সংরক্ষিত আসনে সরাকার দলীয় আলোচনায় সিলেটের নারীনেত্রীরা

এফএনএস (নোমান বিন আরমান, সিলেট) : | প্রকাশ: ৮ এপ্রিল, ২০২৬, ০৮:৪৪ পিএম
সংরক্ষিত আসনে সরাকার দলীয় আলোচনায় সিলেটের নারীনেত্রীরা

সিলেট বিভাগে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মনোনয়নকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর তৎপরতা শুরু হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর সরকার গঠন ও শপথ প্রক্রিয়া শেষ করে এখন এই আসনগুলোর দিকে মনোযোগ দিয়েছে বিএনপি। ফলে সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার। এই চার জেলাজুড়ে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা দিন দিন তীব্র হচ্ছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে প্রায় এক ডজন নারী নেত্রীর নাম আলোচনায় থাকলেও শেষ পর্যন্ত কয়েকজনই মূল প্রতিযোগিতায় এগিয়ে আছেন। সম্ভাব্য প্রার্থীরা ইতোমধ্যে নিজেদের রাজনৈতিক জীবন, সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও সামাজিক সম্পৃক্ততার তথ্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দিয়েছেন। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা, তৃণমূলের সমর্থন আদায় এবং বিভিন্ন পর্যায়ে লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।

সাধারণত সিলেট বিভাগের চার জেলা থেকে সংরক্ষিত নারী আসনে দুইজন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং এবারও সেই ধারাবাহিকতা বজায় থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে চার জেলার মধ্যেই প্রতিযোগিতা সীমাবদ্ধ থাকায় বিষয়টি আরও গুরুত্ব পাচ্ছে। সংবিধান অনুযায়ী এসব আসনে সরাসরি ভোট হয় না; সাধারণ আসনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের ভোটে সংরক্ষিত নারী এমপি নির্বাচিত হন। এ কারণে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে বিএনপি জোট এবার প্রায় ৩৬টি সংরক্ষিত আসন পেতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সিলেট বিভাগে আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির স্থানীয় সরকার বিষয়ক সহ-সম্পাদক ও হবিগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক শাম্মী আক্তার। দীর্ঘদিন মাঠপর্যায়ে সক্রিয় থাকা এই নেত্রী কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে সুসম্পর্ক এবং সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। আন্তর্জাতিকভাবে প্রশিক্ষিত আইনজীবী ব্যারিস্টার সামিরা তানজিন চৌধুরীও আলোচনায় আছেন। তিনি প্রয়াত রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীর কন্যা এবং ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের সিনিয়র কোর্টের প্র্যাকটিসিং সলিসিটর। মানবাধিকার, সিভিল লিটিগেশন ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে কাজের অভিজ্ঞতা তার পক্ষে ইতিবাচক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সাবেক ভিপি অধ্যাপিকা সামিয়া বেগম চৌধুরী বর্তমানে কেন্দ্রীয় মহিলা দলের সহ-সভাপতি ও সিলেট জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি পদে আছেন। ২০১৩ সালে ফ্যাসিস্ট সরকারের পুলিশি নির্যাতনের শিকার এই নেত্রী ছাত্রদল থেকে উঠে আসা ও ১৯৯১ সাল থেকে অদ্যাবধি দলীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে আসছেন। দীর্ঘদিন তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠন গড়ে তোলার কারণে গুরুত্ব পাচ্ছেন। মাঠপর্যায়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন এবং ২০১৩ সালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হন। ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে তার বাসায় একাধিকবার অভিযান চালানো হয়। এছাড়া ২০২৪ সালের আন্দোলনেও তিনি সক্রিয় ভূমিকা রাখেন, বিশেষ করে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে তার উপস্থিতি ও বক্তব্য আন্দোলনকারীদের ঐক্যবদ্ধ রাখতে সহায়তা করে। তিনি কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মহিলা উপকমিটির সদস্য হিসেবে নির্বাচনী প্রচারণা ও নারীবিষয়ক কার্যক্রমেও অংশগ্রহণ করেন।

এছাড়া সিলেট মহানগর মহিলা দলের সভাপতি নিগার সুলতানা ডেইজির নামও রয়েছে আলোচনায়। ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে ১৯৯১ সালে সিলেট সরকারি মহিলা কলেজ ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা সিনিয়র সহ-সভানেত্রী হিসেবে নেতৃত্ব দেন। ৯০-এর গণআন্দোলনের মাধ্যমে রাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ শুরু করে তিনি ধারাবাহিকভাবে সংগঠনকে শক্তিশালী করেছেন। তাঁর দায়িত্বকালীন সময়ে মহানগর মহিলা দলে একটি শক্তিশালী ও কার্যকর কমিটি গঠন করা হয়, যা নির্বাচনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি এক মর্মান্তিক ঘটনার সাক্ষী ২০০১ সালের ২৪ জুন তার ছোট ভাই, সাবেক ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি আল আরাফ রাসেল আওয়ামী সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত হন। শিক্ষাগতভাবে তিনি স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী এবং পেশাগত জীবনে হেলেন কেলার ইন্টারন্যাশনাল, ইউএসএইডিসহ বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থায় প্রায় ১৬ বছরের গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। দলীয় কর্মসূচিতে জোরালো ভূমিকার জন্য রাজনৈতিক অঙ্গনে তিনি পরিচিত। উচ্চ শিক্ষিত এই নেত্রী দলীয় কার্যক্রমে সম্পৃক্ত থাকায় নারী নেতৃত্বের প্রতিনিধিত্বে আলোচনায় রয়েছেন। সাবেক সংসদ সদস্য ড. সৈয়দ মকবুল হোসেনের কন্যা সৈয়দা আদিবা হোসেন, করপোরেট ও সামাজিক উদ্যোগে সক্রিয় থাকার পাশাপাশি শিক্ষা খাতে সম্পৃক্ততার কারণে আলোচনায় রয়েছেন। তিনি নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি থেকে এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেছেন এবং তরুণ প্রজন্ম নিয়ে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। সিলেট জেলা মহিলা দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তাহসিন শারমিন তামান্না সাংগঠনিকভাবে সক্রিয়।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে