তেল সংকটে ভেঙে পড়েছে দাকোপের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা

এফএনএস (কে, এম, আজগর হোসেন ছাব্বির: দাকোপ, খুলনা) : | প্রকাশ: ১০ এপ্রিল, ২০২৬, ০৩:৪৬ পিএম
তেল সংকটে ভেঙে পড়েছে দাকোপের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে দেশে সৃষ্ট জ্বালানী সংকটের প্রভাব পড়েছে দাকোপের জনজীবনে। ভেঙে পড়েছে অভ্যান্তরীন সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা, বাঁধাগ্রস্থ হচ্ছে কৃষি উৎপাদন কার্যক্রম। উপজেলায় ডিলার নিয়োগ এবং তেলের ডিপো স্থাপনের দাবী উঠেছে। অনুন্নত উপজেলা দাকোপে অভ্যান্তরীন সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা শতভাগ ভাড়ায় চালিত মোটর সাইকেল নির্ভর। চালনা পৌরসভা অভ্যান্তরে ইঞ্জিন ভ্যান চলাচল করে। কিন্তু উপজেলা সদর থেকে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে যাতায়াতে মোটর সাইকেল ব্যতিত বিকল্প ব্যবস্থা নেই। অন্যদিকে জেলা সদর খুলনা শহরে যাতায়াতে একটি বড় অংশ জনসাধারণ এই ভাড়ায় চালিত মোটর সাইকেলে করে থাকেন। সমগ্র দাকোপে ছোট বড় মিলিয়ে ২০ টি সমিতির অধীনে সহস্রাধীক চালক ভাড়ায় চালিত মটর সাইকেল চালিয়ে তাদের জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। কিন্তু চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারনে দেশে সৃষ্ট জ্বালানী তেল সংকটে ভেঙে পড়েছে দাকোপের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা। চালনা ডাকবাংলা মোটর সাইকেল চালক সমিতির সভাপতি জয় প্রকাশ এবং সাধারণ সম্পাদক আজিম হাওলাদারের সাথে কথা হয়। তারা বলেন তীব্র তেল সংকটে অধিকাংশ চালকরা গাড়ী চালাতে পারছেনা। দাকোপে কোন তেলের ডিপো বা পাইকারী ডিলার না থাকায় চালকদের খুলনা শহর থেকে তেল সংগ্রহ করতে হচ্ছে। তারা বলেন চালকরা সকাল থেকে শহরে গিয়ে তেলের জন্য ডিপোতে দীর্ঘ লাইনে ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করে চাহিদামত তেল পাচ্ছেনা। অনেক সময় সময় লাইনে থেকেও শেষ পর্যন্ত তেল না পেয়ে ফিরে আসতে বাধ্য হচ্ছে। জানা গেছে সংকটের কারনে ভাড়ায় চালিত গাড়ী গুলো অধিক মূল্যে তেল কেনার কারনে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া নিতে বাধ্য হচ্ছে।  অপরদিকে চলমান মৌসুমে তেল সংকটের ব্যাপক প্রভাব পড়েছে উপজেলার কৃষি উৎপাদনে। উপজেলা কৃষি অফিস সুত্র জানায়, এ বছর দাকোপে চাষাবাদ যোগ্য ২০৫৯৭ হেক্টর জমির মধ্যে বোরধান ৫৯৯ হেক্টর, তরমুজ ৬৮০০ হেক্টর, আলু ১৬০ হেক্টর, মিষ্টি আলু ২২ হেক্টর, সরিষা ৫৯ হেক্টর, সূর্যমূখী ৮২ হেক্টর, সব্জি ৯০৫ হেক্টর, মরিচ ৩৭ হেক্টর, বাঙ্গি ৬৫ হেক্টর, পিয়াজ ১৩ হেক্টর, রসুন ১০ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ হচ্ছে। এ সকল চাষাবাদের কাজে ব্যবহ্নত বিভিন্ন ধরনের ইঞ্জিন চালিত গাড়ী এবং সেচ পাম্প পরিচালনায় জ্বালানী হিসাবে তেলের প্রয়োজন হয়। কিন্তু অতিরিক্ত মূল্য এবং চাহিদামত তেল না পাওয়ায় চাষীরা বিপাকে পড়েছে। অধিক মূল্যে তেল কেনায় উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে। স্থানীয় পর্যায়ে সরবরাহ ব্যবস্থা পর্যাপ্ত থাকলে সংকট এতটা তীব্র হতনা বলে চাষীরা মনে করছে। জ্বালানী সংকটের বর্তমান বাস্তবতায় দাকোপবাসী উপজেলায় জ্বালানী ডিপো স্থাপন এবং পাইকারী ডিলার নিয়োগের দাবী তুলেছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে