ফেনীর ফুলগাজীতে মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পটি দীর্ঘ আট বছরেও সম্পন্ন না হওয়া কেবল একটি অবকাঠামোগত বিলম্বের ঘটনা নয়; এটি আমাদের উন্নয়ন ব্যবস্থাপনার দীর্ঘসূত্রতা, সমন্বয়হীনতা এবং জবাবদিহির ঘাটতির প্রতিফলন। ধর্মীয় ও সামাজিক গুরুত্বসম্পন্ন একটি প্রকল্প হওয়া সত্ত্বেও এর কাজ বারবার থমকে যাওয়া এবং সময়মতো শেষ না হওয়া স্থানীয় জনগণের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই হতাশা ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। পত্রিকায় পাওয়া তথ্য অনুযায়, ২০১৯ সালে প্রায় ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটির কাজ শুরু হলেও অজানা কারণে প্রাথমিক পর্যায়েই তা বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে দরপত্র বাতিল, ঠিকাদার পরিবর্তন এবং নতুন করে ব্যয় বৃদ্ধি-সব মিলিয়ে প্রকল্পটি একাধিক প্রশাসনিক জটিলতার মধ্যে পড়ে। ২০২৪ সালে পুনরায় কার্যাদেশ দেওয়া এবং ২০২৫ সালের শুরুতে কাজ শুরু হলেও নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পরও প্রকল্পটি অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। বর্তমান অগ্রগতি প্রায় ৭৫ শতাংশ হলেও বাকি গুরুত্বপূর্ণ কাজ-যেমন ফিনিশিং, টাইলস, প্লাস্টার এবং সংযোগ সড়ক নির্মাণ-এখনো শেষ হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতে, আরও কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, একটি তুলনামূলকভাবে ছোট পরিসরের প্রকল্প কেন এত দীর্ঘ সময় ধরে ঝুলে থাকবে? এ ধরনের বিলম্ব কেবল ব্যয় বৃদ্ধি করে না, বরং জনগণের আস্থাকেও ক্ষুণ্ন করে। প্রকৌশলীদের পক্ষ থেকে জ্বালানি সংকটসহ নানা কারণ দেখানো হলেও বাস্তবতা হলো, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সঠিক পরিকল্পনা, সময়ানুবর্তিতা এবং কার্যকর তদারকি নিশ্চিত না হলে এমন বিলম্ব অবশ্যম্ভাবী হয়ে ওঠে। বিশেষ করে একাধিকবার ঠিকাদার পরিবর্তনের ঘটনাটি প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতার ইঙ্গিত দেয়। এখানে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো-এই প্রকল্পটি শুধু একটি মসজিদ নয়, বরং একটি ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবেও পরিকল্পিত। ফলে এটি ধর্মীয় অনুশীলনের পাশাপাশি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের একটি কেন্দ্রবিন্দু হওয়ার কথা ছিল। দীর্ঘ বিলম্বের কারণে স্থানীয় জনগণ সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ অবস্থায় প্রয়োজন দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ। প্রকল্পটির অবশিষ্ট কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে কঠোর তদারকি জোরদার করতে হবে। একই সঙ্গে অতীতের বিলম্বের কারণগুলো খতিয়ে দেখে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা জরুরি। উন্নয়ন কেবল প্রকল্প গ্রহণে নয়, বরং তা সময়মতো ও সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের মধ্যেই সার্থকতা পায়। ফুলগাজীর এই প্রকল্পটি সেই বাস্তবতার একটি স্পষ্ট উদাহরণ হয়ে উঠেছে-যেখান থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতের জন্য আরও দায়িত্বশীল ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।