দুই যুগ আগের অর্থ আত্মসাতের মামলায় সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা তোফায়েল আহমেদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। একই মামলায় আরও এক আসামির বিরুদ্ধেও পরোয়ানা রয়েছে। পলাতক থাকায় ঢাকা বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালত গত শনিবার (১৯ এপ্রিল) এ আদেশ দেন। মঙ্গলবার (৫ মে) মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানিতে বিষয়টি সামনে আসে।
মামলাটি ২০০২ সালে দায়ের করা হয়। অভিযোগ, ক্ষমতার অপব্যবহার করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা অবৈধভাবে স্থানান্তর ও উত্তোলন করা হয়। তৎকালীন দুর্নীতি দমন ব্যুরোর পরিদর্শক কাজী শামসুল ইসলাম এ মামলা করেন। তদন্ত শেষে তোফায়েল আহমেদসহ তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা পড়ে। দীর্ঘদিন উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশে মামলার কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও তা প্রত্যাহারের পর আবার বিচার শুরু হয়।
মামলার এজাহারে বলা হয়, ম্যাডোনা অ্যাডভারটাইজিং লিমিটেডের কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনোয়ারুল ইসলাম এবং ভোলার মোশাররফ হোসেনের সঙ্গে যোগসাজশে সোনালী ব্যাংকের মতিঝিল কর্পোরেট শাখা থেকে বিভিন্ন সময়ে অর্থ স্থানান্তর করা হয়। পরে সেই অর্থ উত্তোলন করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তিন আসামির মধ্যে একজন জামিনে আদালতে উপস্থিত হলেও অন্য দুজন পলাতক রয়েছেন।
শুনানির দিন আদালতে তোফায়েল আহমেদের পক্ষে তার আইনজীবী খায়ের উদ্দিন শিকদার অসুস্থতার বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “তোফায়েল আহমেদ কাউকে চিনতে পারেন না। তার স্মৃতি শক্তি নেই। আদালতে উপস্থিত হয়ে মামলার কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে শারীরিকভাবে অক্ষম।” তিনি আরও জানান, দীর্ঘদিন ধরে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং তার মানসিক অবস্থার পরীক্ষা প্রয়োজন।
তবে আদালত এ আবেদন গ্রহণ করেননি। আদালতের বেঞ্চ সহকারী আরিফুল ইসলাম জানান, আসামি পলাতক থাকাবস্থায় এমন আবেদন গ্রহণযোগ্য নয় বলে দুদকের পক্ষ থেকে আপত্তি জানানো হয়। বিচারক আবেদন নামঞ্জুর করে বৃহস্পতিবার (৭ মে) অভিযোগ গঠনের পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেন।
তোফায়েল আহমেদ দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। ষাটের দশকের ছাত্র আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান এবং মুক্তিযুদ্ধে তিনি সক্রিয় ছিলেন। স্বাধীনতার পর তিনি একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং বিভিন্ন সময় মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। তবে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় তিনি কয়েক বছর ধরে অসুস্থ, এমনকি চলাফেরায়ও সীমাবদ্ধতা রয়েছে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।