সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত স্কুলে পরীক্ষার্থীদের অবস্থান

তানোরে প্রবেশপত্র আটকে টাকা আদায়

এফএনএস (সাইদ হোসেন সাজু; তানোর, রাজশাহী) : | প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল, ২০২৬, ০৮:৩৭ পিএম
তানোরে প্রবেশপত্র আটকে টাকা আদায়

রাজশাহীর তানোরে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র আটকে প্রতি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার (১৯এপ্রিল) বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা টাকা ফেরত ও প্রধান শিক্ষকের অপসারণ দাবি করে স্কুল চত্ত্বরে অবস্থান নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত ও বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে, এসময় কৌশলে প্রধান শিক্ষক সটকে পড়েন। পরে সাবেক সভাপতির আহবানে প্রধান শিক্ষক স্কুলে আসেন। এ সময় স্কুলের অফিস কক্ষে ব্যাপক হট্রগোলের সৃস্টি হয়। সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা যায়, উপজেলার কলমা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এ বছর নিয়মিত মোট ২৩ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করছে। তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ক্লাশের নামে ২হাজার টাকাসহ প্রবেশ পত্রের জন্য আরো  ৪শ' টাকা করে আদায় করছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। টাকা না দিলে তাদের এসএসসি পরীক্ষার প্রবেশপত্র আটকে রাখা হচ্ছে।  পরীক্ষার্থী হাসিবুল ইসলাম বলেন, ফরম পুরুণে ২৭০০ টাকা, স্কুলেই অতিরিক্ত (কোচিং) ক্লাসের জন্য ২০০০ টাকা ও প্রবেশপত্র নিতে ৪০০ টাকা নেয়া হয়েছে। আনোয়ার হোসেন বলেন, ফরম পুরুণে ২৭০০ টাকা ও কোচিং ক্লাসের জন্য ২০০০ টাকা নেয়া হয়েছে।কিন্ত্ত প্রবেশপত্র নিতে আরো ৪০০ টাকা চেয়েছে,না দেয়ায় তাকে প্রবেশপত্র দেয়া হয়নি। মিনহাজুল ইসলাম বলেন, গতকাল রোববার সকালে প্রবেশপত্র আনার জন্য স্কুলে যাই।  আমাদের সহকারী শিক্ষক স্যার এ সময় ৪০০ টাকা দাবি করেন। টাকা না দেওয়ায় আমার প্রবেশপত্র আটকে রাখেন। তিনি আরও বলেন, ৪০০ টাকা না দিলে কাউকে এবার প্রবেশপত্র দেওয়া হবে না। আমার পিতা একজন কৃষক মানুষ। এর আগে অনেক কষ্ট করে ৭ হাজার ৭০০ টাকা দিয়ে ফরম ফিলাপ এবং অতিরিক্ত (কোচিং) ক্লাসের জন্য ২০০০ টাকা দিয়েছেন। এখন ৪০০ টাকা দেওয়ার ক্ষমতা আমাদের নেই। তাই খালি হাতে চলে আসছি। পরীক্ষা দিতে পারবো কি না এটা ভেবে অনেক কষ্ট হচ্ছে। এবিষয়ে রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আ,ন,ম মোফাখখারুল বলেন,প্রবেশপত্র দিতে টাকা নেয়ার কোনো সুযোগ নাই। তিনি বলেন,কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমানিত হলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এবিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জানান, কোথায় কত ফি নিতে হবে তা বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত। বোর্ডের নির্দেশনার বাইরে কোনো ফি নেওয়ার সুযোগ নেই। পরীক্ষার খরচ, কেন্দ্র ফি বোর্ড যা নির্ধারণ করে দেবে এর বাইরে নেওয়ার সুযোগ নেই। এবিষয়ে কলমা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমিরুল ইসলাম বলেন, কোচিং ক্লাসের টাকা অভিভাবকগণের সঙ্গে আলোচনা করে নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, কোচিং ক্লাসের এক হাজার টাকা ও প্রবেশপত্র বাবদ নেয়া টাকা ফেরত দেয়া হয়েছে। এবিষয়ে স্কুলের সাবেক সভাপতি মানিরুল ইসলাম বলেন, স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মিমাংসা করে অতিরিক্ত টাকা ফেরত দেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে