নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী, নবদিগন্তের সূচনা

এফএনএস প্রতিবেদক:
| আপডেট: ২ মে, ২০২৬, ০৮:০৪ পিএম | প্রকাশ: ২ মে, ২০২৬, ০৬:১২ পিএম
নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী, নবদিগন্তের সূচনা

কানায় কানায় পূর্ণ গ্যালারি, মাঠে খুদে ক্রীড়াবিদদের চমকপ্রদ ক্রীড়া প্রদর্শনী; নিরাপত্তা বাহিনীর সতর্ক পাহাড়া আর সংবাদকর্মীদের অবিরাম ব্যস্ততা। সব আয়োজন এক উপলক্ষ্য ঘিরে-নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা। আজ বিকেল ৫টা ৮ মিনিটে সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে উপস্থিত হয়ে ক্রীড়াঙ্গনের প্রতিভা অন্বেষণের এই প্রতিযোগিতার শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে সারা দেশের জেলা স্টেডিয়ামগুলোতেও ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন খুদে ক্রীড়াবিদরা।

শিশু-কিশোরদের প্রতিভা অন্বেষণে ১৯৭৬ সালে যাত্রা শুরু হয়েছিল নতুন কুঁড়ির। বাংলাদেশ টেলিভিশনের আশির দশকের জনপ্রিয় এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে অনেক প্রতিভা উঠে এসে শিল্প অঙ্গনে। বহু বছর পর সেই পরিচিত নাম আবার ফিরে এসেছে, তবে এবার মঞ্চ নয়, সবুজ মাঠ-গালিচায়। যাত্রা শুরু হলো নতুন এক স্বপ্ন- ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’এর।

আগামী দিনের তারকাদের উৎসাহ জানাতে ঢাকা থেকে ছুটে এসেছেন বিভিন্ন বিভাগের দেশসেরা ৩২ জন খেলোয়াড়। একেকজন একেক খেলার প্রতিনিধি-কেউ খেলেন ক্রিকেট, কেউবা ফুটবল কিংবা কাবাডি। আজ সবাই এক প্ল্যাটফর্মে। আগামীর তারকা খুঁজে বের করতে সরকারের নেওয়া উদ্যোগ নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের ‘ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর’ হয়ে এসেছেন তারা।

সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে দলীয় ইশতেহারে রাষ্ট্র ক্ষমতা পরিচালনার সুযোগ পেলে দেশে ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকার। সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পর্ব আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে বলে মনে করছেন সরকার সংশ্লিষ্টরা। 

এরই মধ্যে দেশসেরা খেলোয়াড়দের মাঝে ক্রীড়া কার্ড প্রদান করা হয়েছে এবং এ প্রক্রিয়া আরও সম্প্রসারিত হচ্ছে। এর মাধ্যমে আর্থিক সহযোগিতা পাচ্ছেন অ্যাথলেটরা।

গণমাধ্যমকে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক আজ সিলেটে যেমনটা বলছিলেন, নির্বাচনের আগেই ইশতেহারে প্রধানমন্ত্রী স্পোর্টসকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন। দেশ গড়ার পরিকল্পনার অন্যতম অংশ ছিল স্পোর্টস। ইশতেহার বাস্তবায়নে আমরা কাজ করছি। সরকার ইতিমধ্যে ক্রীড়া কার্ড ও ক্রীড়াভাতা চালু করেছে।

উদ্বোধনী ভেন্যু হিসেবে ঢাকার পরিবর্তে সিলেটকে বেছে নেওয়ার পেছনে রয়েছে খোদ প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনা। এ প্রসঙ্গে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ঢাকা থেকে আমরা নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস শুরু করব কি না এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে বলেছিলাম। উনি বললেন, ‘আমাকে ঢাকায় রাইখো না। ঢাকার বাহিরে নিয়ে যাও। সবসময় ঢাকা থেকে শুরু করা হয়। আমি চাই এটা ঢাকার বাহিরে থেকে শুরু হোক।’ তারই পরিকল্পনা অনুযায়ী আমরা সিলেট থেকে শুরু করছি।”

উল্লেখ্য, ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুদের নিয়ে মোট ৮টি জনপ্রিয় ইভেন্টে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। খেলাগুলো প্রথমে শুরু হবে উপজেলা পর্যায়ে। সেখান থেকে বিজয়ীরা জেলা ও বিভাগীয় পর্যায় হয়ে সবশেষে জাতীয় পর্যায়ে অংশ নেবে। ১৩-২২শে মে’র মধ্যে শেষ হবে আঞ্চলিক পর্বের খেলা।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে