এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৪ শতাংশে পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে। গত অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ছিল ৩.৫ শতাংশ; অর্থাৎ সামান্য উন্নতির ইঙ্গিত মিলছে। এডিবি মনে করছে, ভোগব্যয় ও বিনিয়োগ ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধার হওয়ায় প্রবৃদ্ধিতে এ উন্নতি দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে সাধারণ নির্বাচনের পর রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কমে আসা এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রম স্বাভাবিক হওয়া এতে সহায়ক হবে। তবে আশার পাশাপাশি সতর্কবার্তাও রয়েছে। এডিবির পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি উচ্চ অবস্থানে থাকবে- প্রায় ৯ শতাংশ। বৈশ্বিক জ্বালানি মূল্য বৃদ্ধি এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্নের কারণে এ চাপ অব্যাহত থাকবে। আগামী অর্থবছরে তা কিছুটা কমে ৮.৫ শতাংশে নামতে পারে, তবে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় এর প্রভাব থেকে যাবে। বহিঃখাতেও চাপ সীমিত নয়। চলতি হিসাবের ঘাটতি জিডিপির প্রায় ০.৫ শতাংশ হতে পারে, যা আগামী অর্থবছরে সামান্য বেড়ে ০.৬ শতাংশে দাঁড়াতে পারে। আমদানি বাড়া এবং বাণিজ্য ঘাটতি সমপ্রসারণের ফলে এ প্রবণতা দেখা দিতে পারে। যদিও প্রবাসী আয়ের প্রবাহ স্বল্পমেয়াদে স্থিতিশীল থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে, বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা দীর্ঘস্থায়ী হলে নতুন চাপ তৈরি হতে পারে। খাতভিত্তিক প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা তুলনামূলক ইতিবাচক। সেবা খাতের পুনরুদ্ধার, রেমিট্যান্স প্রবাহ, সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি এবং ব্যবসা সহজীকরণে সরকারের উদ্যোগ প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করতে পারে। কৃষি খাতও অনুকূল আবহাওয়া ও নীতিগত সহায়তা পেলে উৎপাদন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারে। শিল্প খাতে রপ্তানি বৃদ্ধি, সরবরাহ বাধা কমে আসা এবং অবকাঠামো ও জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির ফলে প্রবৃদ্ধি বাড়তে পারে। তবুও ঝুঁকি অস্বীকার করা যায় না। বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা, শিপিং রুটে বিঘ্ন কিংবা সরবরাহ শৃঙ্খলে সমস্যা হলে মুদ্রাস্ফীতি আরও বাড়তে পারে। জ্বালানি ভর্তুকি বৃদ্ধি বা মূল্য সমন্বয়ে বিলম্ব হলে বাজেট ঘাটতিও বাড়তে পারে। বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা আছে, তবে তা বাস্তবায়ন করতে হলে নীতি-সংস্কার, জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা এবং বেসরকারি খাতের আস্থা পুনরুদ্ধার জরুরি। এডিবির পূর্বাভাস আশার আলো দেখাচ্ছে, কিন্তু সেই আলোকে স্থায়ী করতে হলে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। অর্থনীতি স্থিতিশীল হলে তবেই অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির পথে ফিরে যাওয়া সম্ভব হবে।