকল সিগারেট ও তৈরির উপকরণ জব্দ করা হয়।
জব্দকৃত আলামতের মধ্যে রয়েছে প্রায় ৭৩ হাজার নকল রাজস্ব স্ট্যাম্প, যার আনুমানিক রাজস্ব মূল্য ৬৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এছাড়া নকল ডার্বি ব্র্যান্ডের ৩২০ প্যাকেট সিগারেট (মোট ৩ হাজার ২০০ শলাকা), একটি খাকি রঙের কার্টনে প্যাকেটবিহীন অবস্থায় ১০ হাজার স্টার ব্র্যান্ডের সিগারেট, স্টার সিগারেটের তৈরি খালি প্যাকেট ভর্তি ৮টি সাদা প্লাস্টিকের বস্তা (মোট ৪ হাজার পিস) এবং সিগারেট প্যাকেট মোড়ানোর কাজে ব্যবহৃত আংশিক ব্যবহৃত ২টি পলিথিন রোল উদ্ধার করা হয়েছে।
ডিবি পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা স্বীকার করেছেন যে, তারা দীর্ঘদিন ধরে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে নকল সিগারেট তৈরি করে বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করে আসছিল। এতে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছিল।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫(এ) ধারা এবং ২০০৯ সালের ট্রেডমার্ক আইনের ১৩ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, অবৈধভাবে নকল পণ্য তৈরি ও বাজারজাতের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। এতে একদিকে যেমন সরকারের রাজস্ব সুরক্ষিত হবে, তেমনি বাজারে ভেজাল ও নকল পণ্যের বিস্তারও রোধ করা সম্ভব হবে।