সড়কে প্রাণহানি

নিরাপত্তাহীনতার স্থায়ী সংকট

এফএনএস | প্রকাশ: ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ০৮:১৯ পিএম
নিরাপত্তাহীনতার স্থায়ী সংকট

বাংলাদেশের সড়ক প্রতিদিনই যেন মৃত্যুর মিছিল দেখছে। দুর্ঘটনার সংখ্যা বাড়ছে, প্রাণহানি বাড়ছে, কিন্তু সমাধানের পথ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। মূল কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো বেপরোয়া চালনা এবং যানবাহনের রেষারেষি। চালকদের মধ্যে প্রতিযোগিতা যেন এক অসুস্থ সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে। বাস, ট্রাক কিংবা প্রাইভেট কার- সবাই যেন প্রতিযোগিতায় নেমেছে কে আগে যাবে, কে বেশি যাত্রী তুলবে। এই প্রতিযোগিতার বলি হচ্ছে নিরীহ পথচারী ও যাত্রী। সড়ক দুর্ঘটনার চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, চালকের বেপরোয়া গতি, অবহেলা এবং শৃঙ্খলার অভাবই প্রধান দায়ী। চালকরা অনেক সময় যাত্রীদের জীবনকে উপেক্ষা করে গন্তব্যে পৌঁছাতে তাড়াহুড়ো করেন। ফলে সামান্য ভুলই হয়ে ওঠে প্রাণঘাতী। এ অবস্থায় পথচারী বা যাত্রীদের কোনো দোষ নেই, অথচ তাদের জীবনই ঝুঁকির মুখে পড়ে। অবকাঠামোগত উন্নতি হয়েছে, নতুন সড়ক ও মহাসড়ক তৈরি হয়েছে। কিন্তু সেই সড়কে চলার অভ্যাসে শৃঙ্খলা নেই। আইন আছে, কিন্তু প্রয়োগ দুর্বল। বিখ্যাত বা আলোচিত কেউ দুর্ঘটনায় নিহত হলে কিছুদিন আওয়াজ ওঠে, কিন্তু সাধারণ মানুষের প্রাণহানি যেন গা-সওয়া হয়ে গেছে। এভাবে চলতে থাকলে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। সরকার আসে, সরকার যায়- কিন্তু সড়কের চেহারা বদলায় না। প্রতিটি সরকার প্রতিশ্রুতি দিলেও সড়ক দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায় না। ব্যক্তিসচেতনতা অবশ্যই জরুরি, কিন্তু যখন দুইটি যানবাহন রেষারেষিতে মেতে উঠে, তখন পথচারী বা যাত্রীদের কোনো দোষ থাকে না। তাদের জীবন রক্ষায় কঠোর আইন প্রয়োগ ছাড়া বিকল্প নেই। আমরা মনে করি, সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হলে কয়েকটি পদক্ষেপ জরুরি। প্রথমত, বেপরোয়া চালকদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। শুধু জরিমানা নয়, লাইসেন্স বাতিল ও কারাদণ্ডের মতো কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। দ্বিতীয়ত, যানবাহনের প্রতিযোগিতা বন্ধে প্রযুক্তি ব্যবহার করে নজরদারি বাড়াতে হবে। সিসিটিভি ক্যামেরা, স্পিড মনিটরিং সিস্টেম এবং ট্রাফিক পুলিশের কার্যকর উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। তৃতীয়ত, চালকদের প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্স প্রদানে স্বচ্ছতা আনতে হবে। অদক্ষ চালককে রাস্তায় নামতে দেওয়া যাবে না। একই সঙ্গে যাত্রী ও পথচারীদেরও সচেতন হতে হবে। ফুটপাত ব্যবহার, ট্রাফিক সিগন্যাল মানা এবং নিরাপদ পারাপারের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে দ্রুত ক্ষতিপূরণ ও সহায়তা দেওয়া উচিত, যাতে তারা ন্যূনতম নিরাপত্তা অনুভব করতে পারে। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে আইন আছে, কিন্তু তার কার্যকর প্রয়োগ নেই। এইভাবে চলতে পারে না। প্রতিদিনের প্রাণহানি আমাদের বিবেককে নাড়া দেওয়ার মতো হওয়া উচিত। সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এখন সময়ের দাবি, নইলে উন্নয়নের পথ রক্তাক্তই থেকে যাবে।