দেশের স্বাস্থ্যসেবায় জনবল সংকট কাটাতে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। জাতীয় সংসদে এ তথ্য জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল।
মঙ্গলবার (০৭ এপ্রিল) সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে এক লিখিত জবাবে তিনি বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এই বড় নিয়োগ কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। “স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন ও নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় জনবল গড়ে তুলতে আমরা কাজ করছি,” বলেন তিনি।
এর আগে বিভিন্ন বিসিএসের মাধ্যমে ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি ৪৮তম বিসিএসের মাধ্যমে ২ হাজার ৯৮৪ জন সহকারী সার্জন এবং ২৭৯ জন ডেন্টাল সার্জন নিয়োগ পেয়েছেন। এছাড়া ৪৪তম ও ২৭তম বিসিএসের মাধ্যমেও চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সব শূন্য পদ পূরণ করা হবে বলেও জানান তিনি।
উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, অনেক জায়গায় এখনও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পদ শূন্য রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে একটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট ১৯৬টি পদের মধ্যে ১৩৮ জন কর্মরত এবং ৫৮টি পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে চিকিৎসকদের ১০টি এবং নার্সদের একটি পদ খালি রয়েছে। নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান আছে এবং তা ধাপে ধাপে সম্পন্ন হবে।
সংসদে করোনা মহামারি মোকাবিলায় সরকারের ব্যয়ের হিসাবও তুলে ধরা হয়। মন্ত্রী জানান, ভ্যাকসিন ক্রয়ে এখন পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ৪ হাজার ৩৯৪ কোটি ৮ লাখ ২৫ হাজার টাকা। ২০২০-২১ অর্থবছর থেকে ভ্যাকসিন ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম কেনার জন্য মোট ৪ হাজার ৬৮৫ কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ ছিল।
এছাড়া সিরিঞ্জ ক্রয়ে ব্যয় হয়েছে ৩০ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। দুর্গম এলাকায় ভ্যাকসিন পৌঁছাতে পরিবহন বাবদ ১৯ কোটি ৫৭ লাখ টাকা এবং শিপিং চার্জ হিসেবে প্রায় ৯৯ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে বলে জানান তিনি। সরকারের এই বিনিয়োগের ফলেই দেশ দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পেরেছে বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী।
ভ্যাকসিন কেনাকাটায় কোনো অনিয়মের অভিযোগ আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এ পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কোনো অভিযোগ এলে তা গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে।”