বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে দেশে যে মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে, তা খুবই সীমিত বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, জ্বালানির দাম বাড়লেও যাতে মূল্যস্ফীতি বিভিন্ন খাতে ছড়িয়ে না পড়ে, সে বিষয়ে সরকার সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
সোমবার (২০ এপ্রিল) সকালে সিলেটের সরকারি অগ্রগামী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে হাম ও রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি তুলে ধরেন।
মন্ত্রী বলেন, “বিশ্বের প্রায় সব দেশেই জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে, উন্নত দেশগুলোতেও এর প্রভাব পড়েছে। সেই তুলনায় দেশে জ্বালানির যে মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে, তা খুবই সীমিত।” তিনি আরও যোগ করেন, “জ্বালানির দাম বাড়লেও পণ্যমূল্য খুব বেশি বাড়বে না। তবে আমদানি মূল্য বাড়লে ভোক্তা পর্যায়ে কিছুটা প্রভাব পড়া স্বাভাবিক।”
সরকার মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে জানিয়ে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, কৃষকদের ডিজেলের জন্য ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে এবং অন্যান্য ক্ষেত্রেও সহায়তা অব্যাহত থাকবে। তার ভাষায়, “জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কারণে যাতে বিভিন্ন সেক্টরে মূল্যস্ফীতির প্রভাব না পড়ে, সেজন্য সরকার সচেতন রয়েছে।”
স্বাস্থ্য খাত নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, গত দুই বছরে অনিয়ম ও অবহেলার কারণে এ বছর হাম ও রুবেলার প্রকোপ বেড়েছে। তবে সরকার পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করছে এবং দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনার আশা প্রকাশ করেন।
এদিন সিলেট বিভাগে হাম ও রুবেলা টিকাদান কর্মসূচিও শুরু হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, বিভাগে ১৩ লাখ ৫১ হাজার ৯৬৯ শিশুকে টিকার আওতায় আনা হবে। ইতোমধ্যে এই রোগের উপসর্গ নিয়ে ৬ শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
এর আগে প্রায় শতকোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সিলেট জেলা হাসপাতাল ও শহীদ শামসুদ্দিন আহমেদ হাসপাতাল পরিদর্শন করেন বাণিজ্যমন্ত্রী।